একটি অঘোষিত সেমিফাইনালঃ বাঁচা মরার লড়াইয়ে বাংলাদেশ

মাহমুদুল্লাহ বাংলাদেশ দলকে টিটুয়েন্টি ক্রিকেটে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে তৈরি করতে চেয়েছে। আবার সেই শ্রীলংকার বিপক্ষে আজ শুক্রবার কলম্বোতে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।নিজেদের ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে অবশ্যই তাদের এই ম্যাচে জিততে হবে। জিতা ভিন্ন অন্য কোন কিছু মাথায় আনা যাবে না।

Bangladesh cricket match vs srilanka
Source: Cricbuzz

উভয় দলের জন্য এই ম্যাচ বাঁচা-মরার লড়াই। কারণ সমীকরণ এমনই হয়ে দাঁড়িয়েছে যে যেই দল জিতবে তারাই এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলবে। নিঃসন্দেহে এটি একটি অলিখিত সেমি ফাইনাল।

বাংলাদেশ এই নিদহাস ট্রফি টুর্নামেন্টে অনেক ভালো খেলেছে।যদিও প্রথম ম্যাচ অতোটা সুখকর ছিল না। বাংলাদেশ শ্রীলংকার বিপক্ষে ২১৫ রান তাড়া করতে নেমে জিতে যায়। এটা তাদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা।

বাঘের গর্জন
বাঘের গর্জন Source: Cricbuzz

বাংলাদেশের তাদের বোলিং বিভাগ নিয়ে চিন্তিত হওয়া উচিত। এই টুর্নেমেন্টে তাস্কিন-রুবেলদের আমরা ইয়োর্কার বল ছুড়তে দেখি নি বললেই চলে। সুতরাং এই বিভাগ বাংলাদেশকে প্রতি ম্যাচে পিছনে ফেলে দিচ্ছে।

এমন বলা হয়ে থাকে যে বাংলাদেশ একটি স্পিন নির্ভর দেশ। কিন্তু এই টুর্নামেন্টে স্পিনারদের থেকে উল্লেখযোগ্য দেখার মত কিছুই ছিল না।

Source: Shakib’s Facebook

ভাল খবর এই যে সাকিব আল হাসান আবার দলে ফিরেছেন। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি আঙুলের চোটে ভুগছিলেন। সেই জন্য আমরা তাকে এই টুর্নেমেন্টের বাংলাদেশের হয়ে প্রথম তিন ম্যাচে দেখতে পাই নি।যদি সব কিছু ঠিক থাকে এবং ম্যানেজমেন্ট তাকে সুস্থ ভাবে তাহলে হয়তো আমরা তাকে আজকের ম্যাচে দেখব।

সাকিব বাংলাদেশ দলের একজন নিবিড় সৈনিক। তার ভক্তরা তাকে আজকের ম্যাচে অবশ্যই দেখতে চাবে।শত হলেও তিনি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে সাকিব খেললে দল থেকে কে বাদ যাবে। যৌক্তিকভাবে মিরাজের পরইবর্তে আমরা সাকিবকে দেখতে পারি। কারণ মিরাজ দলে একজন বোলার হয়ে খেলছিল। এই সিদ্ধান্ত এখনো হয় নি। এর জন্য আমাদের আজকের ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগবে।

আজকের ম্যাচ জিতার জন্য বাংলাদেশ দলকে অনেক বাঁধা পার হতে হবে। তন্মদ্ধ্যে হাথুরেসিংহে অন্যতম যেহেতু তিনি বাংলাদেশ দলের সাবেক হেড কোচ ছিলেন। কিন্তু খেলোয়াড়দের ই নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কোন কারণ নেই। বাংলাদেশ দল আগের ম্যাচে প্রমাণ করেছে যে হাথুরুসিংহে মাঠে খেলেন না। সে ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতা সম্পর্কে জানতে পারেন কিন্তু মাঠে গিয়ে একটি দলগত কাজ সেই নির্বাচিত সেরা ১১ জনই করে।

লিটন এবং সাব্বিরকে সেরা একাদশে রাখা সবসময়ই প্রশ্নবিদ্ধ। লিটন শ্রীলংকার বিপক্ষে ২১৫ রান তাড়া করতে নেমে একটি গুরুত্তপূর্ণ ম্যাচ খেলেন। তিনি ওই ম্যাচে ১৯ বলে ৪৩ রান সংগ্রহ করেন। কিন্তু শেষ ম্যাচে তিনি যেভাবে আউট হলেন তা মোটেও কাম্য নয়।আমরা সেই একই শট মুশফিককে ডাউন দ্যা উইকেটে না এসে জায়গায় দাঁড়িয়ে চার মারতে দেখেছি। একই যুক্তি সাব্বিরের জন্যও। তাদের দুই জনকেই আরো পরিণত হতে হবে এবং দায়িত্ত নিয়ে খেলতে হবে।

Source: Cricbuzz

বাংলাদেশ দল মুশফিক, তামিম বা মাহমুদুল্লার উপর নির্ভর হতে পারে না। তারা দলের সিনিয়র খেলোয়াড় এবং তাদের ভালো খেলাটাই দায়িত্ত।কিন্তু প্রত্যেক খেলোয়াড়ের সকল দিন সমান যায় না।

বাংলাদেশি দর্শক কিছু টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার সাক্ষী হয়েছে কিন্তু ফাইনাল জিতার স্বাদ আর সেভাবে নেওয়া হয় নি। যদি বাংলাদেশ দল ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং এই তিন বিভাগেই অসাধারণ ক্রীড়াকৌশল প্রদর্শন করতে পারে তাহলে তাদের পক্ষে ফাইনাল জিতা সম্ভব। কিন্তু তার আগে এই অলিখিত সেমি ফাইনাল জিততে হবে।

, , , , , , , , , , ,