বিশ্বকাপ ২০১৮: গ্রুপ বি এর পূর্ব পর্যালোচনা, পর্ব ২ (স্পেন, ইরান)

স্পেন

বর্তমান ফিফা র‍্যাঙ্কিং:
বিশ্বকাপের উপস্থিতি: ২০১৮ সালে ১৫তম বারের মত
বিশ্বকাপ ২০১৪: গ্রুপ পর্যায়ে বাদ

বিশ্বকাপ ২০১৮: গ্রুপ বি
Source: Twitter

২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেন ব্রাজিল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায় থেকেই বাদ পড়ে মুদ্রার অন্য দিকটি দেখে ফেলে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন অনেক বদলেছে। তাঁরা অত্যন্ত চমৎকার ভাবেই তাঁদের সেই খারাপ সময়টা পেড়িয়ে এসেছে।
“আমি ২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের মুখোমুখি হতে চাই না,” স্পেন সম্পর্কে মেসির এই মন্তব্যই আপনাকে বর্তমান পরিস্থিতিতে বুঝতে সাহায্য করবে।

ইউরোপের বাছাইয়ে জি গ্রুপের শীর্ষে থেকেই তাঁরা রাশিয়া বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। আসলে, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার ঠিক আগেই লা রোহারা বেশ ভাল ছন্দেই আছে।

রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ইসকো এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের অন্যতম সৃজনশীল খেলোয়াড় হিসেবে দেখা আবির্ভূত হতে পারেন। ২০১৪ আর ২০১৬ তে জাতীয় দলে তাঁর অনুপস্থিতিককে বিবেচনা করলে আপনি তাঁর কাছ থেকে ব্যতিক্রমী কিছু আশা করতেই পারেন, তাঁর সাম্প্রতিক ফর্মও সেই কথাই বলে।

আপনাকে রিয়েলর আরেক তরুন তুর্কী মার্কো অ্যাসেন্সিওর দিকেও নজর রাখতে হবে, কেননা রিয়ালের হয়ে পুরো মৌসুম জুড়েই প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে তার পারফর্মেন্স ছিল অসাধারণ।

ইসকো
Source: fourfourtwo.es

ডেভিড সিলভা, যিনি সবসময়ই জাতীয় দলের সাথে ছিলেন। এবার তাঁর সামনেও স্বতন্ত্রভাবে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ থাকছে।

ডিফেন্সে তাঁদের রয়েছে পিকে আর র‍্যামোসের মত সমন্বয় আর সেই সাথে উইংয়ে থাকছেন জর্ডি অ্যালবা। আর নিশ্চিত যে মাঝমাঠে ইনিয়েস্তা ও তাঁর সঙ্গীরা দলকে যাদুকরী কিছুই উপহার দেবেন। তবে কোচ হুলিয়ান লোপতেগুই আলভেরো মোরাতাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটা যথার্থ কিনা সে উত্তর দলে সুযোগ পাওয়া আক্রমণভাগের ত্রয়ীকে মাঠেই দিতে হবে।

স্পেন বিশ্বকাপ স্কোয়াড

কোচ: হুলিয়ান লোপেতেগুই

গোলকিপার: ডেভিড ডে গিয়া (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), পেপ রেইনা (নেপোলি), কেপা অরিজিবলাগা (অ্যাথলেটিক বিলবাও)

ডিফেন্ডার: জর্ডি অ্যালবা (বার্সেলোনা), সেজার অ্যাজপ্লিকুইতা (চেলসি), নাচো মনরিয়াল (আর্সেনাল), দানি কারভাহাল (রিয়াল মাদ্রিদ), নাচো ফার্নান্দেজ (রিয়াল মাদ্রিদ), জেরার্ড পিকে (বার্সেলোনা), সার্জিও র‍্যামোস (রিয়াল মাদ্রিদ), আলভারো অদ্রিওজোলা (রিয়েল সোসিয়েদাদ)

মিডফিল্ডার: থিয়াগো আল্কান্তারা (বায়ার্ন মিউনিখ), সার্জিও বুসকেটস (বার্সেলোনা), আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা (বার্সেলোনা), হোর্হে “কোকে” রেজুরেকশন (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), সাউল নিগুয়েজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), মার্কো অ্যাসেন্সিও (রিয়াল মাদ্রিদ), ডেভিড সিলভা (ম্যানচেস্টার সিটি ), লুকাস ভ্যাজকুয়েজ (রিয়াল মাদ্রিদ), ফ্রান্সিসকো “ইসকো” আলারকোন (রিয়াল মাদ্রিদ)

ফরোয়ার্ড: আইগো এসপাস (সেলটা ভিগো), রদ্রিগো (ভ্যালেন্সিয়া), ডিয়েগো কস্তা (এটলেটিকো মাদ্রিদ)

সাম্প্রতিক এক প্রীতি ম্যাচের পরে কোস্টারিকার কোচ স্পেন সম্পর্কে বলেন “তাঁরা এক স্পর্শেই শয়তানের গতিতে বল সরায়।” এই উক্তি স্প্যানিয়ার্ডদের কাছ থেকে আশ্চর্যজনক কিছুরই নির্দেশ করছে। কি বলেন?

ইরান

বর্তমান ফিফা র‍্যাঙ্কিং: ৩৬
বিশ্বকাপের খেলা: ২০১৮সালে ৫ম বারের মত
বিশ্বকাপ ২০১৪: গ্রুপ পর্যায়ে বাদ

ইরানই হল এশিয়ার একমাত্র দল যাদের রাশিয়া বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে তেমন কোন ঝামেলায় পড়তে হয় নি। রাশিয়ায় যাওয়ার পথে তাঁরা তাঁদের ১০ ম্যাচেই অপরাজিত ছিল। আর এটা সম্ভবত কোচ কার্লোস কুইরোজের দীর্ঘ সময়ের যত্নের ফলাফল। তিনি ৬ বছরের বেশি সময় ধরে ইরানের দায়িত্বে আছেন।

এ মুহূর্তে এশিয়ার সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে সরদার আজমুনকে দাবি করা যেতেই পারে, তবে রেজা ঘুচানজেহাদও ডাচ লগে হেরেনভিনের হয়ে নিয়মিতই গোল করছেন।

দলটির শক্তি আরো বেড়েছে আলিরেজা জাহানবাখশের অন্তর্ভুক্তিতে। তিনি প্রথম ইরানীয় হিসেবে ইউরোপের শীর্ষ লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। তিনি ডাচ ক্লাব এজি আল্কমারের হয়ে এই মৌসুমে ২১ গোল করেছেন। সাইয়েদ ইজাতোলাহি যাকে “ফার্সি পোগবা” হিসাবে অভিবাদন করা হচ্ছে, তিনিও দলের নির্ভরতার আরেক তরুন তুর্কী।

আর আছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার জালাল হোসেনী, যিনি দেশের হয়ে শত ম্যাচের বেশি খেলে ফেলেছেন আর এখনো বেশ ভাল ভাবেই আগাচ্ছেন।

ইরানের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

আলিরেজা জাহানবাখশ
Source: Financial Tribune

কোচ: কার্লোস কুইরোজ

গোলকিপার: আলিরেজা বেইরানভান্ড (পারসেপলিস), রশিদ মাজহারি (জুব ​​আহান), আমির আবেজাদেহ (মেরিটিমো)

ডিফেন্ডার: রামিন রেজাইয়ান (কেভি ওস্টেন্ডে), মোহাম্মদ রেজা খানজাদেহ (পাদিদেহ), মোর্তেজা পৌরালিগাঞ্জি (আল সাদ), পেজমান মোন্তাজেরি (এস্তেঘলাল), সাঈদ মাজিদ হোসেনী (এস্তেঘলাল), মিলাদ মোহাম্মদী (আখমাত গ্রোজনি), রূজবেহ চেশমি (এস্তেঘলাল)

মিডফিল্ডার: সাইয়েফ ইজাতোলাহি (আমকার পের্ম), মাসউদ শোজায়েই(এইকে এথেন্স), মেহেদী তোরাবি (সাইপা), আশকান দেজাগাহ (নটিংহাম ফরেস্ট), ওমিদ এব্রাহিমি (এস্তেঘলাল), এহসান হাজসাফি (অলিম্পিয়াকোস), ভাহিদ আমিরি (পারসেপলিস), সামান ঘোদ্দেস ( ওস্তারসান্দস এফকে), আলি ঘোলিজাদেহ (সাইপা)

ফরোয়ার্ড: আলিরেজা জাহানবাখশ (এজি আল্কমার), করিম আনসারিফার্দ (অলিম্পিয়াকোস), মাহদি তোরেমি (আল-ঘারাফা স্পোর্টস ক্লাব), সরদার আজমুন (রুবিন কাজান), রেজা ঘুচেনজাহাদ (এসসি হেরেনভিন)

ইরান বিশ্বকাপে তাঁদের একমাত্র জয়টি পেয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১৯৯৮ সালে। আর গ্রুপ সঙ্গী হিসেবে স্পেন, পর্তুগাল এবং মরক্কোকে পাওয়ার পর মনে হচ্ছে না রাশিয়া বিশ্বকাপেও তাঁদের দ্বিতীয় জয়টা পাওয়া হবে। কিন্তু কে জানে কে ভবিষ্যত কি নিয়ে অপেক্ষা করছে?

, , , , , , , , , , ,