বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারিঃ এটা কি করলো অস্ট্রেলিয়া?

বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে যে জিনিসটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে তা হল বল টেম্পারিং। আলোচনা না বলে সমালোচনা বলাই ভাল। যদিও ক্রিকেটে এটা কোন নতুন ইস্যু না, তবুও গত কিছুদিন ধরে এটাই খবরের শিরোনাম হচ্ছে। এই অতিকায় নাটকীয় ঘটনাটির শুরু হয় ২৪ মার্চ, দক্ষিন আফ্রিকা আর অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ৩য় টেস্টের ২য় সেশনে।

বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারি
Source: Scroll.in

এই খবর মোটামুটি সবারই জানা হয়ে গেছে। কিন্তু আসল ব্যাপার হল এবারকারের ঘটনাটি খুবই নেক্কারজনক ভাবে হয়েছে। যখনই ক্যামেরায় ব্যাঙ্ক্রফটের অন্তর্বাসের নিচে কিছু লুকানোর দৃশ্য ধরা পরে তখনি সবাই সন্দেহ করেছিল যে “ডাল মে কুচ কালা হ্যায়।”

মাঠের বড় পর্দায় এই দৃশ্য দেখে আম্পায়াররা ব্যাঙ্ক্রফটের সেই লুকানো বস্তুটি দেখতে চান। কিন্তু তরুণ অজি আম্পায়ারদের সানগ্লাস পরিস্কার করার এক টুকরো কালো কাপড় দেখান। সে যাই হোক, বিশ্বের সন্দেহপ্রবন চোখেরা ততোক্ষনে আসল ঘটনা জেনে গেছে। ব্যাঙ্ক্রফটের লুকানো হলুদ জিনিসটি আসলে ছিল একটি হলুদ টেপ, যার আঠালো পাশে বালি মেখে হাতে তৈরি শিরিষ কাগজ বানানো হয়েছিল। এই “শিরিষ কাগজ” দিয়ে ব্যাঙ্ক্রফট বলের একপাশ ঘসে নষ্ট করে তা থেকে দ্রুত রিভার্স সুইং আদায় করার জন্যে চেষ্টা করেছিলেন।

বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারি
Source: Deutsche Welle

তৃতীয় দিনের খেলা শেষে অজি অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন তরুণ ক্যামেরুন ব্যাঙ্ক্রফটকে নিয়ে। তিনি ক্যামেরায় দেখতে পাওয়া ঘটনা স্বীকার করে বলেন, খেলার মধ্যহ্ন বিরতির সময়ে অধিনায়ক পর্ষদের সিদ্ধান্ত হয় যে যত দ্রুত সম্ভভ বলে রিভার্স সুইং এর ব্যবস্থা করা। আর সে জন্যই আঠালো টেপে বালি লাগিয়ে তা দিয়ে ঘসে বল টেম্পারিং করা হয়। তিনি এই ঘটনা বা পরিকল্পনায় কোন কোচিং স্টাফের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। ব্যাঙ্ক্রাফটও মাঠে তাঁদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যে নিজের দোষ স্বীকার করেন।

বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারি
Source: Alive For Football

ম্যাচ রেফারি এন্ডি পাইক্রফট দিনের খেলা শেষে জড়িতদের শুনানির ব্যবস্থা করে স্মিথ কে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ ও ম্যাচ ফির পুরোটাই জরিমানা করেন সাথে ব্যাঙ্ক্রফটকে ৩ ডিমেরিট পয়েন্ট সহ ম্যাচ ফির ৭৫ শতাংশ জরিমানা করেন। এই শাস্তি ক্রিকেট বিশ্বের কারো কাছেই যথেষ্ট মনে না হওয়ায় চারিদিক থেকে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের প্রতি নিন্দার ও ভর্তষনার ঝড় নেমে আসতে থাকে।

এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে তাঁরা কিভাবে মাঠ ভরতি ক্যামেরার সামনে এটা করতে পারলো? এই ধরনের নির্বোধ আইডিয়াই বা তাঁদের মাথায় কিভাবে আসলো? তাঁরা কি একবারের জন্যেও ভেবেছিল যে ধরা পরলে তাঁদের কি হবে? আমার মনে হয় না তাঁদের কোন প্লান বি ছিল এক্ষেত্রে । কিন্তু তাঁদের এটা করার আগে হাজার বার ভাবা উচিত ছিল। কারন দেশের হয়ে পারফর্ম করার সময় আপনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন না ।

এই পর্যায়ের ক্রিকেটে যেখানে মাঠের প্রতিটা পদক্ষেপই টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেয়া হয়, সেখানে স্মিথ ও তাঁর সতীর্থরা কিভাবে কোচিং স্টাফদের জড়িত থাকার কথা এক বাক্যে অস্বীকার করে গেলেন? যদিও হেড কোচ ড্যারেন লেহমান এখন পর্যন্ত নির্দোষই আছেন, কিন্তু তিনি এত সহজেই এর থেকে নিস্তার পেতে পারেন না। অস্ট্রেলিয়ার আগের দুই টেস্টের আগ্রসী রিভার্স সুইংও বিতর্কিত কিনা তা নিয়ে মিডিয়া সন্দেহ প্রকাশ করলে স্মিথ বলেন তাঁরা এটা এইবারই প্রথম চেষ্টা করেছেন। আসলেই কি এটা তাঁদের প্রথম প্রয়াস?

বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারি
Source: iNews

যাবতীয় প্রশ্ন তদন্তকারীদের জন্যেই তোলা থাক। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাঁদের নিজের মত করে তদন্ত করছে। তাঁরা হয়তো স্মিথ ওয়ার্নারদের দীর্ঘমেয়াদি শাস্তির কথা চিন্তা করছে। লেহমানও তাঁর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন। কিন্তু তাঁদের যে শাস্তিই হোক না কেন তা বৃহত্তর ক্রিকেটীয় স্বার্থের থেকে গুরুত্বপুর্ন নয়। তাঁরা বাকি দুনিয়ার জন্যে ভয়ঙ্কর ও নেক্কারজনক এক ঊদাহরণ রেখে গেলন। তাঁরা যে শুধু তাঁদের জাতীয় পরিচয়কেই কলুষিত করলো তা না, তাঁরা ক্রিকেটের খেলোয়াড়সুলভ মনোভাবকেও চড়ম ভাবে অপমান করলো।

, , , , , , , , ,