বিশ্বকাপ ২০১৮: গ্রুপ বি পর্যালোচনা পর্ব ১ (পর্তুগাল, মরক্কো)

পর্তুগাল

বর্তমান ফিফা র‍্যাঙ্কিং:
বিশ্বকাপে উপস্থিতি: ২০১৮ সালে ৭ম বারের মত
বিশ্বকাপ ২০১৪: রাউন্ড অব ১৬ থেকেই বিদায়

বিশ্বকাপ ২০১৮: গ্রুপ বি
Source: YouTube

১৯৬৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবলে সুযোগ পাওয়া পর্তুগাল সেই আসরেই তৃতীয় হয়েই বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের আগমনী বার্তার জানান দেয়। কিন্তু পরের ৪ আসরেই নিজের নাম যুক্ত করতে ব্যর্থ হয় পর্তুগিজরা। যদিও ৬৬ সালের সেই বিশ্বকাপে পর্তুগিজদের পাওয়া সাফল্যের প্রায় পুরোটারই দাবিদার গ্রেট ইউসেবিও।

ইউসেবিওর পরে আর যেই রোনালদো পর্তুগিজদের আশার আলো দেখিয়েছিলেন, তিনি খুব সম্ভবত তাঁর শেষ বিশ্বকাপ খেলতে রাশিয়া যাচ্ছেন। যদিও ইতিহাসে প্রথমবারের মত ২০১৬ সালে ইউরো শিরোপা আর বাছাইপর্বের ১০ ম্যাচের ৯ ম্যাচই জিতে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আর তাঁর দল, কিন্তু বিশ্বকাপ তাঁদের জন্যে বরাবরই এক বড় পরীক্ষার নাম।

রোনালদোর সাথে আক্রমণ ভাগে নিজের জুটিটা যে ভালই হতে যাচ্ছে সেই বার্তা বাছাইপর্বে বেশ ভাল ভাবেই দিয়ে রেখেছেন মিলানের স্ট্রাইকার আন্দ্রে সিলভা।

পেপে আর ব্রুনো আলভেজদের মত অভিজ্ঞতদের উপরেই থাকছে রক্ষণভাগ সামলানোরর কাজ। আর মিডফিল্ডে থাকছে কারেসজমা আর হোয়াও মোটিনহোর মত অভিজ্ঞতার সাথে কিছু অসাধারণ নতুন মুখ। যারা রোনালদোর নেতৃত্বাধীন আক্রমণভাগকে বেশ ভাল কিছু পাসের যোগান দেবেন বলেই আশা করা যাচ্ছে।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
Source: Eurosport

কোচ ফার্নান্দো সান্তোস তাঁর ইউরো ‘১৬ জয়ী দলের ১০ সদস্যকেই বাদ দিয়ে বিশ্বকাপের দল ঘোষনা করেছেন। যাদের মধ্যে নানি, সানচেজের মত বড় বড় নামও রয়েছে। তবে বাদ পড়া বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই ফর্ম আর ইঞ্জুরি সমস্যার কারনেই বাদ পড়েছেন।

পর্তুগাল বিশ্বকাপ স্কোয়াড

কোচ : ফার্নান্দো সান্তোস

গোলকিপার: অ্যান্থনি লোপেস (অলিম্পিক লায়নিস), বেটো (গজেটেপ), রুই পেট্রিও (স্পোর্টিং)

ডিফেন্ডার: ব্রুনো অ্যালভেস (রেঞ্জারস), সেদ্রিক সোয়ারেস (সাউদাম্পটনের), হোসে ফোন্টে (ডেলিয়ান ইয়িফাং), মারিও রুই (নেপোলি), পেপে(বাসিক্তাস), রাফাফেল গেরেইরো (বুরুসিয়া ডর্টমুন্ড), রিকার্ডো পেরেইরা (পোর্তো), রুবেনের দিয়াস (বেনফিকা)

মিডফিল্ডার: আদ্রিয়ান সিলভা (লিচেস্টার), ব্রুনো ফার্নান্দেস (স্পোর্টিং), হোয়াও মারিও (ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড), হোয়াও মোটিনহো (এএস মোনাকো), ম্যানুয়াল ফার্নান্ডেজ (লোকোমটিভি মস্কো), উইলিয়াম কার্ভাহাল(স্পোর্টিং)

ফরোয়ার্ড: আন্দ্রে সিলভা (মিলান), বার্নার্ডো সিলভা (ম্যানচেস্টার সিটি), ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (রিয়াল মাদ্রিদ), গেলসন মার্টিন্স (স্পোর্টিং), গনসালো গুয়েদেস (ভ্যালেন্সিয়া), রিকার্ডো কারেসমা (বাসিক্তাস)

নিজের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ যাত্রায় রোনালদো তাঁর দলকে কোন পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেন এটাই দেখার বিষয়।

মরক্কো

বর্তমান ফিফা র‍্যাঙ্কিং: ৪২
বিশ্বকাপে উপস্থিতি: ২০১৮ সালে ৫ম বারের মত
বিশ্বকাপ ২০১৪: খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ

১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের পর এই প্রথম আবার বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে উত্তর আফ্রিকার এই দলটি। নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সেই ১৯৭০ সালে একবারই দ্বিতীয় রাইন্ডে খেলতে পড়েছিল দলটি। আর এত বছর পরে সুযোগ পেয়ে অন্তত সেরকম কিছুর আশা নিয়েই রাশিয়া যাচ্ছে তাঁরা।

মরক্কো
Source: YouTube

রাশিয়ায় আশার পথে বাছাইপর্বে আফ্রিকা অঞ্চলের সি গ্রুপ থেকে তাঁরা ‘এলিফেন্ট অফ আফ্রিকা’ খ্যাত আইভরিকোস্টকে টপকে এসেছে।

মরক্কো দলের সবচেয়ে বড় তারকা হলেন জুভেন্টাস ডিফেন্ডার মেহদি বেনাতিয়া। আর তাঁদের মাঝমাঠটাও এম’বারেক বোসসুফা আর ইউনেস বেলহান্দার মত অভিজ্ঞদের দ্বারা বেশ শক্তই বলতে হবে।

আক্রমণ ভাগে আছেন কারিম এল আহমাদির সাথে আয়াক্সের হাকিম জিয়াচের মত উঠতি তারকারা। দলটাকে মোটামুটি ভারসাম্যপূর্ণ একটা দলই বলতে হবে। আর দলটির কোচের দায়িত্বে আছেন জাম্বিয়া আর আইভরিকোস্টকে আফ্রিকান নেশনস কাপ জেতানো হার্ভে রেনার্ড। তাই তাঁর কাছ থেকে মরক্কানরা এবার ভাল কিছু আশা করতেই পারেন।

মরক্কো বিশ্বকাপ স্কোয়াড

কোচ: হার্ভে রেনার্ড

গোলকিপার: মুনীর এল কাজুই (নুমানসিয়া), ইয়াসিন বৌনু(জিরোনা), আহমদ রেদা তাগনাউতি (ইত্তিহাদ তাঞ্জার)

ডিফেন্ডার: মেহেদী বেনাতিয়া (জুভেন্টাস), রোমান সাইস (ওলভস্), ম্যানুয়েল দ্য কোস্টা (বাসাক্সির), বাদার বেনুউন (রাজা কাসাব্লাঙ্কা), নাবিল দিরার (ফেনেরবেচ), আস্রাফ হাকিমি (রিয়াল মাদ্রিদ), হামজা মেন্ডল (লিল)

মিডফিল্ডার: এম’বারেক বোসসুফা (আল জাজিরা), কারিম এল আহমেদি (ফেইনোর্ড), ইউসেফ আত বেন্নাসের (কান), সোফিয়ান আম্র্যাত (ফেইনোর্ড), ইউনুস বেলহান্দা (গালাতাসারেয়), ফেইকাল ফজর (গেটেফে), আমিন হারিত (শলকে০৪)

ফরোয়ার্ড: খালিদ বৌতাইব (মালাতিয়াসপোর), আজিজ বৌহাদ্দইজ (সেন্ট পল), আইউব এল কাবি (রেনেসাঁ বেরকানে), নর্দিন আম্র্যাবাত (লেগানেস), মেহেদী কার্সেলা (স্ট্যান্ডার্ড ডি লিগ), হাকিম জিয়াচ (এজেক্স)

আরেকটা কথা, লাল-সবুজ জার্সির মরক্কোকে মাঠে খেলতে দেখে আপনি বাংলাদেশের জন্য আফসোস করবেন নাকি দুধের সাধ পানিতে মেটাবেন তা একান্তই আপনার ব্যাপার।

, , , , , , ,