বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টেস্ট সিরিজ এর প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি্র হিসেবনিকেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে বিপর্যস্ত এক টেস্ট সিরিজ এর পরে দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত টেস্ট সিরিজটা ছিল  বাংলাদেশ টাইগারদের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। ১-১ সমতায় শেষ হওয়া সিরিজের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব মেলাতে আজকের আয়োজন।

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টেস্ট সিরিজ এর প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি্র হিসেবনিকেশ
Image Source: Yahoo Cricket

সিলেটের মাটিতে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ হেরে গেছে মূলত পিচের কন্ডিশন বুঝতে না পেরে। প্রথমবারের মত সিলেটে খেলতে নেমে অবিশ্বাস্যভাবেই বাংলাদেশের চাইতে জিম্বাবুয়ে পিচের কন্ডিশন ভালভাবে ধরতে পেরেছিলো। ফলাফল ১৫১ রানের বড় ব্যবধানে হার। তবে শুধু পিচের কন্ডিশন সম্পর্কে ভুল ধারণাই নয়, বরং ঢাকা টেস্টের আগে বাংলাদেশের ব্যাটিং পারফর্মেন্সও প্রশ্নবিদ্ধ ছিলো।

প্রথম টেস্টের প্রাপ্তির হিসাবে তিনজন বাংলাদেশী ক্রিকেটারের নাম আসবে। তাইজুল ইসলাম, আরিফুল হক এবং মেহেদি হাসান মিরাজ। প্রথম ইনিংসে ৬ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫, মোট ১১ উইকেট ছিনিয়ে নেয়া তাইজুলের নিঃসন্দেহেই বিজয়ী দলে থাকা উচিত ছিলো।

জিম্বাবুয়ের দুই ইনিংসে করা ৪৬৩(২৮২ আর ১৮১) রানের জবাবে বাংলাদেশ দুই ইনিংসের একটাতেও দুইশোর কোটা পার হতে পারেনি (১৪৩+১৬৯=৩১২)। এর মধ্যে ৪১ আর ৩৮ রানের দুটো ছোট, কিন্তু সাহসী ইনিংস দিয়ে অভিষিক্ত আরিফুল হক টেস্টে সাত নাম্বারের খরাটা দূর করার একটা আশা দিতে সক্ষম হয়েছেন। একজন পেস অলরাউন্ডার হিসাবে প্রথম টেস্টে মাত্র ৪ ওভার বল করলেও, দ্বিতীয় টেস্টে পিটার মুরকে আউট করার বলটাতে তিনি প্রমাণ করতে পেরেছেন- যথেষ্ট ভাল বল করার ক্ষমতা তার আছে।

আর মিরাজ খুব ধারাবাহিকভাবে দেখিয়ে দিচ্ছেন, সাকিবের জায়গাটা তিনি বুঝে নিতে পারবেন। প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তিন উইকেট আর সাকূল্যে ২১+৭=২৮ রান করলেও মাঠে তার উপস্থিতি চোখে পড়ার মত ছিল। স্লিপে তার ফিল্ডিং পুরো সিরিজ জুড়েই বাংলাদেশকে ভালো সার্ভিস দিয়েছে।

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টেস্ট সিরিজ এর প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি্র হিসেবনিকেশ
Image Source: banglavision.tv

ঢাকা টেস্টে অনেক কিছু দেখানোর ছিলো বাংলাদেশের। দেখিয়েছেন মুশফিক, মমিনুল, মাহমুদুল্লাহ, মিঠুন এবং আবারো মিরাজ ও তাইজুল। ইতিহাসের পাতায় ছোট-বড় অনেকগুলো নতুন পাতা যোগ করেছেন মুশফিক, সেটা নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন লেখা সম্ভব। মমিনুল তার ক্লাস চিনিয়েছেন ১৬১ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে।

মিঠুন আর মাহমুদুল্লাহ নিজেদের প্রমাণ করেছেন ক্রাইসিস ম্যান হিসেবে। বিপদের সময়ে ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। মুশফিকের ২১৯ রানের ম্যারাথন ইনিংসে সঙ্গ দিয়ে নিজের দ্বিতীয় টেস্ট অর্ধশতক তুলে নিয়েছেন মেরাজ, সাথে ম্যাচে উইকেট পেয়েছেন মোট ৮ টা(৩ আর৫)। তাইজুলের ভাগে এই ম্যাচে উইকেট পড়েছে ৭ টা(৫ আর২)।

টেস্টে ওপেনিং জুটি ভুগিয়েছে। তবে এটা মাথায় রাখা প্রয়োজন, জিম্বাবুয়ে নতুন বলে অসাধারণ বোলিং করেছে। বিশেষ করে তাদের পেসাররা। লিটনের দুটো আউট ছিল খুবই চমৎকার বলে। তবে ইমরুল কায়েস হতাশ করেছে। অবিশ্বাস্য এক ওয়ানডে সিরিজের পরে টেস্টের টেম্পারমেন্ট তার মধ্যে দেখা যায়নি।

বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টেস্ট সিরিজ এর প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি্র হিসেবনিকেশ
Image Source: CricketSoccer

পেসারদের মধ্যে প্রথম টেস্টে আবু জায়েদ রাহী আর দ্বিতীয় টেস্টে অভিষিক্ত খালেদ আহমেদের বোলিং বেশ আশা জাগিয়েছে। বিশেষ করে খালেদ আহমেদ- যদিও অভিষেক টেস্টে তার উইকেট প্রাপ্তির ঝুলি শূণ্য। কিন্তু এই শূণ্য পরিসংখ্যানে লেখা থাকবে না খালেদের বলে ছুটে যাওয়া তিনের অধিক সহজ ক্যাচের হতাশা কিংবা দুর্দান্ত পেসার সুলভ বাউন্সার আর সুইংয়ের কারুকার্য।

অন্যদিকে একমাত্র শেষ টেস্ট খেলা মুস্তাফিজকে সমীহ করেই খেলেছে জিম্বাবুয়ে, তাই ম্যাচ শেষে শন উইলিয়ামসের স্ট্যাম্প ভেঙে দেয়া স্বপের এক ডেলিভারির প্রাপ্তি নিয়েই সিরিজ শেষ করতে হয়েছে কাটার মাস্টারের। নতুন ও তরুণ পেস ট্রয়ো হিসেবে খালেদ-রাহী-মুস্তাফিজের ব্যাপারে নির্বাচকমণ্ডলী ও বিসিবি বিশেষ নজর দিলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্যে সেটা যথেষ্ট সুফল বয়ে আনবে।

ইতোমধ্যেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল বাংলাদেশে চলে এসেছে। নভেম্বরের ২২ থেকে শুরু হওয়া টেস্ট সিরিজ দিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জিম্বাবুয়ে সিরিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এই সিরিজে বাংলাদেশ আরো ভাল ফলাফল করুক, বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের জন্য অগ্রিম শুভকামনা।

, , , , , , , , , , , , , ,