শেষ বলে সমান সমান স্কোরে ড্র হওয়া টেস্ট ম্যাচের গল্প

টেস্ট ক্রিকেটের আরো একটি রোমাঞ্চকর ও আকর্ষণীয় ঘটনা নিয়ে এই পর্বে আমরা আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আজ আমরা আপনাদেরকে দুটি ড্র করা টেস্ট ম্যাচের। এই ভেবে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই যে আমরা কোন বিরক্তিকর ড্র টেস্ট ম্যাচ নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি। প্রকৃতপক্ষে, আমাদের আলোচ্য সেই টেস্ট দুটোতে যথেষ্ট মজাদার উপাদান বিদ্যমান রয়েছে।

আচ্ছা, আপনাদের আর অপেক্ষা না করিয়ে আসুন সরাসরি আসল ঘটনায় প্রবেশ করি।

প্রথম সমান সমান স্কোরে ড্র টেস্ট ম্যাচ

শেষ বলে সমান সমান স্কোরে ড্র হওয়া টেস্ট ম্যাচের গল্প
Source: ESPNcricinfo

জিম্বাবুয়ে বনাম ইংল্যান্ড, বুলায়েও, ১৯৯৬

টস-জিম্বাবুয়ে

জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংস ৩৭৬ অলআউট (১৩৭. ওভার)

এ. ফ্লাওয়ার ১১২ ক্রিস সিলভারউড ৩/৬৩

ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস ৪০৬ অলআউট (১৫১. ওভার)

নাসির হুসাইন ১১৩ পল স্ট্রাং ৫/১২৩

জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংস ২৩৪ অলআউট (১০১ ওভার)

গায় উইটাল ৫৬ ফিল টাফনিল ৪/৬১

ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস ২০৪/ (৩৭ ওভার)

নিক নাইট ৯৬ পল স্ট্রাং ২/৬৩

ম্যাচের শেষ দিনে ইংল্যান্ড সর্বোচ্চ ৩৭ ওভার বাকি থাকতে ২০৪ রানের লক্ষ্য সামনে পায়। আর শেষ ওভারে ম্যাচ বাচানোর জন্যে হিথ স্ট্রিকের হাতে ১৩ রান, যা তখনকার দিনে ডিফেন্ড করার জন্যেঅনেক বড় কিছুই ছিল, এমনকি ওয়ানডেতেও।

এই ছিল সেই শেষ ওভার ছবি

বল নিক নাইটের নাগালের বাইরে লেগ স্ট্যাম্পের অনেক দূরে বল করেন স্ট্রিক আর সেই সাথে দলের জন্যে মহা গুরুত্বপূর্ন ডট বলও অর্জন করেন।

২য় বল নাইট লং অন অঞ্চলে বল পাঠিয়ে অনেক কষ্টে ২ রান নিতে সক্ষম হন।

য় বল স্ট্রিকের করা লেগ সাইডিস লেন্থ বলে মিড-উইকেট অঞ্চলের উপর দিয়ে বিশাল এক ছক্কা হাঁকান নাইট যখন তার দলের ৪ বল থেকে ১১ রানের প্রয়োজন ছিল।

র্থ বল- অফ-স্টাম অনেক বাইরে বলটি করেন স্ট্রিক যা ছিল ব্যাটসম্যান নাইটের নাগালের অনেক বাইরে। যদিও বিতর্কিতভাবে সেটা ঘোষনা করা হয় না।

বল নাইট বলটি সজোরে লং অফে হাঁকিয়ে ২ রান নিতে সক্ষম হন।

শেষ বল- শেষ বল থেকে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ৩ রান। অফ স্ট্যাম্পের বেশ বাইরে ইয়র্কার করতে চেষ্টা করেন স্ট্রিক, কিন্তু বলটি হয়ে যায় লো ফুলটস। আবারো সজোরে ব্যাট হাঁকান নাইট বল যায় ডিপ কাভার অঞ্চলে। আর সেখান থেকে গ্রান্ট ফ্লাওয়ারের থ্রো যখন উইকেট কিপারের হাতে এসে পৌঁছায় ততক্ষনে ইংলিশ জুগল দুই রান শেষ করে তৃতীয় রানের জন্যে আপ্রান ভাবে ছুটছে। কিন্তু সেই পূর্ন করা ছিল আসলেই অসম্ভব। ড্যারেন গফের রান আউটের সাথে সাথেই দুই দলের স্কোরই সমান সমান অবস্থাতেই ড্র হিসেবে ম্যাচের সমাপ্তি ঘটে। আর সেটাই ছিল টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এই ধরনের প্রথম ঘটনা।

দ্বিতীয় সমান সমান স্কোরে ড্র টেস্ট ম্যাচ

শেষ বলে সমান সমান স্কোরে ড্র হওয়া টেস্ট ম্যাচের গল্প
Source: Cricbuzz.com

ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ, মুম্বাই, ২০১১

টস-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস ৫৯০ অলআউট (১৮৪.১ ওভার)

ড্যারেন ব্রাভো ১৬৬ রবিচন্দ্রন অশ্বিন ৫/১৫৬

ভারত প্রথম ইনিংস ৪৮২ অল আউট (১৩৫.৪ ওভার)

রবিচন্দ্রন অশ্বিন ১০৩ মার্লন স্যামুয়েলস ৩/৭৪

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংস ১৩৪ অলআউট (৫৭.২ ওভার)

ড্যারেন ব্রাভো ৪৮ রবিচন্দ্রন অশ্বিন ৪/৩৪

ভারত দ্বিতীয় ইনিংস ২৪২/ (৬৪ ওভার)

বিরাট কোহলি ৬৩ রবি রামপল ৩/৫৬

ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৩৪ রানে ভেঙে পরার আগে ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল নিষ্প্রাণ ড্র হিসেবেই ধরে নিয়েছিল সবাই। ইনিংস শেষ হওয়ার আগে সম্ভাব্য ফলাফল ছিল একটি বেমানান ড্র। শেষ দিনের দুই সেশনে ৬৪ ওভার বাকি থাকতে ২৪৩ রানের টার্গেট পায় ভারত। আর শেষ ওভারে মাত্র ৩ রান প্রয়োজন ছিল ভারতের, হাতে ২ উইকেট। এক্ষেত্রে বোলার ফিদেল এডওয়ার্ডের ভারতের বিজয় রুখতে শেষ ওভারে অতি মানবীয় কিছুই করতে হত।

এর পরে শেষ ওভারের দৃশ্যটা ছিল এই রকম

১ম বল- বোলার এডোয়ার্ডের পেস আর বাউন্সের সামনে অসহায় টেল এন্ডার অ্যারনের ব্যাট ফাকি বল চলে যায় কিপারের কাছে।

২য় বল- গুড লেন্থের বলে অ্যারনের ড্রাইভ শট যায় সর্ট কাভারে। এ বল থেকেও কোন রান এলো না।

৩য় বল- সজোরে ব্যাট চালান ব্যাটসম্যান আর বলও বেশ সুইং করে ইঞ্চি ব্যবধানে দ্বারা লেগ স্ট্যাম্প মিস করে। যদিও বলটি কিপারে কাছে পৌঁছানোর আগেই বাউন্স হয়, তবে তিনি বাই রান রক্ষা করার জন্য বধ্য পরিকর ছিলেন।

৪র্থ বল- এবার কোন মতে স্ট্রাইক পরিবর্তন করতে সামর্থ্য হন অ্যারোন, মিড অফে স্যামুয়েলসের সামান্য ফিল্ডিং ত্রুটির কারনেই এটা সম্ভব হয়।

৫ম বল- ভারতের জয়ের জন্যে তখনো ২ রান প্রয়োজন হাতে ২ উইকেট আর ২ বল। বলটি আশ্বিনের প্যাডকে আঘাত করে, কিন্তু বল ব্যাটের ভিতরের কানায় লাগায় বেঁচে যান।

শেষ বল- অশ্বিন সজোরে বল হাকিয়ে বল লং অনে পাঠিয়ে ১ রান পূর্ন করে দ্বিতীয় রানের জন্যে ছোটেন। কিন্তু তার সেই অসম্ভব চেষ্টা এযাত্রায় সফল হয় না। দ্বিতীয় রান নেয়ার সনয় তাঁকে রান আউট করে ভারতের জয় ঠেকিয়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

কি বলেন ঘটনা দুটো খুবই আকর্ষণীয় ছিল, তাই না? আমি নিশ্চিত এটা সেরকমই ছিল, আর আপনারা বেশ উপভোগও করেছেন। আমরা পরবর্তী সময়েও আপনাদেরকে এই ধরনের আরো ঘটনা জানাতে চেষ্টা করবো। সম্পর্কে আপনাকে বলছি অবহিত করার চেষ্টা করবে। ততক্ষন পর্যন্ত আমাদের অন্যান্য লেখা গুলো দেখে আসতে পারেন, আশা করি ভাল লাগবে।

, , , , , , , ,