বিশ্বকাপ ২০১৮ঃ ১৯ বছরের এক বালকের কাছে আর্জেন্টিনার অশ্রুশিক্ত বিদায়

অনেক হিসেব-নিকেশ আর সমীকরণের পর আমরা ২০১৮ বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট পেয়েছি।চার দশক পরে ফ্রান্স কি মধুর প্রতিশোধই না নিল!, তারা কাজানে আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ গোলে পরাস্ত করে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় জানাল।

বিশ্বকাপ ২০১৮ঃ ১৯ বছরের এক বালকের কাছে আর্জেন্টিনার অশ্রুশিক্ত বিদায়
Source: 4Chan

রেফারির বাঁশি বাজার সাথে সাথেই খেলায় একপ্রকার উত্তেজনার আভাস পাওয়া যায়।খেলার ৩ মিনিটের মাথায় মাঝমাঠে মেসি পরে যায় আর এদিকে ম্যাশ্চেরেনো ও রেফারির মাঝে কিছু উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ঘটে।পরিস্থিতি এমন অবস্থায় ছিল যে, “আমরা আমাদের হাত থেকে বিন্দুমাত্র সুযোগ হাতছাড়া হতে দিব না।“ রেফারি আর্জেন্টিনার পক্ষে ফ্রি-কিক দেয় এবং তা হতে অসাধারণ তেমন কিছুই ঘটল না।

এরপর খেলার ৫ মিনিটে ফ্রান্স আক্রমণে যায়।উল্লেখযোগ্য যে আজকের ম্যাচে ফ্রান্স ৪-২-৩-১ ফরমেশনে এবং আর্জেন্টিনা ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেলেছিল।এরপর অবশ্য আর্জেন্টিনাও প্রতিআক্রমণে গিয়েছিল।

খানিক বাদে ৭ মিনিটে মাঝমাঠ হতে এম্বাপে অনেক ক্ষিপ্র গতির সহিত বল নিয়ে আর্জেন্টিনার ডি-বক্সের দিকে দৌড়ে যায়।কিন্তু ম্যাশ্চেরানো তার দিকে হরকাইয়ে পড়িলে এম্বাপেও পড়ে যায়।কোন প্রকার বিলম্ব ছাড়াই রেফারি ফ্রি-কিকের জন্য বাশিতে ফু দেয়।

বিশ্বকাপ ২০১৮ঃ ১৯ বছরের এক বালকের কাছে আর্জেন্টিনার অশ্রুশিক্ত বিদায়
Source: The Independent

 

এমন মনে হচ্ছিল যে পোগবা ফ্রি-কিকিটি নিতে যাচ্ছিল।কিন্তু এমনটি আর হল না।গ্রিজম্যান সুচুতুর ভাবে বলকে হাওয়ায় ভাসিয়ে শট নেয় এবং দুর্ভাগ্য বশত তা গোলপোস্টে লেগে ফেরত আসে।কিন্তু তার এমন প্রচেষ্টার প্রশংসা করতেই হয়।

এরপর আবার এম্বাপে একটি দূর্বল পাসের বলকে অনেক গতির সাথে আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সের দিকে ছুটে চলে।কিন্তু আফসোস! মারকোস রোজো তাকে সেই পেনাল্টি বক্সের ভিতরে ফাউল করে বসে।এটা পরিষ্কার ভাবেই ফাউল ছিল এবং ইরানি রেফারির তাতে কোন সন্দেহ ছিল না।তিনি সাথে সাথেই তা পেনাল্টি দিয়ে দেন।অবশেষে ফ্রান্সের কাছে একটি সোনালী সুযোগের হাতছানি আসল।

পেনাল্টি নেওয়ার জন্য গ্রিজম্যান আসল।সে আরমানির ডাইভের জন্যই অপেক্ষা করছিল।আরমানি গ্রিজম্যানের ডানদিকে ডাইভ দিলে গ্রিজম্যান চালাকি করে তা সোজা কিক নেয় এবং তা গোলে রূপ নেয়।এভাবেই ফ্রান্স ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

ওহ! আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা সম্ভবত পণ করেই মাঠে নেমেছিল যে তারা পেনাল্টি বক্সের কাছেই আজ ফাউল করবে।আবার ১৯ তম মিনিটে তালিয়াফিগো পেনাল্টি বক্সের কাছাকাছিই এম্বাপেকে লেঙ মেরে বসে। এবার অবশ্য রেফারি তাকে হলুদ কার্ড দেখায় এবং এবার পোগবা ফ্রি-কিকটি নেয়। কিন্তু আর্জেন্টিনা আরো একবার বেঁচে গেল।

বিশ্বকাপ ২০১৮ঃ ১৯ বছরের এক বালকের কাছে আর্জেন্টিনার অশ্রুশিক্ত বিদায়
Source: GiveMeSport

আর্জেন্টিনাও অনেক প্রতিআক্রমণ চালায়। কিন্তু বেশিরভাগই সঠিক নিশানায় ছিল না অথবা ফ্রান্সের রক্ষণভাগের খেলোয়ারেরা তা ভাল্ভাবেই প্রতিহত করে। এই রকম সময় বেশিক্ষণ স্থায়ী ছিল না। খেলার ৪১ তম মিনিটে ডি মারিয়ে লোরিসের বা দিকে উচু করে বল ভাসিয়ে মারলে লোরিস আর তা আটকাতে পারে নি। এই গোলের দূরত্ত্ব ছিল ৩০.২ গজ যা কিনা এই বিশ্বকাপের সবথেকে দুর-পাল্লার গোল। এরপর উভয় দলই খেলার অর্ধেক সময়ে ১-১ সমতা নিয়ে বিরতিতে যায়।

আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়ার্ধ বল তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলতে থাকে যার ফলাফল তারা খানিক বাদেই পেয়ে যায়। এই গোলটি কিছুটা হলেও ভাগ্যের জোরে পাওয়া। কারণ মেসি যখন দান দিক থেকে শটটি নেয় তা প্রায় গোলকিপারের হাতে গিয়েই পড়ত। কিন্তু মারকেদোর বা পায়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে বল লেগে তা গোল হয়ে যায় এবং গোলকিপারের ওই সময় তেমন কিছুই করার ছিল না। কিন্তু গোল তো গোলই। এই ঘটনাটি ঘটে খেলার ৪৮ তম মিনিটে।

এর পরের ভ্রমণটি আর্জেন্টিনার জন্য সুখকর ছিল না। তারা ৫৭ মিনিটেই খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনে। এবার তারা বা দিক থেকে শিকারে যায়। বা দিক থেকে ক্রস এসে পাভার্দের কাছে পৌঁছায় এবং এর পরেই সম্ভবত দর্শকেরা এবারের আসরের সবথেকে দৃষ্টিনন্দন গোলের সাক্ষী হয়। এটা ছিল এক প্রকার প্রতিভার নৈপূন্য। সে সম্ভবত ভলিকে আবার নতুনভাবে আবিষ্কার করল!

বিশ্বকাপ ২০১৮ঃ ১৯ বছরের এক বালকের কাছে আর্জেন্টিনার অশ্রুশিক্ত বিদায়
Source: SB Nation

এর পরের গল্পটি আর্জেন্টিনার জন্য এক নির্দয়ের গল্প। ১৯ বছরের এক বালক একাই আর্জেন্টিনার ঘাটিতে সব ধ্বংস চালায়। সে ঝড়ের ন্যায় আবির্ভূত হয় এবং ২ টি গোল করে। সে এবারের আসরেরও সব থেকে কম বয়সী এক ম্যাচে দুই গোল করা খেলোয়াড়।

হারনান্দেজ বা দিক থেকে শট নেয়। মাতউইদি শট নিলে তা আবার এম্বাপের কাছে ফিরে আসে। কিন্তু এম্বাপে এবার সরাসরি শট না নিয়ে সামনের দিকে কিছুটা বল ঠেলে নিয়ে একটু জায়গা করে নেয়।এরপর সে শট নেয় এবং তা গোলকিপারকে পরাস্ত করে। এটা ছিল তার ম্যাচের ১ম গোল যা সে বাম পা এ শট নিয়ে করেছিল। এরপর ৬৮ মিনিটে মাতউইদি জিরুদের কাছে বল পাস করে এবং জিরুদ নিঃস্বার্থভাবে তা আবার এম্বাপের কাছে দেয়। এখন আপনি আবার কি ভাবতে পারেন? আরেকটি গোল! হ্যা, ঠিকই। এম্বাপে আবার তার ২য় গোল সম্পন্ন করল।\

আমরা যদি আপনাদের এম্বাপে সম্পর্কে একটি পরিসংখ্যান দেই তাহলে আপনারা সহজেই অনুমান করতে পারবেন এম্বাপে কিভাবে প্রতি ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরে যদিও আপনাদের মাঝে অনেকে সমর্থকগণ মেসি বা রোনালদকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।

ফ্রান্সের হয়ে কাইলিয়ান এম্বাপেঃ

ম্যাচ গোল সহযোগিতা

১৯ ৭ ৫

বিশ্বকাপ ২০১৮ঃ ১৯ বছরের এক বালকের কাছে আর্জেন্টিনার অশ্রুশিক্ত বিদায়
Source: Twitter

অধিকন্তু সেই সকল ১৯ ম্যাচের মধ্যে ফ্রান্স ১২ টি তে জয় লাভ করে, ৪ টি ড্র করে আর বাকি ৩ টি তে পরাজয় বরণ করে।এই সকল তথ্য কি একজন ১৯ বছরের ছেলেকে যাচাই করার জন্য যথেষ্ট নয়?

আর্জেন্টিনায় অনেক নামকরা খেলোয়াড় ছিল। অবশ্যই আগুয়ারো, ডি মারিয়া অনেক বড় নাম। সত্যি বলতে আর্জেন্টিনার এই দলটি আমাদের দেখা মতে সব থেকে ভারসাম্যহীন দল ছিল। কিন্তু মেসিকে ছাড়া তারা এই পর্যন্তও আসঅতে পারত না। মেসি একা কখনো স্কোর করতে পারে না। কারণ যখন সে বল নিয়ে আগায় প্রতিপক্ষ দলের ৩-৪ জন সবসময়ই তাকে আটকানোর চেষ্টা করে।

যদি কাউকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয় তাহলে তা সাম্পাওলিকে করা উচিত। আপনারাও কি তাই মনে করেন? তাহলে আপনারা আমাদের জানাতে পারেন।

, , , , , , , , , , , , ,