বিশ্বকাপ সেমি-ফাইনাল ২০১৮ঃ ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্নকে মাটি চাপা দিল ক্রোয়েশিয়া

অবশেষে ইংল্যান্ডকে বাড়ি যেতে হচ্ছে এবং একই সাথে ক্রোয়েশিয়া তাদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌছেছে।  

স্পষ্টত ফুটবল আর বাড়ি আসছে না কিন্তু ইংল্যান্ডের ঠিকই বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে। এই নিয়ে পাঁচ বারের ভিতর চার বারই তাদের বড় কোন আসরের সেমি-ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।

ইংল্যান্ড কেন এই সেমি-ফাইনাল অংশ পার হতে পারে না তার কোন সঠিক উত্তর নেই। কিন্তু ব্যাপারটা এমন হচ্ছে যে মাঝে মাঝে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস আপনার জন্য মঙ্গলের বদলে খারাপ বয়ে আনতে পারে।

আপনারা অবগত আছেন কিনা, “এই বিশ্বকাপে ৩য় বারের মত ক্রোয়েশিয়া খেলাকে ৯০ মিনিট পরেও আরো অতিরিক্ত সময়ে নিয়েছে?”

Source: NY Times

প্রথম খেলা ছিল শেষ ১৬ এর ডেনমার্কের বিরুদ্ধে এবং পরবর্তী ম্যাচ ছিল কোয়ার্টের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া-রাশিয়া ম্যাচে।

থ্রি লায়ন্সদের জন্য শুরুটা ভালই ছিল। পাঁচ মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে তারা ক্রোয়েশিয়ার ডি-বক্সের বৃত্তের কাছাকাছি একটি ফ্রি-কিক পায়। ফ্রি-কিকটি নেওয়ার জন্য ট্রিপার ও ইয়ং বলের পেছনে যায়।

এরপর ট্রিপারের বাঁক নেওয়া শটটি ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার সুবাসিককে ফাঁকি দিয়ে নিজে জালে জড়ায়।

Source: Yahoo Sports

এই গোল করার মাধ্যমে ট্রিপার ইংল্যান্ডের ২য় খেলোয়াড় হিসেবে নক-আউট পর্বে ফ্রি-কিক থেকে গোল পায়। এর আগে শুধুমাত্র ডেভিড বেকহাম ২০০৬ সালে ইকুয়েডরের বিপক্ষে এই কীর্তি করেন।

গোল করার পর মনে হচ্ছিল ইংল্যান্ড এই ম্যাচে রাজত্ত্ব করতে যাচ্ছে। কারণ মুহুর্মুহু ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগে আক্রমণ চালাচ্ছিল।

সব থেকে সেরা সুযোগটি আসে ২৯ তম মিনিটে যখন হ্যারি কেন তার নিজের গোল করার সেরা সুযোগটিকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। যাদিও সুবাসিক বলের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

Source: Bridge Ward

এটিই একমাত্র ব্যর্থতা ছিল না। কেনের ওই সুযোগ হাতছাড়ার কিছুক্ষণ বাদেই লিনগার্ড বল মিসের এই দলে যোগ দেয়। তার নেওয়া শটটি অন্তনপক্ষে বারেও লাগে নি। গোলপোস্ট থেকে ওটা এতোটাই দূরে ছিল যে সুবাসিক তা ধরার চেষ্টাই করল না।

গোলপোস্টের দিকে বল না আসলে কেই বা যাবে ওই বল ঠেকাতে? উত্তর হচ্ছে কেউই না। সম্ভবত কেন ও লিনগার্ড তাদের এই সোনালী সুযোগ মিস করার জন্য আফসোস করছে।

ক্রোয়েশিয়াও তাদের সুযোগের জন্য অপেক্ষা করছিলঃ

আপনারা তো এই প্রবাদ বাক্যটি নিশ্চই শুনেছেন, “ঝোপ বুঝে কোপ মারো।“ ক্রোয়েশিয়া ঠিক সেই কাজটিই করেছে।

অবশেষে ক্রোয়েশিয়ার সেই কাঙ্খিত সুযোগটি চলে আসে। ভিরসাজকোর দান দিক থেকে নেওয়া ক্রসটি পেরেসিকের কাছে যখন পৌঁছল তখন পেরেসিকের বা পায়ে বাড়ানো শট পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে গোলপোস্টের ভিতর চলে যায়।

Source: NY Times

এরই মাধ্যমে ক্রোয়েশিয়া খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনে এবং তাদের মাঝে কিছুক্ষণের জন্য হলেও কিছুটা সান্ত্বনা চলে আসে।

পেরেসিক ৭২ মিনিটে আরো একটি গোল করতে পারত। যদিও তার নিচু করে নেওয়া শটটি পিকফোর্ডকে ফাঁকি দিয়েছিল, তা পরে গোল বারে গিয়ে আঘাত করে। এরপর বল বারে লেগে মানজুকিচের কাছে ফেরত আসে এবং সে সরাসরি পিকফোর্ডের হাত বরাবর শট নেয়।

৯০ মিনিট পরে খেলার স্কোর দাঁড়াল ১-১। সুতরাং নিয়মানুযায়ী খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়াল।

যথা সময়ে আবার খেলা শুরু হল। পা গুলো অনেক ক্লান্ত ছিল, পেশিগুলো টানটান হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তাদের মাঝে জিতার ক্ষুধা এখন রয়ে গিয়েছে।

তারা নিজেদের সহ্যশক্তিকে অতিক্রম করে এবং অবশেষে ১০৯ তম মিনিটে মানজুকিচ গোল করে। যদিও সে অনেক সুযোগ মিস করে।

Source: NY Times

এরপর শুধুই উদযাপন এবং তা এখনও চলছে। অভিনন্দন ক্রোয়েশিয়া!

 

 

 

, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,