সংবাদ সম্মেলন যা বললেন ‘ সংসদ সদস্য ‘ পদপ্রার্থী মাশরাফি বিন মুর্তজা

হ্যাঁ, আসলে আজকের সংবাদ সম্মেলন টা ছিল ‘ সংসদ সদস্য ‘ মাশরাফি বিন মর্তুজার। কারন, বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর ওয়ানডে সিরিজিটা শুরু হবে আগামী ৯ ডিসেম্বর, আর সেই সিরিজের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন হবে ৮ ডিসেম্বর। আর তাই মাঠের খেলা শুরুর আগে যেন সদ্য শুরু হওয়া রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নিয়ে আর কোন প্রশ্নের উত্তর না দিতে হয়, সে জন্যেই আজকের এই আয়োজন।

সংবাদ সম্মেলন যা বললেন ' সংসদ সদস্য ' পদপ্রার্থী মাশরাফি বিন মুর্তজা
Image Source: Jugantor

মাশরাফি সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন মিরপুরের অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুমে। ক্রিকেট মাঠের পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে অনেকবার সাংবাদিক দের মুখোমুখি হয়েছেন অদম্য মাশরাফি, কিন্তু এই রকম অভিজ্ঞতা তাঁর জন্যে একেবারেই নতুন। তবুও তিনি চেষ্টা করেছেন অপ্রিয় অনেক প্রশ্নের যথাযথ  উত্তর দিতে।

মাশরাফির সক্রিয় রাজনীতিতে আসা নিয়ে জন মানুষের মনে বরাবরই প্রশ্ন ছিল। কেন সবার ভালবাসায় সিক্ত মাশরাফি কেন সেই ভালবাসাকে বিভক্ত করে রাজনীতিতে এলেন? সেই ব্যাখ্যা তিনি নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও দিয়েছিলেন

এখানেও দিলেন আরো একবার  ‘আমার ক্যারিয়ার অবশ্যই শেষের দিকে। না আমি শচীন টেন্ডুলকার, না আমি গ্লেন ম্যাকগ্রা যে মানুষ আমাকে স্মরণ করবে। আমার মতো করেই ক্রিকেট খেলেছি। আমার মতো করেই সংগ্রামমুখর ক্যারিয়ারটা গড়েছি। মানুষের জন্য কিছু করা সব সময়ই উপভোগ করেছি। এটা আমার ছোটবেলার শখ ছিল বলতে পারেন। ছোটবেলার চাওয়া-পাওয়া ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে সুযোগটা দিয়েছেন। যদি বৃহৎ পরিসরে কিছু করা যায়, এ ভাবনাতেই রাজনীতিতে আসা।’

সামনের জুন মাসেই বিশ্বকাপ অভিযান, এর আগে দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাঁর শেষ ওয়ানডে সিরিজ আর ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফর। এই মুহুর্তে তাঁর রাজনীতি কি দেশের ক্রিকেটকে ক্ষতিগ্রস্ত কিরবে কিনা  এমন প্রশ্নের জবাবে ম্যাশ বলেন, ” আমার দিক থেকে একদমই না। আমার মানসিক দিক দিয়ে একদমই না। কারণ আমি ওইখানে (নির্বাচনী এলাকা) এখনো একদমই জড়িত না। পুরোপুরি অনুশীলনে মন আছে। আমি ওখানে মনোযোগ দেব ১৪ ডিসেম্বরের পর (সিরিজ শেষে)। যতটুকু করার ১৪ তারিখের পরে গিয়েই করব। তত দিন পর্যন্ত আমার পুরো মনোযোগ থাকবে খেলায়।” 

পরে তিনি আরো যোগ করেন, ” আমার কাছে এই নির্বাচনে আসার আগে যা ছিল, প্রত্যেকটা সিরিজ যেমন ছিল, এই সিরিজটাও একই রকম। আমার শেষ আর শুরুতে কিছু যায়–আসবে না। এভাবে আমি ভাবিনি কোনো দিন, ভাবিও না। অবশ্যই সিরিজটা জিততে চাই আমরা। আর দশটা সিরিজ যেভাবে দেখতে চেয়েছি, এটাও সেভাবেই দেখছি।” 

সরকারি চাকরির কোটা সংস্কার আর নিরাপদ সড়ক এর দাবিতে করা আন্দোলনের সময় কেন নিরব ছিলেন? এমন অপ্রিয় প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,  ‘এত গভীর রাজনীতি আমি কখনো করিনি, জানি না, বুঝিও না। আমার উদ্দেশ্য খুব সাধারণ, আমি মানুষের জন্য কিছু করে শান্তি পাই। আপনি যদি আমাকে একেবারেই গভীর রাজনীতিবিদ ভাবেন, সে পর্যায়ে এখনো যাইনি। আমাকে ও পর্যায়ের ভাবলে আমার সঙ্গে অবিচার হবে। আমার অভিজ্ঞতা একেবারে নতুন। হ্যাঁ, যেটা বলেছি অবশ্যই ভালো কাজ করতে চাই। সেটা সামনে হয়তো দেখা যাবে কতটা করতে পারি।’

সংবাদ সম্মেলন যা বললেন ' সংসদ সদস্য ' পদপ্রার্থী মাশরাফি বিন মুর্তজা
Image Source: Jagonews24

বাংলদেশের তরুণ সমাজের কাছে তাঁর রাজনৈতিক দর্শন কি হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেখেন, আমি স্বপ্ন দেখাতে আসিনি। গতানুগতিক কথা আমি বলতেও চাই না। এমন কোনো কথা আমি বলতে চাই না, যেটা হয়তো বা কাল আপনি মেলাতে পারবেন না। আমার কাছে মনে হয় যে সেই সুযোগটা আমার আছে।” 

” আর এখনই চিন্তা করার সুযোগ নেই যে নির্বাচিত হয়ে গেছি। নির্বাচিত হওয়ার পরে সেই সুযোগটা যদি আসে, আপনাদের যদি মনে হয় আমি কী করতে চেয়েছি আর কী করলাম, তখন কাজগুলো পর্যালোচনা করবেন, তখন প্রশ্ন করবেন। এখন আসলে বলা কঠিন।’

আর প্রার্থী হিসেবে কেন মানুষ তাঁকে ভোট দেবে, আর প্রতিপক্ষের চেয়ে তিনি কেন ভাল? এই প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি বলেন ‘আমি তো একবারের জন্যও বলি নাই আমি উনার (নির্বাচনে প্রতিপক্ষ) থেকে ভালো।’ 

তিনি আরো বলেন ‘দেখেন, ভোট তো সবার একটা একটা করে, আরেকজনের ভোটও একটা, আমার ভোটও একটা। যিনি ভোটটা দেবেন, তাঁর কাছে যদি আমার গ্রহণযোগ্যতা থাকে তবেই তিনি আমাকে ভোটটা দেবেন। আমার যতটুকু করণীয় থাকবে, অবশ্যই আমি ততটুকুই করব, বাদবাকিটা তাঁদের ব্যাপার, তাঁরা আমাকে ভোট দেবেন নাকি দেবেন না।

এছাড়াও ‘ সংসদ সদস্য ‘ পদপ্রার্থী মাশরাফি তাঁর নতুন রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নিয়ে আরো অনেক প্রশ্নের উত্তর দেন। তবে এরপরও কি তাঁকে তাঁর দ্বৈত ভুমিকা নিয়ে নতুন কোন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে না সেটা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল।

, , , , , , , , , ,