বিশ্বকাপ ২০১৮: গ্রুপ সি এর পূর্ব পর্যালোচনা, পর্ব ১ ( ফ্রান্স, পেরু)

ফ্রান্স

বর্তমান ফিফা র‍্যাঙ্কিং:

বিশ্বকাপে উপস্থিতি : ২০১৮ সালে ১৫তম বারের মত

বিশ্বকাপ ২০১৪: কোয়াটার ফাইনাল

বিশ্বকাপ ২০১৮: গ্রুপ সি
Source: YouTube

ঘরের মাঠে ৯৮ এর বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ফুটবল পরাশক্তির তালিকায় বরাবরই উপরে ছিল। কিন্তু কোন এক অজানা কারনে বিশ্বকাপের মত বড় আসরে ফুটবল দেবী তাঁদের থেকে মুখ ঘুরিয়ে থাকেন। সে যাই হোক, এবারের আসরে কিন্তু লা ব্লুজরা ফুটবল দেবীর আশীর্বাদ তুষ্ট হওয়ার মত যথাযথ যোগ্যতা নিয়েই রাশিয়া যাচ্ছে।

ইউরোপের বাছাইপর্বের এ গ্রুপের শীর্ষ বাছাই হিসেবেই রাশিয়ার টিকিট পেয়েছে ফ্রান্স। সেক্ষেত্রে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে থাকা সুইডেন কিন্তু তাঁদের ভালই পরীক্ষা নিয়েছিল। তবে বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে জিতে বেশ ভাল ভাবেই সে টিকিট পকেটে পুড়েছে লা ব্লুজরা।

৫ জন মিডফিল্ডার আর ৭ জন ফরোয়ার্ডের ফ্রান্স দলের চেহারাই আপনাকে বলে দেবে এই দলের আক্রমণ ভাগটা কত শক্তিশালী। গ্রিজমান, জেরু আর ডেম্বেলের সাথে থাকছে এম্বাপ্পের মত উঠিতি প্রতিভা। আর মাঝমাঠের মূল দায়িত্বে থাকছেন পগবা, কন্টের আর মাতুইদির মত পরীক্ষিত খেলোয়াড়রা।

রক্ষনভাগটা সামলাবেন উমতিতি, ভ্যারেনের মত দক্ষ সেনারা। আর গোল বারের নিচে অতন্ত প্রহরী হিসেবে থাকছেন অভিজ্ঞ হুগো লরিস। যদিও স্ট্রাইকার করিম বেনজামার বাদ পরাটা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর ছিল, তবে সেটা আবার বস দিদিয়ের দেশমসের কাছে যুক্তি সংগতই মনে হয়েছে।

আসলে ফ্রান্সের এই দলটা এতটাই ভারসাম্যপূর্ণ যে, কোচ দিদিয়ের দেশমকে ‘কাকে রেখে কাকে বাদ দেই’এর মত মধুর সমস্যায় ও পড়তে হয়েছে।

ফ্রান্সের বিশ্বকাপ স্কোয়াড
Source: Michael LoRé

ফ্রান্সের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

কোচ: দিদিয়ের দেশমস

গোলকিপার: হুগো লরিস (টটেনহ্যাম হটস্পার), স্টিভ ম্যান্ডান্ডা (মার্সেই), অ্যালফনস এরিলা (প্যারিস সেন্ট জার্মেইন)

ডিফেন্ডার: লুকাস হার্নান্দেজ (এ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), প্রিসন কিম্পেমবে (প্যারিস সেন্ট জার্মেইন), বেঞ্জামিন মেন্ডি (ম্যানচেস্টার সিটি), বেঞ্জামিন প্যাভার্ড (স্টুটগার্ট), আদিল রামি (মার্সেই), জিবরিল সিডিব (মোনাকো), স্যামুয়েল উমতিতি (বার্সেলোনা), রফেল ভ্যারেন (রিয়েল মাদ্রিদ)

মিডফিল্ডার: এন’গোলো কান্তে (চেলসি), ব্লেইজ মাতুদি (জুভেন্টাস), স্টিভেন নজোনজি (সেভিলা), পল পোগবা (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), কোরেন্টিন টলিসো (বায়ার্ন মিউনিখ)

ফরোয়ার্ড: ওসমানের ডেমবেলে (বার্সেলোনা), নাবিল ফেকির (লিঁও), অলিভার জেরু (চেলসি), অ্যান্টোনি গ্রিজম্যান (এ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), টমাস লামার (মোনাকো), কিলিয়ান এমবাপ্পে (প্যারিস সেন্ট জার্মেইন), ফ্লোরিয়ান থাউভিন (মার্সেইলে)

মোদ্দাকথা এই যে, ফ্রান্সের এই দলকে বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিটের তালিকায় রাখতে হলে আপনাকে ফুটবল বিশেষজ্ঞ না হলেও চলবে। দলের সাম্প্রতিক ফর্ম আর উপরের নামগুলো জানলেই হবে।

পেরু

বর্তমান ফিফা র‍্যাঙ্কিং: ১০

বিশ্বকাপে উপস্থিতি : ২০১৮ সালে ৫ম বারের মত

বিশ্বকাপ ২০১৪: কোয়ালিফাই করতে পারে নি

 

পেরু দীর্ঘ ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ খেলতে রাশিয়া যাচ্ছে এবার। আর প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া আইসল্যান্ড এবং পানামা বাদে পেরুই সব থেকে বেশি দিন পরে বিশ্বকাপ খেলার স্বাদ পাচ্ছে। আসলে পেরুভিয়ানদের কাছে বিশ্বকাপে খেলার স্বাদটা অনেকটা তাঁদের মাচুপিচুর হারানো ইনকা সভ্যতার ইতিহাসের মতই হয়ে গিয়েছিল।

এবার বাছাইপর্বের ল্যাটিন অঞ্চলের যাবতীয় উত্তেজনা আর নাটকের অন্যতম কুশীলবই এই পেরু। আর সেই নাটকের শেষ হয় বাছাইপর্বের শেষে ৫ম স্থানে থেকে নিউজিল্যান্ডের সাথে প্লে অফে জয়ের মাধ্যমে।

পেরুর এই সাফল্য গাথার পেছনে অন্যতম কারিগর ছিলেন চৌকশ মিডফিল্ডার এডিসন ফ্লোরেস। বাছাইপর্বে ৫ গোল করে যৌথভাবে দলের সেরা গোলদাতা ছিলেন। আর গোল বারের নিচে গোলকিপার পেদ্রো গ্যালাইস এতটাই কার্যকরী ছিল যে আর্জেন্টাইন এই গোল কিপারকে নিজেদের জাতীয়তা দিয়েই দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে পেরু।

পেরুর জন্যে সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ টা আসে প্লে অফের আগে। ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে নিষেধাজ্ঞায় দল থেকে ছিটকে যান দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা পাওলো গুয়েররেরো। তাঁর অনুপস্থিতিতে অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার জেফারসন ফারফানের দায়িত্বটাও অনেক বেড়ে গেছে। আর এবারের আসরে পেরুর কোচ রিকার্ডো গ্যারেসার তুরুপের অন্যতম প্রধান তাস হিসেবে থাকছে ফেইনোর্ডের মিডফিল্ডার রেনাতো তাপিয়া।

পেরু বিশ্বকাপ স্কোয়াড
Source: India.com

কোচ: রিকার্ডো গ্যারেসা

গোলকিপার: পেড্রো গ্যালাইস (ভেরাক্রুজ-মেক্সিকো), কার্লোস ক্যাসেডা (ভেরাক্রুজ-মেক্সিকো) এবং হোসে কারভালো (ইউটিসি)

ডিফেন্ডার: অ্যালডো করজো (ইউনিভার্সিতারিও), লুইস অ্যাডভিনকুল্লা (লোবোস বুয়েপ-মেক্সিকো), মিগুয়েল অরুজো (আলিয়াঞ্জা লিমা), আলবার্তো রদ্রিগেজ (জুনিয়র-কলম্বিয়া), ক্রিশ্চিয়ান রামোস (ভেরাক্রুজ-মেক্সিকো), এন্ডারসন সান্তমারিয়া (পুয়েব্লা-মেক্সিকো), লুইস এব্রাম (ভেলজ স্যারসফিল্ড-আর্জেন্টিনা) এবং মিগুয়েল ট্রুকো (ফ্লামেনগো-ব্রাজিল)।

মিডফিল্ডার: রেনাতো তাপিয়া (ফেইনোর্ড), পেড্রো একুইনো (লোবোস বুয়েপ), ইয়োশিমার ইয়োতুন (অরল্যান্ডো সিটি), সার্জিও পেনা (গ্রানাডান), এডিসন ফ্লোরেস (আলবর্গক), পাওলো হার্তাদো (বিটিটোয়া ডি গুয়ামারাজ), ওয়াইল্ডার কার্টেজেনা (ভেরাক্রুজ), নিলসন লোওলা (মেলগার), ক্রিশ্চিয়ান কুইভা (সাও পাওলো), আন্দ্রে কারিল্লো (ওয়াটফোর্ড)।

ফরোয়ার্ড: জেফারসন ফারফান (লোকোমটিভ), অ্যান্ডি পোলো (পোর্টল্যান্ড টিমবার্স), রাউল রুইডিয়াজ (মোরেলিয়া)।

৪০ বছর আগে বিশ্বকাপে শেষ জয়ের দেখা পাওয়া পেরু এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম কঠিন সি গ্রুপের সদস্য। আর এই বিশ্বকাপে আরেকটা ম্যাচ জয়ের স্বাদ পেতে হলে লস ইনকাস দের যথেষ্ট কাঠখড়ই পোড়াতে হবে বলে মনে হচ্ছে। আর এটা নিশ্চিত যে এর জন্যে তাঁদেরকে নিজেদের শতভাগের চেয়েও বেশি দিয়ে খেলতে হবে।

, , , , , , , , ,