দ্য গ্রেটেস্ট প্লেয়ার অব দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ — লিওনেল মেসি

লিওনেল মেসি – ৬০০-গোলের-পথচলা

লিওনেল মেসি! বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিস্ময় এই নাম। যারা ফুটবলকে ভালোবাসেন বা একটু হলেও ফুটবল বুঝেন তাদের সবচেয়ে প্রিয় খেলোয়াড়টি হলেন মেসি। ২০০৪ সালের ১৭ বছরের এক বালক যে একদিন রাজ করবে ফুটবল বিশ্বে তা কেই বা জানত। তবে মেসির আজকের মেসি হয়ে গড়ে উঠা একদিনের কোনো রূপকথা নয়। অনেক গল্প,অনেক অর্জন, অনেক ইতিহাস রয়েছে এর পিছে। চলুন ঘুরে আসা যাক সেই গল্পের বই থেকে।

লিওনেল মেসি! বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিস্ময়
লিওনেল মেসি! বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিস্ময়

২৪ জুন ১৯৮৭ সালে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে জন্ম গ্রহন করেন মেসি। মাত্র ৫ বছর বয়সে বাবার আগ্রহ এবং সাহায্যে বাড়ির পাশের ক্লাব গ্রেন্ডলি’তে যোগ দেন তিনি। এরপর ১১ বছর বয়সে যোগ দেন লোকাল ফুটবল ক্লাব নিউওয়েলস’ ওল্ড বয়েজে। তখন থেকেই ফুটবলে নিজের কারিশমা দেখিয়ে সবাইকে মাতিয়ে রাখতেন তিনি। সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিলো কিন্তু হটাৎ করেই এক ভয়ানক রোগের কবলে পড়েন মেসি। ‘’হরমোন ডেফিসিয়েন্সি’’ নামক এই রোগের ফলে মেসির দেহের গ্রোথ হরমোন কমে যায় যা তার স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ছিলো হুমকিস্বরূপ। প্রথমদিকে মেসির বাবা তার চিকিৎসার ভার নিলেও একসময় তিনিও অর্থের কাছে হার মেনে নেন। মেসির ফুটবল ক্যারিয়ার ওখানেই থেমে যেতে পারত কিন্তু ভাগ্য হয়ত অন্যকিছুই লিখে রেখেছিলো মেসির জন্য।বার্সেলোনার তৎকালীন ক্রীড়া পরিচালক কার্লেস রেক্সাস মেসির ব্যাপারে জানতে পারেন এবং মেসির খেলা দেখে মুগ্ধ হোন। দ্বিতীয়বার না ভেবেই তিনি একটি ন্যাপকিন পেপারে মেসিকে বার্সা একাডেমীর খেলোয়াড় হিসেবে লিপিবদ্ধ করেন এবং মেসির চিকিৎসার সমস্ত খরচ সামলাবেন বলে আশ্বাস দেন। এরপর মেসি পাড়ি জমান স্পেনে, লা মাসিয়া নামক তরুন ফুটবল একাডেমীতে যেখান থেকেই শুরু হয় এই বিস্ময় বালকের স্বপ্নের যাত্রা।

বার্সেলোনার মূল দলের হয়ে যদিও তিনি প্রথম মাঠে নামেন ২০০৩ সালে পোর্তোর বিপক্ষে কিন্তু অফিসিয়ালি ক্লাব এবং বিশ্ব ফুটবলের হয়ে মাঠে নামেন ২০০৪ সালের ১৬ই অক্টোবর নিজ শহর প্রতিদ্বন্দ্বী এস্পানিওলের বিপক্ষে। ৩০,০০০ মানুষের সামনে সেদিন তিনি খেলেছিলেন মাত্র ৭ মিনিট। এরপর ৮ ম্যাচ খেলার পর ১ মে,২০০৫ সালে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম গোলের দেখা পান তিনি আলবাক্যাটের বিরুদ্ধে। সেখান থেকেই রচিত হওয়া শুরু করে এক নতুন অধ্যায়, অনন্য ইতিহাস। ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাট্রিকটা করেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ২০০৭ সালের ১০ই মার্চে।যার সংখ্যা এখন ৪৪ টি (ক্লাবের হয়ে ৩৯ টি ও দেশের হয়ে ৫ টি)।

২০০৫ সালে সদ্য যুবক মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে সাউথ আমেরিকান ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশীপ জিতেন। যা তাকে পরবর্তীতে ফিফা ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশীপে সুযোগ পেতে সাহায্য করে এবং সেখানে তিনি ৬ গোল করেন। যারই ধারাবাহিকতায় তিনি আর্জেন্টিনার মূল দলের হয়ে ডাক পান ২০০৫ সালের আগস্ট এর ১৭ তারিখে। ফ্রেন্ডলি সেই ম্যাচে হাঙ্গেরীর বিপক্ষে মাঠা নামার ৪৩ সেকেন্ডের মাথায় লাল কার্ড খান মেসি। এটি তার পুরো ক্যারিয়ারের একমাত্র লাল কার্ড। ২০০৬ এর ১ মার্চ মেসি দেশের হয়ে প্রথম গোল করেন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে।

Source: https://www.mirror.co.uk/

এ পর্যন্ত মেসি মোট ম্যাচ খেলেছেন ৭৪৭ টি এবং গোল করেছেন ৬০০ টি। এসিস্টের দিক থেকেও কম যান না তিনি।ঝুলিতে রয়েছে ২৪৬ টি এসিস্ট। মেসি বার্সেলোনার হয়ে ৬২৪ ম্যাচে করেছেন ৫৩৯ গোল, ২০৯ এসিস্ট এবং দেশের হয়ে ১২৩ ম্যাচে করেছেন ৬১ গোল, ৩৭ এসিস্ট। তার সামনে রয়েছে একটি সিঙ্গেল ক্লাবের হয়ে গার্ড মুলার (৫৬৬ গোল) এবং পেলে (৬৪৩ গোল)’র রেকর্ড ভেঙ্গে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার। বার্সেলোনা এবং আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশী গোল এবং এসিস্ট দুটোই তার দখলে। ২০১২ তে এক বছরে সর্বোচ্চ ৯১ টি গোল করে গিনেস বুকে নিজের নাম লেখান মেসি।এর আগে এই রেকর্ডটি ছিলো জার্মান ফুটবল লিজেন্ড গার্ড মুলারের। তিনি ১৯৭২ সালে ৮৫ গোল করেছিলেন।

অর্জনের ঝুলিটা যথেষ্ঠ ভারী লিওনেল মেসির। এ পর্যন্ত দলের হয়ে ৮ টি লীগ কাপ, ৪ টি ইউসিএল জিতেছেন মেসি। এছাড়াও জিতেছেন উয়েফা সুপার কাপ, ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড ক্লাব, কোপা দেল’রে সহ আরো অনেক শিরোপা। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় পর্যায়ের কিছু না জিততে পারলেও প্রাপ্তির খাতাটা কম না তার। ৩ বার কোপা আমেরিকা রানার্স আপ, একবার বিশ্বকাপ রানার্স আপ করতে পেরেছেন নিজের দেশকে। ব্যাক্তিগত অর্জনের দিক থেকে সবই জিতেছেন মেসি। সর্বোচ্চ ৫ বার ব্যালন ডি’ওর, ৪ বার গোল্ডেন শ্যু সহ জিতেছেন অসংখ্য এওয়ার্ড। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়ে জিতেন গোল্ডেন বল।

প্রায় ১৪ বছরের বিশাল যাত্রার পর ৩১ বছর বয়সী মেসি আজ তার ক্যারিয়ারের পরন্ত সময়ে। এই ১৪ বছরে গড়েছেন অনেক রেকর্ড। হয়ত আর অল্প কয়েক বছর ফুটবল বিশ্ব মেসিকে দেখত পারবে ফুটবল মাঠে রাজত্ব করতে। এরপর একদিন তিনিও অন্যান্য দশটা খেলোয়াড়ের মতন অবসর নিবেন কিন্তু যতদিন ফুটবল থাকবে ততোদিন তিনিও থাকবেই এই খেলার সেরাদের সেরা হয়ে। ততোদিন দেখতে থাকুন ফুটবল আর উপভোগ করতে থাকুন মেসির অসাধারন সব কারিশমা।

, , , , ,