বাংলাদেশ ওপেন গলফ ২০১৮: ঘরের ছেলেরা আবারো ব্যর্থ, নিজের প্রথম এশিয়ান ট্যুর শিরোপা জিতলেন সুইডেনের কোকোচিনস্কি

সুইডেনের গলফার ম্যালকম কোকোচিনস্কি কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে অনুষ্ঠিত এবি ব্যাংক বাংলাদেশ ওপেন ২০১৮ জিতে নিয়েছেন। এটি তার প্রথম এশিয়ান ট্যুর শিরোপা। এদিকে শীর্ষ তালিকায় নিজেদের নাম তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশের ঘরের ত্রয়ী।

এদিন ফাইনাল রাউন্ডে পার এর চেয়ে ৬ শট কম খেলেন ম্যালকম কোকোচিনস্কি। আর এর ফলে তিনি চার রাউন্ড মিলে পার এর চেয়ে ১৪ শট কম (মোট শট ২৭০)  খেলে এবি ব্যাংক বাংলাদেশ ওপেন শিরোপা জিতে নেন।

বাংলাদেশ ওপেন
Source: Golf Australia Magazine

২৬ বছর বয়সী এই সুইডিশ গলফের উঠতি তারকা মোট ৩ লক্ষ মার্কিন ডলার প্রাইজমানির আয়োজনে ৫৪ হাজার মার্কিন ডলার জিতে বাড়ি ফেরেন।

নিউজিল্যান্ডের বেন ক্যাম্পবেল এবং ইংল্যান্ডের জ্যাক হ্যারিসন পার এর চেয়ে মোট ১১ শট কম খেলে  (মোট শট ২৭৩)  যৌথ ভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে ট্রুনামেন্ট শেষ করেছেন। তৃতীয় রাউন্ড শেষে জ্যাক শীর্ষস্থানেই ছিলেন। কিন্তু এই ইংলিশম্যান শেষ দুই হোল এ বগি করে বসায় কোকচিনস্কির  প্রথম এশিয়ান ট্যুর শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায়। আর জ্যাক হ্যারিসনকে বেন ক্যাম্পবেলের সাথে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানটি ভাগা ভাগি করে নিতে হয়।

মজার বিষয় হলো, কোকোচিনস্কি হলেন গত তিন বছরে তৃতীয় খেলোয়াড় যিনি এই বাংলাদেশ ওপেন জিতে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম শিরোপা স্বাদ পেয়েছেন। অন্য দুজন হলেন থাইল্যান্ডের থিতিফুন চুয়াপ্র্যাকোং এবং জ্যাজ জেনুইটানানন্ড। এই দুজন যথাক্রমে ২০১৬ আর ২০১৭ সালের বাংলাদেশ ওপেন বিজয়ী।

কোকোকিনস্কি মনে করেন ঢাকায় তাঁর সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা তাকে শিরোপা জিততে যথেষ্ট সাহায্য করেছে।

জয়ের পরে তিনি বলেন “এই সপ্তাহে আবার কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে ফিরেতে পেরে দারুন লাগছে। এ বছর এই নিয়ে এখানে আমার তৃতীয়  সফর এটা। আগের দুইবার আমি এডিটি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছিলাম এবং বেশ ভাল খেলেছিলাম। অবশ্যই এই অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে এবং আত্নবিশ্বাস যুগিয়েছে।”

টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল ওয়েব সাইটে প্রকাশিত মন্তব্যে তিনি বলেন “এই জয়টি আমার কাছে বিশেষ কিছু। এই সপ্তাহের আগে এশিয়ান ট্যুরে আমার তেমন কোন অবস্থান ছিল না। এখানে আমি যেভাবে খেলেছি তাতে আমি সন্তুষ্ট।”

পরে তিনি আরো যোগ করেন ” আমি গত কয়েক মাস ধরে ভাল খেলছি। আমি জানতাম আমার খেলা ঠিকই ছিল তাই আমি শুধু আমার গেমপ্লান এ স্থির ছিলাম  এবং কিছু ভাল শট খেলেছি যা আমাকে চিন্তা মুক্ত করেছে।

আমি ধৈর্য্য ধরে ছিলাম। এই সপ্তাহে আমি বেশ ভাল খেলছিলাম, আমি জানতাম যে আগে বা পরে হোক ভাল একটা রাউন্ড আসবেই।”

নিজের মধ্যে একাধিক ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন এই সুইডিশ খেলোয়াড় ২০১১ সালে একজন পেশাদার  গলফার হিসাবে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং তারপর তিনি ২০১৩ সাল থেকে এশিয়ান ট্যুরের একজন একটি নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠেন। সবাই যখন কোকোকিনস্কিকে নিয়ে ব্যস্ত তখন স্থানীয় খেলোয়াড় জামাল হোসেন আমেরিকার জন ক্যাটলিনের সাথে পার এর চেয়ে ৯ শট কম খেলে (মোট ২৭৫) যৌথ ভাবে চতুর্থ স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করেন।

অন্যদিকে আরো দুই স্থানীয় মধ্যে বাদল হোসেন যৌথ ভাবে  ১৪তম অবস্থান অর্জন করলেও দেশের প্রধান গলফার সিদ্দিকুর রহমান শীর্ষ তালিকার ধারে কাছেও ছিলেন না। তিনি যোথ ভাবে ২৬তম অবস্থানে থেকে খেলা শেষ করেন।

জামাল হোসেন হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, “আমি আজ পুট শটটা ভাল খেলতে পারি নি। এটা সত্যিই হতাশাজনক ছিল। যদি আমি কয়েকটি ভাল পুট মারতে পারলে খুব ভাল ভাবে খেলা শেষ করতে পারতাম। আজকে আমার টি শট এবং দ্বিতীয় শট  খুব ভাল হলেও ভাল পুট করতে পারি নি। যা সত্যিই একটি দুঃখের বিষয়। ”

তিনি আরো বলেন, “আমি টুর্নামেন্ট জিততে পারলে অনেক খুশি হতাম তবে যৌথভাবে চতুর্থ বাংলাদেশ ওপেনে আমার সেরা ফলাফল। এটা নিয়েও আমি খুশি।”

নিজের খেলা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারলেও ঘরের মাঠের দর্শকদের বরাবরেই মত হতাশ করেছেন দেশ সেরা সিদ্দিকুর। হয়তো সামনে কোন টুর্নামেন্টে তিনি ফর্মে ফিরবেন। এই আশা করা ছাড়া আমাদের আর তেমন কিছুই করার নেই।

, , , , ,