বিশ্বকাপ ২০১৮ঃ ইংল্যান্ড বনাম সুইডেন ম্যাচ প্রিভিউ

রাশিয়া ২০১৮ বিশ্বকাপের শেষ চারে নিজেদের স্থান ধরে রাখার জন্য সুইডেন এবং ইংল্যান্ড আগামী শনিবার রাশিয়ার সামারা এরিনাতে একে অন্যের মুখোমুখি হবে। বেশ অনেক বছর পর এই দুই দল সেমিফাইনালে তাদের স্থান ধরে রাখার জন্য লড়াই করবে। ইংল্যান্ডের সাপোর্টাররা বিশ্বাস করে যে তাদের গত ৫২ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে। কিন্তু একগুঁয়ে সুইডেন এর একটাবদ অভ্যাস রয়েছে ,বিগত যতগুলো প্রতিযোগিতায় তারা ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হয়েছে মোটামুটি সবকটাতেই ইংল্যান্ডকে পরাস্ত করেছে। ইংল্যান্ডের সাথে এখন পর্যন্ত তারা আটবার প্রতিপক্ষ হিসেবে খেলেছে যেখানে তারা শুধুমাত্র একবার ইংল্যান্ড এর কাছে পরাজিত হয়েছে। সুইডেন নকআউট পর্বে সুইজারল্যান্ড এর সাথে ১-০ গোলে জয়লাভ করে শেষ আটে তাদের স্থান অর্জন করে নেয়। এই জয়ের প্রায় সম্পূর্ণ কৃতিত্বই এমিল ফর্সবার্গের। সুইডেনের যে একটি শক্তিশালী রক্ষণভাগ রয়েছে সেটার প্রমাণ তারা অনেক আগেই দিয়েছ । তারা এখন পর্যন্ত চার ম‍্যাচে সবগুল ম্যাচে জয়লাভ করেছে। জার্মানি একমাত্র দল যারা তাদের রক্ষণভাগকে ভেঙে দিয়ে তাদের জালে বল জড়াতে পেরেছিল।

Source: Youtube

সুইডেন গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউট রাউন্ড শুরু করে। তাদের আত্মবিশ্বাস এবং পূর্বের খেলা গুলো দেখে মনে হচ্ছে তারা এবার ইংলিশ স্বপ্নকে ভেঙ্গে দিবে।

নকআউট রাউন্ডে কলম্বিয়াকে ৪-৩ গোলে পেনাল্টি শুট আউটে হারানোর কারণে ইংলিশ শিবিরে আবার চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। এবার তারা যে আত্মবিশ্বাসের সাথে খেলছে সেটা দেখে মনে হচ্ছে এই টুর্নামেন্টের তারা আরও বহুদূর যেতে সক্ষম। ইংল্যান্ড দলের মধ্যে এরকম আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রম তাদের আগের কোন টিমে পরিলক্ষিত হয়নি। তারা যদি তাদের এই মনোভাবকে ধরে রাখতে পারে তাহলে টুর্ণামেন্টে আরো অনেক দূর যেতে পারবে।

Source: Bustle

ফ্রেঞ্জি, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইংল্যান্ডের মানুষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে যাচ্ছে। অন্যদিকে হ্যারি কেন এবং কো এর মতে তারা শিরোপার খুব সন্নিকটে চলে এসেছে । কলম্বিয়াকে পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে ইংল্যান্ড শিবিরের মধ্যে একটি আলাদা আত্মবিশ্বাস এবং উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়াও মস্কোতে কলম্বিয়ার সাথে তাদের নকআউট পর্বের ভুলভ্রান্তি গুলো শেষ সময় তারা ঠিক করে নিচ্ছে। ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার জন্সটন তার সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টে বলেছেন অনেক বছর হয়ে গেল ইংল্যান্ডের মানুষ একটা জয়ের স্বাদ পায় না আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে এবার ইংল্যান্ডের মানুষকে, আমার পরিবারকে একটা জয় এনে দেওয়ার।

শেষবার ইংল্যান্ড ১৯৬৬ সালে ওয়ার্ল্ড কাপ শিরোপা হাতে ধরেছিল। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত শুধু তারা তাদের সাপোর্টারদের কাছ থেকে তিরস্কারই পেয়েছে। এছাড়া ২০১৬ ইউরো চ্যাম্পিয়ানে আইসল্যান্ড এর কাছে লজ্জাজনক হার এবং ব্রাজিল বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ পড়ে যাওয়াটাও তাদের সাপোর্টারদের তাদের প্রতি আরও খারাপ মনভাব তৈরি করে তুলে।

কলম্বোর সাথে পেনাল্টিই গুট আউট এর সময় ২৩.৬ মিলিয়ন দর্শক একসাথে তাদের খেলা উপভোগ করেছিল, যেটা কিনা তাদের রাজকীয় বিয়ের দর্শকের থেকেও অনেক গুণ বেশি। এর থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে ইংল্যান্ড এবারের বিশ্বকাপে তাদের দেশের মানুষের সমর্থন সহ গোটা বিশ্বের মানুষের সমর্থন জোগাড় করতে সক্ষম হয়েছে। ইংল্যান্ড দলের বিভিন্ন খেলোয়াড় তাদের সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টে বিভিন্নভাবে তাদেরকে সাপোর্ট করার এই ঘটনাগুলোকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন । ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়ার বলছেন, এটা দেখে খুবই ভাল লাগে যে আমার দেশের লোকজন পুনরায় আমাদেরকে আবার সাপোর্ট করছেন এবং তাদের সংখ্যা বহুগুণ। শহরের বিভিন্ন পাব গুলোতে দর্শক একত্রে জড়ো হয়ে যে খেলা গুলো দেখছেন সেগুলো ভিডিও তারা সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখে খুবই আনন্দিত এবং দেশের মানুষের এই ভাবে তাদেরকে সমর্থন জানানোর ব্যাপারটা আগামী খেলায় তাদের অনেক বড় ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি মনে করেন। গ্রুপ পর্ব শেষ করা ঠিক চার দিনের মাথায় কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইডেনের সামনাসামনি হওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে নিতে তারা খুব কমই সময় পেয়েছেন। আর অন্যদিকে ইংল্যান্ডের অনেকেই এখনই সেমিফাইনালে রাশিয়া অথবা ক্রোয়েশিয়া কে মোকাবেলা করার জন্য পরিকল্পনা করে ফেলেছেন।

কোয়ালিফাইং রাউন্ডে সুইডেন, ইতালি এবং নেদারল্যান্ড কে হারিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল। কিন্তু সেটা সুইডেনের জন্য মোটেও সহজ কাজ ছিল না। কিন্তু এরপরে আমরা যেটা দেখতে পাই তা হচ্ছে জার্মানির মতো পরাশক্তিকে পরাজিত করে গ্রুপ শীর্ষ হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে সুইডেন তাদের শক্ত স্থান দখল করে, ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের সিরপা অর্জনের স্বপন দেখছে।

পানামার সাথে ৬-১ গোলের ব্যবধান ইংল্যান্ডকে উন্মুক্তভাবে খেলা থেকে বিরত রাখতে পারে ,কারণ উন্মুক্তভাবে খেলতে গেলে তাদের গোল পাবার সম্ভাবনা কম রয়েছে। তাদের বিগত খেলা গুলো দেখলে আমরা যেটা বুঝতে পারি ইংল্যান্ড এখন পর্যন্ত যে সাতটি গোল করেছে তার বেশিরভাগই এসেছে পেনাল্টি শুট আউট থেকে অথবা সম্মিলিত প্রচেষ্টা থেকে ।

Source: World Sport News

কাগজে-কলমে ইংল্যান্ডের বেশ কিছু ভালো প্লেয়ার রয়েছে, এজন্য আমরা তাদেরকে ছাড় দিয়ে খেলতে চাই বলছেন সুইডেনের অধিনায়ক অ্যান্ড্রিয়াস গ্র্যান্ড । তিনি আরো বলছেন আমরা যদি আমাদের বিগত খেলা গুলোকে দেখি তাহলে দেখতে পাব আমাদের প্রতিপক্ষ সবসময় বল গুলোকে তাদের কাছে রাখতে সক্ষম হয়েছে কিন্তু আমরা যখনই কোনো সুযোগ পেয়েছি সেটাকে কাজে লাগিয়েছি এবং সেটাকে কাজে লাগিয়ে আমরা আমাদের জয়কে ছিনিয়ে এনেছি।

সুইডেন পাল্টা আক্রমণ করতে বেশ পটু সেদিকে খেয়াল রেখে অবশ্যই ইংল্যান্ডকে তার পরিকল্পনা সাজাতে হবে কারণ ৫২ বছর পরে শিরোপার হাতছানি কোনভাবেই ইংল্যান্ড নষ্ট হতে দেবে না।

, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,