বিশ্বকাপ ফাইনাল ২০১৮: ফ্রান্স নাকি ক্রোয়েশিয়া? কার হাতে উঠতে যাচ্ছে স্বপ্নের শিরোপা?

আর মাত্র কিছু সময়ের অপেক্ষা। তার পরেই পর্দা নামতে যাচ্ছে “দ্যা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ” এর। আর ফুটবল বিশ্ব পেতে যাচ্ছে তার নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে। অনেক জল্পনাকল্পনার পরে অবশেষে ফ্রান্স বনাম ক্রোয়েশিয়ার অল-ইউরোপ ফাইনালে ২০১৮ বিশ্বকাপের শিরোপা নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে আজ।

Source: Youtube

আজ রাতে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে শুধু বিশ্বকাপের বিদায়ী পর্দা নামছে তা নয়, সেই সাথে ইতি ঘটছে হাজারো স্বপ্নের আর জন্ম নিচ্ছে অসংখ্য নতুন সম্ভাবনা। কিন্তু যত ঘটনাই ঘটুক না কেন, ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে শিরোপাধারী দলের নামটাই শুধু লেখা থাকবে।

আর কে হবে সেই বহুল প্রতিক্ষিত শিরোপার মালিক? নিঃসন্দেহে এটাই এখন সারা বিশ্বের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। যাদের নিয়ে এই প্রশ্ন চলুন শেষ বারের মত তাঁদের হাল হাকিকত জেনে নেই।

বাজির দর

প্রথমেই আলোচনায় আসি ফাইনালের বাজির দর নিয়ে। আসলে কার হাতে উঠবে সোনা দিয়ে মোড়ানো ট্রিফিটি? এই প্রশ্নে উপরে এই মূহুর্তে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হচ্ছে সারা বিশ্বে। সেই বিনিয়োগের হিসাবটাই এখন সহজ করে দিচ্ছি আপনাদেরকে।

ফ্রান্সের জয়ের পক্ষে বাজির দর হল $১১০। অর্থাৎ ফ্রান্স চ্যাম্পিয়ন হলে $১০০ জিততে আপনাকে ১১০ ডলারের বাজি ধরতে হবে। আর অন্য দিকে ক্রোয়েশিয়ার জয়ের বাজিটা বেশ মোটা অংকের। তাঁদের জয়ের দর হল $৩৬০। এর মানে হল ক্রোয়েশিয়া চ্যাম্পিয়ন হলে আপনি আপনার ১০০ ডলারের ঝুকির বিনিময়ে পাবেন ৩৬০ ডালার। এখন বুঝে দেখুন এই ভাগ্যের খেলায় কোন দলের পক্ষে যাবেন বা আদৌ যাবেন কি না।

শেষ পর্যালোচনা

ফ্রান্স

এবারের আসরে সবচেয়ে সুসংগঠিত কোন দল যদি থেকে থাকে তবে সেটা নিঃসন্দেহে ফ্রান্স। কি নেই এই দলটায়! তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার অনন্য মিশেল, কার্যকারী সব খেলোয়াড়, সঠিক দিক নির্দেশনা; সব কিছুই এই ফ্রান্স দলটির মধ্যে বিদ্যমান।

আসলে ফ্রান্সের এই দলটি নিয়ে বাড়িয়ে বলার মত কোন শব্দই নেই। কারন তাঁরা নিজেদের ঠিক সেই উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

Source: Sporting News

অবশ্য বিশ্বকাপের শুরু থেকে কাগজে কলমের ফ্রান্স আর মাঠের ফ্রান্সের মধ্যে বেশ পার্থক্যই দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু সেই পার্থক্য তাঁরা ধুয়ে মুছে দিয়েছে নক আউট পর্বেই শুরুতেই আর্জেন্টিনাকে উড়িয়ে দিয়ে।

সেই ম্যাচ থেকেই ফুটবল বিশ্ব দেখতে পেয়েছে এমবাপ্পে-গ্রিজমান-পগবা-কান্তের মত খেলোয়াড়ের সম্মিলিত সেরা খেলাটা কেমন হতে পারে।

ফ্রান্সের শক্তির অন্যতম দিক হচ্ছে তাঁদের অতিমানবীয় গতি আর ক্ষিপ্র কাউন্টার এ্যাটাক। এখন পর্যন্ত তাঁরা সব প্রতিপক্ষের সাথে এই দুটি অস্ত্র ব্যবহার করেই যাবতীয় পার্থক্যটা গড়ে তুলেছে।

ফরাসিদের জন্য ফাইনালের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হতে পারেন তাঁদের কোচ দিয়েয়ের দেশম। এই দেশমের অধিনায়কত্বেই তো ২০ বছর আগে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলেছিল তাঁরা। বিশ্বকাপ ফাইনালের চাপের সাথে মানিয়ে নেয়ার কাজটা বেশ ভাল ভাবেই করে যাচ্ছেন কোচ দেশম।

অভিজ্ঞতার পাশাপাশি রণকৌশলটাও বেশ শক্তপোক্ত করেই সাজাবেন ফরাসি কোচ তাতে কোন সন্দেহ নেই।

আর সেই রণ পরিকল্পনায় খুব বেশি পরিবর্তন হয়তো আনতে চাইবেন না তিনি। তার সম্ভাব্য শুরুর একাদশের চেহারাটা হতে পারে এমন

ফরমেশন: ৪-৩-৩
সম্ভাব্য একাদশ: লরিস; পাভার্ড, ভ্যারান, উমতিতি, হার্নান্দেজ; কন্তে, পগবা, মাতুইদি; এম্বাপ্পে, গ্রিজমান, জেরু

ক্রোয়েশিয়া

২০১৮ সালের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমকের নাম ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯৮ সাল থেকে নিয়মিত বিশ্বকাপ খেলা ক্রোয়েটরা যে এবার ফাইনাল খেলবে এমনটা ভাবার লোক বিশ্বকাপের শুরুতে খুঁজে পাওয়া ছিল দুষ্কর।

কিন্তু নিজেদের ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা আর অসাধারণ ফুটবল দক্ষতা দিয়ে তাঁরা সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছে।

বিশ্বকাপের শুরু থেকেই পরিকল্পনা মাফিক ফুটবল খেলে আসা ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁদের মাঝমাঠ। লুকা মদরিচ আর ইভান রাকিতিচ মিলে ক্রোয়েটদের মাঝমাঠকে যেন পিয়ানোর সাদাকালো রিডে পরিণত করেছেন।

সেই পিয়ানোতে যে সুর বাজে তা প্রতিপক্ষের হৃদয়কে ক্ষত বিক্ষত করে দেয়।

Source: DNA India

শুধু মাঝমাঠই নয়, লভরেন-ভিদার মত অদম্য ডিফেন্ডাররা ক্রোয়েশিয়ার রক্ষন দেয়ালকেও করেছে নিশ্ছিদ্র। আর আক্রমন ভাগে থাকা মানজুকিচ-রেবিচরা প্রতিপক্ষের রক্ষনকে বেশ ভাল দুশ্চিন্তাতেই ফেলেছেন।

ক্রোয়েশিয়া পরপরর ৩ টি ১২০ মিনিটের ম্যাচ খেলে ফাইনালে উঠেছে। যেটা কি না বিশ্ব রেকর্ড।

কিন্তু এই ৩৬০ মিনিট ফুটবল খেলার ধকল আর ফাইনালের চাপ দুটোকে একসাথে কিভাবে সামলাবে তাঁরা সেটাই দেখার বিষয়।

তবে ক্রোয়েশিয়ার অদম্য মানসিক শক্তির কাছে এই সমস্যাটা তেমন পাত্তা পাবে বলে মনে হচ্ছে না।

অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার কোচ জলাতকো দালিচ ছিলেন এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে লো প্রোফাইল কোচ। যার খেলোয়াড়ি জীবনে বলার মত কিছুই নেই।

এমনকি জাতীয় দলেও সুযোগ পান নি। আর কোচিং ক্যারিয়ারেও আরব আমিরাতের লিগ শিরোপা ছাড়া তেমন কিছুই ছিল না তাঁর ঝুলিতে।

অথচ সেই দালিচই কিনা আজ আলোচনার কেন্দ্রে! এটাই ফুটবলের সৌন্দর্য।

ফ্রান্সের গতি রুখে দিতে কিছুটা ডিফেন্সিভ রণকৌশল নিয়েই আগাবেন কোচ দালিচ তা অনুমান করাটা খুব কঠিন কিছু না। তাঁর সম্ভাব্য শুরুর একাদশের চেহারা হতে পারে এমন

ফরমেশন: ৪-২-৩-১
সম্ভাব্য একাদশ: সুবাসিচ; করলুকা, লভরেন, ভিদা, স্ত্রিনিচ; মদরিচ, রাকিতিচ; রেবিচ, কোভাচিচ, পেরেসিচ; মানজুকিচ

, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,