সাম্প্রতিক ইতিহাসের টেস্ট ক্রিকেটের সর্বনিম্ন স্কোর

সাম্প্রতিক ইতিহাসের টেস্ট ক্রিকেটের সর্বনিম্ন স্কোর

আচ্ছা, অনেক তো হল ঝাঁ চকচকে টি২০ এর বিনোদন। চলুন এবার ক্রিকেটের মূল ভিত্তিতে ফিরে যাই। বলছিলাম টেস্ট ক্রিকেটের কথা। আজ আমরা কথা বলবো সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া টেস্ট ক্রিকেটের সর্বনিম্ন স্কোর গুলো নিয়ে। সর্বনিম্ন স্কোর নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমরা টেস্টের গোড়ার ইতিহাসে যাব না, কারন তখনকার ক্রিকেটের মান আজকের আধুনিক ক্রিকেট থেকে অনেকটা পিছিয়েই ছিল। রাতে এমনকি বৃষ্টির সময়েও পিচ ঢাকার কোন ব্যবস্থাও ছিল না তখন। তাই আমরা সাম্প্রতিক ইতিহাসটাই বিবেচনা করবো।

সাম্প্রতিক ইতিহাসের টেস্ট ক্রিকেটের সর্বনিম্ন স্কোর

এই লেখা যখন পড়ছেন ততখনে আপনারা জেনে গেছেন নিউজিল্যান্ড ইংল্যান্ডকে কাল ৫৮ রানে গুড়িয়ে দিয়েছে। এখানে আমরা সে খবর দিতে আসি নি। গত দুই দশকে ঘটে যাওয়া টেস্টের সর্বনিম্ন স্কোর গুলোর কথাই আপনাদের জানাবো।

চলুন দেখা যাক আপনাদের জন্যে কি নিয়ে হাজির হয়েছি আজ।

নিউজিল্যান্ডের ৪৫ রান, প্রতিপক্ষ দক্ষিন আফ্রিকা (নিউল্যান্ডস, কেপ টাউন ২০১৩)

নিউজিল্যান্ডকে দিয়েই গল্পটা শুরু করছি। তবে এখানে তাঁরা থাকছে লজ্জাজনক অবস্থানে। সেদিন নিউজিল্যান্ড তাঁদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৪৫ রান করতে সক্ষম হয়। দক্ষিন আফ্রিকা মাত্র ১৮.২ ওভারে তাঁদের তিন পেসার ভেরনন ফিল্যান্ডার, ডেল স্টেইন আর মরনি মরকেল কে দিয়েই তাঁদের উড়িয়ে দেয়। তিন বলার যথাক্রমে ৫, ৩ ও ২ উইকেট করে পান। জবাবে দ. আফ্রিকা করে ৮ উইকেটে ৩৪৭(ডিক্লে)। ২য় ইনিংসে ২৭৫ করলেও নিউজিল্যান্ড তাঁদের ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় এড়াতে পারে নি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪৭, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড (সাবাইনা পার্ক, জ্যামাইকা ২০০৪)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড তাঁদের প্রথম ইনিংসে যথাক্রমে ৩১১ আর ৩৩৯ রান করার পরে দর্শকেরা একটি উত্তেজনাকর ম্যাচের আশাই করছিল দুই দলের কাছ থেকে। কিন্তু হঠাত করেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাঁদের ২য় ইনিংসে মাত্র ৪৭ রানেই গুটিয়ে যায়। স্টিফেন হার্মিসন ৭ উইকেট সহ তিন ইংলিশ পেসার মাত্র ২৫ ওভারেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুড়িয়ে দেন। আর সেই সাথে ইংল্যান্ড পায় ১০ উইকেটের এক বিশাল জয়।

অস্ট্রেলিয়ার ৪৭, প্রতিপক্ষ দক্ষিন আফ্রিকা (নিউল্যান্ডস, কেপ টাউন ২০১১)

ডেল স্টেইন
ডেল স্টেইন

অস্ট্রেলিয়া তাঁদের প্রথম ইনিংসে অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের ১৫১ তে মোট ২৮৪ রান তোলে। আর এর পরই নিউল্যান্ডের পিচ ব্যাটসম্যানদের জন্যে মৃত্যূপুরীতে পরিণত হয়। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দ. আফ্রিকা মাত্র ৯৬ রানেই গুটিয়ে যায়। কিন্তু আসল গল্পটা শুরু হয় অস্ট্রেলিয়ার ২য় ইনিংসে। সেখানে তাঁরা মাত্র ৪৭ রানেই গুটিয়ে যায়, যার এক পর্যায় তাঁদের অবস্থা ছিল ৯ উইকেটে ২১ রান। বলে বসবেন না যে, এটা আবার কোন কৌতুক? নাটকের কিছু অংশ তখনও বাকি যখন পিচ তাঁর মর্জি সম্পুর্ণ বদলে ব্যাটিং বান্ধব হয়ে ওঠে। যার করনে দুটি শত রানের ইনিংস সহ ২৩৬ রানের টার্গেট দ.আফ্রিকা মাত্র ২ উইকেটে হারিয়েই টপকে যায়।

ইংল্যান্ডের ৫১, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সাবাইনা পার্ক, জ্যামাইকা ২০০৯)

ইতিহাস নিজের পুনরাবৃত্তি নিজেই করে। এই ম্যাচে একই মাঠে একই দুই প্রতিপক্ষের সাথে ৫ বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। ক্রিকেট আসলেই একটা চরম মাজাদার জিনিস!

দুই দলের মোটামুটি ভাল চেহারার একটা প্রথম ইনিংসের পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৪ রানের লিড পায়। কিন্তু কে ভেবেছিল যে এই ৭৪ রানই ইনিংস ব্যবধানে জয় এনে দেবে। এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল ও. ইন্ডিয়ান পেসার জেরম টেইলর আর স্পিনার সুলেমান বেন দুজনে মিলে। ঐ দিন জেরম টেইলর কতটা ভয়ানক রুপে ছিলেন তা তাঁর পাওয়া ৫ উইকেট দিয়ে বোঝানো অসম্ভব। তিনি সে দিন ও. ইন্ডিজকে তাঁদের ৭০ আর ৮০ দশকের পেস আক্রমনের সোনালী সময়ের কথা মনে করিয়ে দেন।

পাকিস্তানের ৫৯ আর ৫৩ রান, প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া (শারজাহ, ২০০২)

পাকিস্তান তাঁদের প্রথম ইনিংসে করে মাত্র ৫৯ রান। আর দ্বিতীয় ইনিংস তো ছিল আরো ভয়াবহ। স্কোর বোর্ডে মাত্র ৫৩ রান জড়ো করতে সামর্থ হয় পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা। আসলে সেই ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী বোলিং আক্রমনের কোন প্রতিউত্তরই ছিল না। পাকিস্তানের দুই মর্মান্তিক ইনিংসের মাঝখানে অস্ট্রেলিয়া ৩১০ রান করে, যার মধ্যে ছিল ম্যাথিঊ হেইডেনের সেঞ্চুরি। শেন ওয়ার্ন দুই ইনিংসেই ৪ টি করে উইকেট নেন। মজার কথা হল, এই ম্যাচটি পাকিস্তান মাত্র দুই দিনের মধ্যেই লজ্জাজনক ভাবে হারে।

, , , , , , , ,