বাঘের মুখে সাপের বিষঃ ফাইনালে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ টিটুয়েন্টিতে “ব্র্যান্ড বাংলাদেশ” কে পোক্ত ধারণা দিতে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল। এই টুর্নামেন্টে আবার তারা শ্রীলংকাকে ২ উইকেট হাতে রেখে হারাল। এখন বাংলাদেশ রবিবার নিদহাস ট্রফির ফাইনাল শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে খেলবে।

বাংলাদেশ vs শ্রীলংকা
Source: Cricbuzz

বাংলদেশ তাদের নিদহাস ট্রফির মিশন হট ফেভারিট হিসেবে শুরু করতে পারে নি। আয়োজক শ্রীলংকাকে সবাই হট ফেভারিট হিসেবে মানছিল। যাই হোক, বাংলাদেশ শ্রীলংকাকে এই টুর্নামেন্টের দুই ম্যাচেই হারাতে সমর্থ হয়েছে যা ভারত করতে পারে নি।

অনেক দিন যাবত ভক্তরা সাকিব আল হাসানের অভাব অনুভব করছিল। যার জন্য মাহমুদুল্লাহ ম্যাচ শেষে বলছিল সাকিবের দলে অন্তর্ভুক্তি একটি বড় সমর্থন এবং সে আসলেই তা। একজন অধিনায়ক হিসেবে তিনি যেভাবে ম্যাচটি শুরু করেছিলেন শ্রীলংকাকে ১৩০ এর নিচে আটকানো আশা করা যেতেই পারে। কিন্তু ভয়ংকর থিসারা এবং কে পেরেরা তা আর হয়ে উঠতে দেয় নি। তারা বাংলাদেশ এর বিপক্ষে ভালই লড়াই করল।

shakib al hasan
Source: Cricbuzz

শ্রীলংকা বাংলাদেশের বিপক্ষে ৭ উইকেটের বিনিময়ে ১৫৯ রান করতে সমর্থ হয়। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে তামিম দলকে একটি ভাল সূচনা এনে দেয় কিন্তু লিটন মনে হয় এই দিনেও প্রস্তুত ছিল না। সে শূন্য রানেই বিদায় নেয়। এরপর সাব্বিরের ৮ বলে ১৩ রানের ইনিংস আহামরি তেমন কিছুই না।

খুব দ্রুত ২ উইকেটের পতনের ফলে বাংলাদেশ কিছুটা চাপে পড়ে যায়। কিন্তু নির্ভরযোগ্য মুশফিক এবং বুম বুম তামিম ভক্তদের জন্য ত্রান হয়ে আসেন। তাহা সত্ত্বেও মুশফিক ২৮ রানের একটি গুরুত্তপূর্ণ ইনিংস খেলেন।

বাংলাদেশ
Source: Cricbuzz

গত ৩ ম্যাচ ধরে আমরা মাহমুদুল্লাহ থেকে আশানুরুপ ব্যাটিং দেখতে পাই নি। বাংলদেশ শ্রীলংকার গত ম্যাচের দেখায় লিটন ১৯ বলে ৪৩ রান করে। কিন্তু এই ম্যচে মাহমুদুল্লাহ ম্যাচ জয়লাভসূচক ১৮ বলে ৪৩ রানের ইনিংস খেলে যা তাকে পরবর্তিতে ম্যাচ সেরার পুরষ্কার এনে দেয়। ্কি ভয়ংকর ব্যাটিংই না করলেন তিনি!

ইহা বাংলাদেশের জন্য একটি নাটকীয় জয় ছিল। ব্রেট লির মুখের ভঙ্গি দেখে এমনটা যে কেউই এটা বলতে পারে। আসলে বাংলাদেশ এই ম্যাচে দাপটের সাথেই জিতেছে।

সবকিছু ভালই চলছিল। কিন্তু শেষ ৩ উইকেট খুব দ্রুত পড়ে গেল যা বাংলাদেশ এবং মাহমুদুল্লাহ এর জন্য কিছুটা হলেও চাপ সৃষ্টি করে। মাহমুদুল্লাহ ম্যাচ শেষে তাইই বলল যে সে ওই সময়ে কিছুটা স্নায়বিক চাপে ছিল।

Source: Cricbuzz

শেষ ওভারে বাংলাদেশের ৬ বলে ১২ রানের প্রয়োজন ছিল। উদানা সেই ওভার করতে আসল। মুস্তাফিয স্ট্রাইকিং প্রান্তে ছিল। প্রথম বল বাউন্সার ছিল এবং আম্পায়ার তা ডাক দিলেন না। আবার বোলারের থেকে আরেকটি বাউন্সার এবং মুস্তাফিয এক রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়। এইবারও আম্পায়ার বাউন্সারের প্রতি কোন সাড়া দিলেন না এবং নো-বল তো না ই। খেলার মাঠে উপস্থিত কেউ বুঝলোই না যে এটা একটা ধরণের ঝামেলা হতে যাচ্ছে এবং খেলাও বন্ধ হইয়েও হল না।

Source: Cricbuzz

সাকিব খেলতে রাজি হয় নি এবং সে মাঠ থেকে তার খেলেড়াদের ফিরে আসার জন্য বার্তা দেয়। কিন্তু মাহমুদুল্লার অধ্যায় তখনো যে বাকি ছিল। তারা আবার মাঠে নামল এবং পরের বলে একটি চার মারল। শেষ ২ বলে দলের তখন ৬ রান দরকার ছিল। সমগ্র স্টেডিয়াম এবং খেলা কিছুক্ষনের জন্য থমকে যায়। মাহমুদুল্লাহ সজোরে ছক্কা হাকান এবং দলের ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করে। এখন বাংলার বাঘেরা ম্যাচ জিতার পর নাগিন ড্যান্স দিতেও শিখে গেছে!

Source: Cricbuzz
, , , , , , , , , , ,