বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ানডে সিরিজের খেরোখাতা

সিলেটে তৃতীয় ওয়ানডেতে সফরকারী ক্যারিবীয়দের ৮ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজটাও নিজেদের করে নিয়েছে টাইগার বাহিনী। যদিও দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে ঘুরে দাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল ক্যারিবীয়রা, তবে টাইগারদের শেষ ম্যাচের দাপুটে পারফরমেন্সের কারনে যথারীতি ধরাশায়ী হল সফরকারীরা ।

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ানডে সিরিজের খেরোখাতা
Image Source: Dhaka Tribune

সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ানডে সিরিজটা বাংলাদেশ দলের জন্যে আরো একটি সাফল্যের মাইলফলক হয়ে থাকলো। এই সিরিজ দিয়ে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে চতুর্থ বারের মত বিজয়ী দলের নাম হল বাংলাদেশ। আর দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি বেশ কিছু ব্যাক্তিগত অর্জনের জন্যেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে এই সিরিজ।

ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি। যদিও সেই আলোচনাটা মাঠের খেলার চাইতে বেশি ছিল ‘ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাসটিক’ এর মাঠের বাইরের নতুন ইনিংস রাজনীতি নিয়ে। তবে মাঠের মূল লড়াইয়ে নিজের পারফরমেন্স দিয়ে ঠিকই আলোচনাটা আবারো মাঠেই ফিরিয়ে এনেছেন ‘ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাসটিক’।

সিরিজ শেষে ৬ উইকেট নিয়ে মেহেদী মিরাজের সাথে হয়েছেন যৌথ ভাবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। আর সেই সাথে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে প্রথম ২০০  ম্যাচ খেলার রেকর্ড আর হাবিবুল বাশারকে টপকে দেশকে সর্বোচ্চ ৭০ ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দেওয়ার রেকর্ডটাও নিজের করে নিয়েছেন ‘ক্যাপ্টেন ম্যাশ’।

যদি সত্যিই ম্যাশ বিশ্বকাপের পরে অবসরে চলে যান, তবে দেশের মাটিতে তাঁর শেষ সিরিজেও বুঝিয়ে দিলেন, কেন তিনি বাংলাদেশ দলের জন্যে এখনও এক ‘আল্টিমেট চয়েজ’।

ক্যাপ্টেন ম্যাশের ব্যাক্তিগত অর্জনের এই সিরিজটা ‘পঞ্চপাণ্ডব’ এর অন্য কয় সদস্যের জন্যেও খারাপ ছিল না। আড়াই মাস ইঞ্জুরির কারনে দলের বাইরে থাকা তামিম ইকবাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরেছেন তাঁর স্বরুপেই। তিন ম্যাচে ৭১.৫ গড়ে করেছেন ১৪৩ রান, যার মধ্যে রয়েছে শেষ ম্যাচে ৮০ রানের ম্যাচ জেতানো এক নিখুঁত অপরাজিত ইনিংস। আর ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ মুশফিকুর রহিম করেছেন ১৩৩ রান।

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ানডে সিরিজের খেরোখাতা
Image Source: The Live Mirror

এদিকে, সিরিজ জুড়েই অতিমানবীয় ফর্মে থাকা উইন্ডিজ ওপেনার শাই হোপ দুই ‘ব্যাক টু ব্যাক’ সেঞ্চুরিসহ তিন ম্যাচে করেছেন ২৯৭ রান। দুই ম্যাচে অপরাজিত দুই সেঞ্চুরির কল্যানে হোপের গড়টাও ঐ ২৯৭ রান ই। যেখানে তাঁর দলের পুরো ব্যাটিং কার্ডটাই ‘নুন আনতে পানতা ফুরায়’ অবস্থা, যেখানে তাঁর এমন কীর্তি অসাধারণ বললেও কম হবে। আর তাই সিরিজ সেরার পুরস্কারটাও গেছে এই ত্রিনিদাদের এই তরুণের ঝুলিতে।

★সেরা দলীয় স্কোর- ২৫৬/৬ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ( দ্বিতীয় ওয়ানডে)
★সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর- ১৯৫ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ( প্রথম ওয়ানডে)
★সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত ইনিংস- ১৪৬* শাই হোপ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দ্বিতীয় ওয়ানডে)
★সেরা বোলিং ফিগার- ৪/২৯, মেহদী মিরাজ (তৃতীয় ওয়ানডে)
★ সর্বোচ্চ ব্যাক্তিগত রান- শাই হোপ, ২৯৭ রান ( গড় ২৯৭,০ ফিফটি, ২ সেঞ্চুরি)
★সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত উইকেট- ৬ উইকেট, মেহদী মিরাজ এবং মাশরাফি মুর্তজা

RelatedPost

, , , , , , , , , , , , , , ,

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।