নিদহাস ট্রফি ফাইনাল: অসম্ভবকে সম্ভব করলেন রুবেল

নিদহাস ট্রফি ফাইনাল:

ধারাভাষ্যকার আসলেই সঠিক মন্তব্য বকরাছেন। আবার সেই রুবেল এবং আরেকটি ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল জিতার সু্যোগ হারালো।

এখন বাংলাদেশের জন্য টিটুয়েন্টিতে “ব্র্যান্ড বাংলাদেশ” বানানো কঠিন্তর হয়েছে। যেভাবে তারা ম্যাচটি হারল তা সম্পূর্ণভাবেই আশানুরুপ ছিলো না। যদিও ইহা একটি উত্তেজনামূলক ম্যাচ ছিলো।

Tamim
Source: CricBuzz

ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা। কেউই এই খেলা সম্পর্কে আগে থেকে অনুমান করতে পারে না। এখেনে যেকোন কিছুই সম্ভব। ভারত বাংলাদেশকে ৪ উইকেট হাতে রেখে হারাল।

সর্বপ্রথম ভারত টসে জিতে বোলিং এর সিধান্ত নেয়। বাংলাদেশ তাদের খেলা ভালোভাবে শুরু করতে পারে নি। তাদের পাওয়ার প্লেতে কিছু উইকেটের দ্রুত পতন ঘটে। তারা পাওয়ারপ্লেতে কেবলমাত্র ৩ উইকেটের বিনিময়ে ৪১ রান সংগ্রহ করে।

Source: CricBuzz

তারপর এটা বাংলাদেশের জন্য অসাধারণ প্রত্যাবর্তন ছিলো। এই ম্যাচ থেকে দারুণ পাওয়া ছিল সাব্বিরের ফর্মে ফিরা। সে বাংলাদেশের বিপদে ৭৭ রান করে। কারণ তারা পাওয়ারপ্লের পর মুশফিকের উইকেট হারায় এবং আবার সেখানে ২টা রান-আউট ছিলো যা কখনোই কাম্য না। কিন্তু শেষে মিরাজের ৭ বলে ১৯ রানের ইনিংস বাংলাদেশকে ১৬০+ রান করতে সাহায্য করে।

Bangladesh loosing wicket
Source: CricBuzz

২য় ইনিংসে ভারত তাদের নিজস্ব ভঙ্গিতে খেলা শুরু করে। রোহিত এবং ধাওয়ানের পার্টনারশিপ ততক্ষন পর্যন্ত ভালো ছিল যতক্ষন না সাকিব তার নিজের ওভারে ধাওয়ানের উইকেট তুলে নেয়। প্রথমদিকে বাংলাদেশের বোলিং লাইন-লেন্থ কিছুই নিয়ন্তনে ছিল না। যার জন্য ভারত কিছু রান দ্রুত তুলতে সমর্থ হয়।

ধারাভাষ্যকর বলছিলেন, “অবিস্বাস্যভাবে মুস্তাফিজ এই টুর্নামেন্ট অনেক খরুচে বোলার ছিলেন। তার ইকোনমি ৯ রনেরও উপরে।

মুস্তাফিজ অনেক দিন ধরে ভাল খেলছে না এবং তার কাটারেও তামন ধার নেই। কিন্তু ১৮তম ওভারে মুস্তাফিজ দারুণ বোলিং করে। বাংলদেশ মুস্তাফিজের শেষ ওভারের মত আরো একটি ওভারের আশা করছিল।

India win
Source: CricBuzz

শেষ ২ ওভারে ভারতের ৩৪ রান দরকার ছিল। রুবেল ১৯ তম ওভারে বোলিং করতে আসল এবং অসম্ভবকে সম্ভব করল। সে ওই এক ওভারে ২২ রান দেয়। তার ব্যাক্তিগত শেষ ওভারের আগে সে ১৩ রানের বিলিময়ে ২ উইকেট লাভ করে। সবকিছু ভালোই চলছিল। হঠাত করে বাংলাদেশ দীনেশ কার্তিক ঝড়ের মুখে পড়ে। রুবেলের ২২ রান তাকে ৯ বলে ২৯ রান করতে সাহায্য করে। কি দারুণ ব্যাটিং ই না করল ডিকে!

Sakib al Hasan

ওই রকম সময়ে ২২ রান দেয়া বাংলাদেশের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। যার জন্য বাংলাদেশের চরম পরিণাম দেওয়া লাগে এবং শেষ পর্যন্ত তারা ট্রফি জিততে পারে নাই।

সৌম্য আসলেই ভাল বল করছিল। রুবেলের ব্যর্থতার সময় সে ইয়োর্কার করছিল। রুবেল জাতীয় দল্কে অনেক দিন ধরে সেবা দিয়ে আসছে। এখন আমরা তার থেকে সম্পূর্ণ ইয়োর্কার আশা করতেই পারি যেহেতু সে পেশাদার।

আমরা এর পূর্বে রুবেল্কে কখনো নায়ক বা ভিলেন হিসেবে দেখেছি। একতি কথা মনে রাকাহ দরকার, “জ্ঞান অবশ্যই লাগবে কিন্তু অভিজ্ঞতা আরো শক্তিশালি”।

Soumya Sarkar

শুধু রুবেলই না, মাঠের অন্যান্য খেলোড়ারেরাও তাদের ১০০% দেয় নি। ম্যাচে তারা কিছু সহজ রান-আউট করতে ব্যর্থ হয়। একজন ভাল ব্যাটসম্যানের সব দিন ভাল যায় না কিন্তু একজন ভাল ফিল্ডার ২০-৩০ রান বাঁচাতে পারে।

পরিশেষে বাংলাদেশ জিতুক বা হারুক। আমরা তাদের সাথে সবসময় থাকব।

, , , , , , , , , ,