বিশ্বকাপ ২০১৮: গ্রুপ এ পর্যালোচনা, পর্ব ২ (উরুগুয়ে, রাশিয়া)

উরুগুয়ে

বর্তমান ফিফা র‍্যাঙ্কিং: ১৭
বিশ্বকাপের উপস্থিতি: ২০১৮ সালে ১৩তম বারের মত
বিশ্বকাপ ২০১৪: রাউন্ড অব ১৬

বিশ্বকাপ ২০১৮
Source: ulimwenguwasokatz.com

বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসের সূচনাই হয়েছে উরুগুয়েকে দিয়ে ১৯৩০ সালে। প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ আর সেইসাথে বিজয়ী দল দুই ই ছিল এই উরুগুয়ে। অবিশ্বাস্যভাবে, তাঁরা ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েও চ্যাম্পিয়ন হয়েই ফিরে আসে এবং সেটিই ছিল চ্যাম্পিয়ন হিসাবে তাঁদের সর্বশেষ সময় বিশ্বকাপ।

যদিও তাঁরা লাতিন আমেরিকা থেকে বাছাই পর্বে দ্বিতীয় স্থানে থেকেই বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করেছিল, তবে সেই যাত্রাটি তাঁদের জন্যে মোটেও তেমন সহজ ছিল না। বাছাইপর্বে তাঁরা বেশ চড়াই উতরাই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়েই গেছে।

দক্ষতা, গতিশীল এবং প্রায়ই বিতর্কিত, লুইস সুয়ারেজ তার দেশের জন্য প্রধান আশা। উরুগুয়ের সর্বকালের সেরা স্কোরার সুয়ারেজ তাঁর তৃতীয় বিশ্বকাপকে অবশ্যই স্মরণীয় করে রাখতে চাইবেন। আর এই যজ্ঞে তিনি পাশে পাচ্ছেন অভিজ্ঞ এডিনসন কাভনিকে, যিনি আবার ছিলেন দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বের শীর্ষে গোলদাতা। আর এই দুজনের সাথে আছেন টিম ক্যাপ্টেন ডিয়েগো গডিন, যিনি দলের প্রতিরক্ষা দেয়ালের সবচেয়ে সম্মানিত কারিগর।

লুইস সুয়ারেজ
Source: Zee News

এই তিনজন বাদেও উরুগুয়ে দলে বেশ কিছু সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় রয়েছে। যারা কিনা ঐক্যবদ্ধ ভাবে যে কোন দলকেই ধসিয়ে দিতে পারে।

উরুগুয়ে বিশ্বকাপ স্কোয়াড

চূড়ান্ত দল এখনো ঘোষনা করা না হলেও উরুগুয়ে ২৩ সদস্যের প্রাথমিক বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করেছে।

কোচঃ অস্কার তাবারেজ

গোলরক্ষক: ফার্নান্ডো মোসেলার (গালাতাসারে), মার্টিন সিলভা (ভাসকো দ্য গামা), মার্টিন কাম্পানা (ইন্দিপেন্দিয়েন্ত)।

ডিফেন্ডার: ডিয়াগো গডিন (এ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), সেবাস্তিয়ান কোটস (স্পোর্টিং লিসবন), হোসে মারিয়া গিমেনেজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), ম্যাক্সিমিলিয়ানো পেরেররা (পোর্তো), গাস্টন সিলভা (ইন্দিপেন্দিয়েন্ত), মার্টিন কাশিয়ার্স (ল্যাজিও), গিলারমো ভেরালা (পেনরোল)।

মিডফিল্ডার: নাহিৎান নান্দেজ (বোকা জুনিয়র্স), লুকাজ টোরেইরা (স্যাম্পদোরিয়া), মাতিয়াস ভিসিনো (ইন্টার মিলান), ফেডেরিকো ভ্যালভারদি (রিয়াল মাদ্রিদ), রডরিগো বেন্টানচুর (জুভেন্টাস), কার্লোস সানচেজ (মন্টেরে), জর্জিয়ান ডি অ্যারাসকাটা (ক্রুজিরো), ডিয়েগো লক্সেলেট (জেনোয়া), ক্রিশ্চিয়ান রদ্রিগেজ (পেনরোল), জোনাথন ইউর্রেটিভিসায়া (মন্টেরে), নিকোলাস লোডিরো (সিয়াটল সাউন্ডারস), গ্যাস্টন রামিরেজ (স্যাম্পদোরিয়া)।

ফরোয়ার্ড: ক্রিশ্চিয়ান স্টুয়ানি (জিরোনা), ম্যাক্সিমিলিয়ানো গোমেজ (সেলটা ভিগো), এডিনসন কাভানি (প্যারিস সেন্ট জার্মেই), লুইস সুয়ারেস (বার্সেলোনা)।

বস অস্কার তাবারেজ সম্ভবত তার শেষ কোচিং এসাইনমেন্টে রাশিয়া যাচ্ছেন এবার। তিনি বড় কিছু দিয়েই শেষ করতে চাইবেন। তুলনামূলকভাবে তাঁর দলটি একটি সহজ গ্রুপেই পরেছে, কিন্তু বিশ্বকাপ মত প্রতিযোগিতায় সহজ বলতে যে কিছুই নেই।

রাশিয়া

বর্তমান ফিফা র‍্যাঙ্কিং: ৬৬
বিশ্বকাপের উপস্থিতি: ২০১৮ সালে ১১তম বারের মত
বিশ্বকাপ ২০১৪: গ্রুপ পর্যায়ে থেকেই বাদ

Source: Goal.com

এই বিশ্বকাপের আয়োজক জাতি রাশিয়া বিশ্ব ফুটবলের জনপ্রিয় কোন নাম নয়। আসলে তাঁরা নিকটবর্তী অতিতে তেমন অসাধারণ কিছু করেও নি, যাতে কেউ তাঁদের দিকে নজর ফেরাবে। বিশ্বকাপের আয়োজক বছাই এর ক্ষেত্রে তাঁদের নির্বাচনটাও ছিল একটি বিশাল বিতর্কিত সত্য, কিন্তু এটি একটি ভিন্ন গল্প। আজ আমরা যে আলোচনা করতে যাচ্ছি না।

আয়োজক জাতি হিসাবে তাঁদের কোন বছাইপর্বের খেলা ছিল না। কিন্তু গত দুই বছর ধরে তাঁদের প্রীতি ম্যাচের সময়সূচি খুবই ব্যস্ত ছিল।

রাশিয়ান স্কোয়াডের প্রধান তারকা খেলোয়াড় তাঁদের রক্ষক ইগর আকিনফিভ। মিডফিল্ডার অ্যালান ডিজাগোয়েভ তাঁদের জন্য অন্যতম প্রধান একজন খেলোয়াড়ও।

আকিনফিভ, ইতোমধ্যেই যার নামের সাথে ১০০ টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আছে, হয়তো দ্রুতই তিনি সের্গেই ইগনাশেভিকের জাতীয় দলের খেলা ১২০ ম্যাচের রেকর্ডটি ভেঙে ফেলবেন। যদিও আন্দ্রে আরশাভিনের পর রাশিয়া বিশ্বমানের ফিনিশারের অভাবে ভুগছে, তবে বর্তমানে বেশ কিছু নতুন মুখ উঠে আসছে। যেটা তাঁদের জন্যে অবশ্যই স্বস্তিদায়ক ব্যাপার।

রাশিয়া বিশ্বকাপ স্কোয়াড

রাশিয়া গত ১১ই মে ২৮ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছিল।

কোচ: স্ট্যানিস্লাভ চেরেভসভ

গোলরক্ষক: ইগর আকিনফিভ (সিএসকেএ মস্কো), ভ্লাদিমির গ্যাবলোভ (ব্রুগে), সোসালান ডিজানয়েভ (রুবিন কাজান), আন্দ্রেই লুনেভ (জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গে)

ডিফেন্ডার: ভ্লাদিমার গ্রানাত, ফুডর কুডরিশোভ (রুবিন কাজান), ইলা কুতপোভ (স্পার্টাক মস্কো), রোমান নিউস্তাদ্টার (ফেনারব্যাচ), কনস্ট্যান্টিন রৌসচ (ডায়নামো মস্কো), আন্দ্রে সেমিয়োনোভ (আখমাত গ্রোজানি), ইগোর স্মোলনিকভ (জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গে), মারিও ফার্নান্ডেজ, সের্গেই ইগনাশেভিচ (উভয়ই সিএসকেএ মস্কো)

মিডফিল্ডা: ইউরি গাজিনস্কি (ক্র্যাশনাদার), অ্যালান ডিজাগোয়েভ, আলেকজান্ডার গোলভিন (সিএসকেএ মস্কো), আলেকজান্ডার এরিখিন, ইউরি জেহিনকভ, ডালার কুজাইভ (জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গে), রোমান জবনিন, আলেকজান্ডার স্যামিদভ (উভয়ই স্পার্টাক মস্কো), অ্যান্টন মিরানচুক (লোকোমোটিভ মস্কো), আলেকজান্ডার ট্যাশেভ (ডায়নামো মস্কো), ডেনিস চেরশেভ (ভিলারিয়াল)

ফরোয়ার্ড: আর্টেম ডিজুবা (আর্সেনাল টুলা), আলেক্সি মিরিচুক (লোকোমটিভ মস্কো), ফুডর স্মোল্ভ (ক্রিশ্চিয়ান), ফুডর চলোভ (সিএসকেএ মস্কো)

রাশিয়ান কোচ স্ট্যানিস্লাভ চেরেভোভকে ঘরের দর্শকদের চাপ সামলে ভাল কিছু করতে হবে। কিন্তু যতদূর মনে হচ্ছে বেশিরভাগ রাশিয়ানরাই তাঁদের দলের কাছে বড় কিছু প্রত্যাশা করার চেয়ে বিশ্বকাপের আয়োজন নিয়েই বেশি উত্তেজনায় রয়েছে। তবে এটি অবশ্যই রাশিয়ান দলের জন্যে একটি ইতিবাচক ব্যাপার।

, , , , , , , ,