বিশ্বকাপ ২০১৮: ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া দ্বিতীয় সেমির হিসেব নিকেশ

 

মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে আজ দ্বিতীয় সেমি ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড আর ক্রোয়েশিয়া। বিশ্বকাপের মঞ্চে এটাই এই দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎ। আর সেই প্রথম সাক্ষাতটা যে সেমি ফাইনালের মত এরকম মহারণে এসে হবে সেটা কেই বা কল্পনা করেছিল। সে কল্পনা আপনি করুন আর নাই করুন এতে ফুটবলের কিছু যায় আসে না। এই দুই দলের মধ্যে থেকেই ফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ নির্বাচিত হবে এটাই বাস্তবতা।

Source: Metro

ইংলিশরা দীর্ঘ ২৮ বছর পর নিজেদের তৃতীয় সেমি ফাইলাল খেলছে এবার। আর সেই ১৯৯৮ সালে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপেই সেমি ফাইনাল খেলা ক্রোয়েটদের এটা দ্বিতীয় সেমি।

ইংল্যান্ড নিজেদের প্রথম সেমি ফাইনাল খেলে ১৯৬৬ সালে ঘরের মাঠে। সে বার শুধু সেমিই না ফাইনাল জিতে নিজেদের একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলেছিল ইংলিশরা।

৫২ বছর আগের সেই ইতিহাস শুনতে শুনতেই ইংলিশ ফুটবলের কয়েকটি প্রজন্মের ইতি ঘটে গেছে, কিন্তু দলকে দ্বিতীয় বার আর ফাইনাল খেলতেও দেখেনি তারা।

৯০ সালে ইংলিশরা আবারো সেমিতে উঠলেও পশ্চিম জার্মানির কাছে টাইব্রেকে হেরে স্বপ্ন ভগ্ন হয় ইংলিশদের।

অন্যদিকে, ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম উপস্থিতিতেই সেমিতে পৌঁছে গিয়েছিল ক্রোয়েটরা।

কিন্তু সেমিতে স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হেরে স্বপ্নযাত্রা থেমে যায় ক্রোয়েটদের।

বিশ্বকাপের এবারের আসরের শুরু থেকে হয়তো ফেভারিটের তকমা ছিল না দুই দলের কারো গায়েই। নামিক তকমা দিয়ে কি হবে?

নিজেদের কাজটা তো ঠিকই শুরু থেকেই করে গেছে দুই দল। বিশ্বকাপে নিজেদের টানা ৫ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েই সেমিতে এসেছে মডরিচ-রাকিতিচরা।

আর ইংলিশরা নিজেদের ৫ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ১১ গোল দিয়ে সেমিতে পৌঁছেছে। আর এখন পর্যন্ত ৬ গোল করে গোল্ডেন বুটের সবচেয়ে বড় দাবিদার ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেন।

ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ অবশ্য হ্যারি কেনকে রুখে দেওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী।

ইংলিশ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এখানে আমরা মেসিকে আটকেছি। হ্যারি কেনকেও আটকানোর চেষ্টা করবো।” পরে তিনি আরো যোগ করেন “এ পর্যন্ত কোন দলকেই ভয় করিনি। ইংল্যান্ডকেও ভয় পাওয়ার কিছু নেই।”

Source: read in international

অন্যদিকে ইংলিশ কোচ গ্যারেথ সাউথগেট সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “এই টুর্নামেন্টে এরই মধ্যে কয়েকটি ইংলিশ ইতিহাস আমরা গড়েছি। গড়তে চাই আরো।”

এ ছাড়াও ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ নিয়ে প্রশ্ন করায় ইংলিশ মিড ফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসন বলেন “১৯৬৬ সেই কবেকার কথা! ওটা মাথায় নিয়ে আমরা খেলছি না। প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে এতদুর এসেছি। সেভাবেই যেতে চাই, ১৯৬৬-এর মত হয়ে গেলে তো ভালই।”

অবশ্য এই দুই দলের সর্বশেষ মুখোমুখি লড়াইয়ে ইংলিশরাই এগিয়ে।

২০০৯ সালে ওয়েম্বলিতে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে ক্রোয়েটদের ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল ইংলিশরা। কিন্তু সময় সাথে অনেক কিছুই বদলে গেছে।

তাই দুই দলের মোট ৭ ম্যাচে ২ হারের বিপরীতে ৪ ম্যাচে জয় পাওয়া ব্রিটিশদের এগিয়ে রাখাটাও বেশ কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে আজ।

Source: Carpe Diem

তবে এই দুই দলের পরিসংখ্যান আর ক্রোয়েশিয়ার পরপর দুই ম্যাচে ২৪০ মিনিট ফুটবল খেলার প্রভাবটা বাজির দরেও বেশ ভাল ভাবেই পড়েছে।

ইংলিশরা নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই ম্যাচ জিতবে এই মর্মে বাজির দর ১১/৮ (২.৩৮)।

আর কোন কোন বাজির সাইটতো আবার এই দরকে এক ধাক্কায় ৬/১ (৭.০) তে নিয়ে গেছে। তবে ক্রোয়েশিয়ার জয়ের পক্ষে বাজি ধরার ব্যাপারে বেশি একটা উৎসাহ লক্ষ করা যাচ্ছে না বাজিকরদের মধ্যে।

ক্রোয়েটদের জয়ের পক্ষে দর রাখা হয়েছে ২৩/১০ (৩.৩০)।

সম্বাব্য একাদশ:

ইংল্যান্ড
ফরমেশন: ৩-৩-২-২
শুরুর একাদশ: পিকফোর্ড; ওয়াকার, স্টোনস, ম্যাগুয়ের; ট্রিপিয়ার, হেন্ডারসন, ইয়ং; লিনগার্ড, আলি; কেন, স্টারলি

ক্রোয়েশিয়া
ফরমেশন: ৪-৩-৩
শুরুর একাদশ: সুবাচিচ; ভিদা, কিরলুকা, লভরেন, স্ত্রিনিচ; মদরিচ, রাকিতিচ, ক্রামারিচ; প্যারিসিচ, র‍্যাবিচ, মানজুকিচ

ইংলিশরা নিজেদের দ্বিতীয় ফাইনাল খেলবে নাকি ক্রোয়েটরা নিজেদের প্রথম ফাইনাল? এটিই এখন ফুটবল দুনিয়ার জন্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আর এই প্রশ্নের উত্তর একমাত্র আজ রাতের লুঝনিকি স্টেডিয়ামই দিতে পারবে, অন্য কেউ না।

 

, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,