বিশ্বকাপ সেমি-ফাইনাল ২০১৮ঃ ফ্রান্সের কলা কৌশলের কাছে বেলজিয়ামের পরাজয়

সেইন্ট পিটারসবার্গে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমি-ফাইনাল নিয়ে আমাদের অনেক আশা ছিল। আমাদের মাঝে অনেকেই সম্ভবত ভেবেছিল যে এই ম্যাচটি একটি চরম উত্তেজনাকর ম্যাচ হবে।

কিন্তু খেলা দেখার পর কেউ অস্বীকার করতে পারবে না যে এই ম্যাচ আসলেই উত্তেজনায় ভরপুর ছিল!

Source: Mirror

 

এই কথা বলার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। আপনারাও খুব সহজে তা বিশ্লেষণ করতে পারবেন।

আপনি কি জানতেন, “পল পগবা এই জয়কে থাইল্যান্ডে উদ্ধারকৃত ১২ জন ক্ষুদে ফুটবলারকে উৎসর্গ করেছে?”

বেলজিয়াম এর আগে ১৯৮৬ সালে একবার সেমি-ফাইনাল খেলেছিল। ৩২ বছর পর আরো একবার তারা সেমি-ফাইনালে। সুতরাং বেলজিয়ান দল এবং সমর্থকেরা একটু উত্তেজিত থাকবেন এটাই স্বাভাবিক।

এই ধরনের বড় ম্যাচগুলোতে একজন কোচ সবসময় তার খেলোয়াড়েরা ভাল খেলবে সেটাই চাবেন।

কিন্তু আপনি যদি গতকালকের ম্যাচ দেখে থাকেন তাহলে খুব সহজেই বুঝতে পারবেন যে লুকাকু গতকাল তারা সেরা ছন্দে ছিল না।

একজন খেলোয়াড় যিনি কিনা গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো থেকেই ভাল খেলছে এবং গতকাল তিনি সেমি-ফাইনালে হঠাত করেই নিজের সেরা খেলা দেখাতে পারেন নি।

এই ধরণের ঘটনা বেলজিয়ামের জন্য সত্যিই অনেক কষ্টদায়ক ছিল।

বেলজিয়ামও গতকাল থমাস মুনিইয়েরের অভাবকে অনেক ভালভাবে টের পেয়েছে।

তিনি গতকালকের ম্যাচ খেলতে পারেন নি কারণ তিনি এর মাঝেই দুটো হলুদ কার্ড পেয়েছে। যার জন্য তিনি এক ম্যাচ নিষিধ ছিলেন।

ম্যাচের পূর্বে অনেকেই ভেবেছিলেন যে বেলজিয়াম বোধ হয় ৪-২-৩-১ ফরমেশনে খেলতে যাচ্ছে।কিন্তু রবার্তো মার্টিনেজ একটু অন্য কিছুই হয়ত ভেবেছিলেন। যার জন্য তিনি ৩-৫-২ ফরমেশনে দলকে সাজালেন।

এই ফরমেশন নিয়ে ফ্রান্সের ৪-২-৩-১ ফরমেশনের বপক্ষে খেলা মোটেও সহজ ছিল না। এই ধরণের ফরমেশন নিয়ে তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে খেলা যায়।

আমরা গতকাল ডেম্বেলেকে মুনিয়েরের পজিশনে খেলতে দেখেছি। ডেম্বেলে মাঝ মাঠে খেলার খেলোয়াড়। অন্যদিকে মুনিয়ের ডান দিকের “উইং ব্যাক” পজিশনে খেলতে অভ্যস্ত।

আপনি কি কোন কিছু আন্দাজ করতে পারছেন? এই ধরণের কথা গতকাল অগণিত দর্শকদের মাঝেও ছিল।

পরিশেষে ডেম্বেলে তার স্বভাবজাত খেলা আর খেলতে পারে নি।

এর মানে এই নয় যে বেলজিয়াম অনেক খারাপ খেলেছে।

তারাও অনেক চেষ্টা করেছে। ম্যাচ চলাকালীন ১৯ তম মিনিটে হ্যাজার্ড যখন আক্রমণে যায় তখন কেই বা ভেবেছিল যে বল ভেরানের দ্বারা প্রতিহত হবে।

এর আবার ঠিক ৩ মিনিট বাদেই বেলজিয়াম কর্ণার থেকে তাদের প্রথম গোল করতে পারত। কিন্তু গোলরক্ষক লরিসের একান্ত প্রচেষ্টায় অ্যালডারউইইয়ারল্ডের শটও তিনি প্রতিহত করনে।

Source: DNA India

 

যদিও ফ্রান্স ম্যাচটি জিতে যায় কিন্তু তারা আহামরি কোন ফলাফলই দেখাতে পারে নি। তারা প্রথমার্ধেই অনেকগুলো সুযোগ মিস করে।

সম্ভবত কেউই এই ধরণের সুযোগ মিস করা আশা করে না। ফ্রান্স আরো ৩ গোল বেশি দিতে পারত যাদি পাভার্ড এবং বিশেষ করে জিরোদ তাদের স্বর্ণালী সুযোগগুলো মিস না করত।

অনেক ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর, অবশেষে সফলতা ফ্রান্সের হাতে এসে ধরা পড়ল। খেলার ৫১ তম মিনিটে, স্যামুয়েল উমতিতির অসাধারণ হেড ফ্রান্সকে ১-০ গোলের লিড এনে দেয় যেখানে কর্নারটি গ্রিজম্যান নিয়েছিল।

Source: The Australian

 

৫১ তম মিনিটে গোল খাওয়ার পর এটা পরিষ্কারভাবেই দেখাচ্ছিল যে হ্যাজার্ড একা দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু তাকে ডি-বক্সের সামনেই বারাবার ফাউল করা হচ্ছিল এবং রেফারি সেগুলো ফাউল দিতে যথেষ্ট আগ্রহী ছিল না। অন্তত সে নেইমার না!

খেলা শেষ হওয়ার অতিরিক্ত সময়ে ফ্রান্সের সময় নষ্ট করার একটি প্রচেষ্টা দেখা যায় যেহেতু তারা বেলজিয়ামের থেকে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল।

আপনারা আরো লক্ষ্য করে থকবেন যে এম্বাপেও খেলার শেষ মুহূর্তে একটি হলুদ কার্ড পায়।

কোন কিছুই অতোটা প্রভাব রাখবে না যদি আপনি ম্যাচ জিতেন এবং ফ্রান্স সেই কাজতাই করেছে। এখন দেখার বিষয় রবিবার তাদের বিপক্ষে কারা খেলতে যাচ্ছে।

সেই দল কি ক্রোয়েশিয়া হবে নাকি ইংল্যান্ড? আপনারা কি আশা করেন?

 

, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,