টেস্ট ইতিহাসের টাই হওয়া ম্যাচের গল্প (পর্ব-2)

আমার মনে হয় আপনারা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের দ্বিতীয় ও শেষবারের মত ঘটে যাওয়া টাই টেস্ট ম্যাচ সম্পর্কে জানতে অধির আগ্রহেই অপেক্ষা করছেন। কেই বা না করবে যেখানে ক্রিকেটের পুরো ইতিহাসেই এই ঘটনাটি এতটাই বিরল?

এটিই হল সেই একমাত্র পরিসংখ্যান যা ক্রিকেটের পরিসংখ্যানবিদদের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি লেখার জন্যে বার বার বিরক্ত করে না। এবারের ঘটনাটি ঘটে অস্ট্রেলিয়ার ভারত সফরের ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম টেস্টে।

টেস্ট ইতিহাসের টাই হওয়া ম্যাচের গল্প
Source: hdmaza.pw

এখন আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো সেই অসাধারণ ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর এনং শেষ ওভারের রোমাঞ্চকর মূহুর্তগুলো।

দ্বিতীয় টাই টেস্ট

ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া, মাদ্রাজ (এখন চেন্নাই) ১৯৮৬

টস- অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস ৫৭৪/৭ ডিক্লি (১৭০. ওভার)

ডিন জোনস ২১০ শিবালাল যাদব ৪/১৪২

ভারত প্রথম ইনিংস ৩৯৭ অলআউট (৯৪. ওভার)

কপিল দেব ১১৯ গ্রেগ ম্যাথিউস ৫/১০৩

অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস ১৭০/ ডিসেম্বর (৪৯ ওভার)

ডেভিড বুন ৪৯ মাহেন্দ্র সিং 3/60

ভারত দ্বিতীয় ইনিংস ৩৪৭ অল আউট (৮৬. ওভার)

সুনিল গাভাস্কার ৯০ রে ব্রাইট ৫/৯৪

অনেকটা কাকতালীয় ভাবেই যে দুটো ঘটনার সাথেই শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া দলটি জড়িত। আসলে সে দিন কেঊ ভাবতেই পারে নি যে শেষ দিনে মাঠে নেমে ভারত ৩৪৮ রানের বিশাল লক্ষের পিছনে ছুটবে। তাঁরা যে শুধু পেছনেই ছুটেছে তা নয়, তাঁরা প্রায় ইতিহাসই রচনা করে ফেলেছিল। এর পুরো কৃতিত্বই গ্রেট সুনিল গাভাস্কার ও রবি শাস্ত্রী দুটি চমৎকার ইনিংসের যা ছিল তাঁদের সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল।

অফস্পিনার গ্রায়েম ম্যাথিউসের শেষ ওভার শুরুর আগে ভারতের অবস্থান ছিল ৩৪৪/৯। স্ট্রাইকিং প্রান্তে ছিলেন রবি শাস্ত্রী আর তাঁর সঙ্গি হিসেবে অপর প্রান্তে ছিলেন শেষ ব্যাটসম্যান মাহেন্দ্র সিংহ। আর একটা কথা স্মরণ করিয়ে দেই, আইসিসি কিন্তু ততদিনে ৬ বলের ওভারের নিয়ম স্থায়ীভাবে চালু করে ফেলেছিল। তাই শেষ ৬ বল থেকে ভারতের জয়ের জন্যে প্রয়োজন ছিল ৪ রান।

শেষ ওভারের চড়ম মূহুর্তগুলো ছিল এ রকম

ম বল– রবি শাস্ত্রী রক্ষনাত্নক ভঙ্গিতে বলটি ঠেকিয়ে দেন।। সমীকরণও একই রয়ে গেল।

২য় বল– শাস্ত্রী বলটি স্কয়ার লেগ অঞ্চলে ঠেলে দেন এবং ফিল্ডারের সামান্য হাত ফসকে যাওয়ার কারনে একটি ডাবল নিয়ে ফেলেন। তখন আর ২ রান দরকার শেষ ৪ বল থেকে।

য় বল– শাস্ত্রী বলটি ফাকা মিড-অন অঞ্চলে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেল নিয়ে দুই দলের স্কোর বরাবর করে ফেলেন।

র্থ বল- শেষ ব্যাটসম্যান মাহেন্দ্র সিং কোন রকমে বলটি ঠেকিয়ে দেন, যদিও বলটি প্রায় শর্ট-লেগ ফিল্ডারের হাতে ক্যাচই হয়ে যাচ্ছিল। তখনো শেষ ২ বল থেকে প্রয়োজন ১ রান।

ম বল- মাহেন্দ্র সিংহকে যে কোন মূল্যেই অসাধারণ জয়ের জন্য একটি মাত্র রান করতেই হতো। কিন্তু তিনি সেটা করতে ব্যর্থ হন। বলটি তাঁর পেছনের পায়ের প্যাডে আঘাত হানে এবং অজিদের জোড়ালো আবেদনে সাড়া দিয়ে আম্পায়াররা আঙুল তুলতে দেন।

আর এখানেই ভারতের অসাধারণ দ্বিতীয় ইনিংসটির দুঃখজনক পরিসমাপ্তি ঘটে আর সেই সাথে টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় টাই ম্যাচের দেখা পায় বিশ্ব। ভারত ইতিহাস গড়তে না পারলেও শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট নিজের ইতিহাসে নিজেই লিখে নেয়।

এই ছিল আমাদের এবারকার আয়োজন। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের দুটি টাই ম্যাচই আমাদের দেখা হয়ে গেল। আশা করি আপনি অনেক উপভোগ করেছেন। শেষ বলে সমান সমান স্কোরে ড্র হওয়া টেস্ট মাচ নিয়ে থাকছে আমাদের পরের আয়োজন। আর সে পর্যন্ত কমেন্ট বক্সে আপনার মূল্যবান মতামত জানিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

, , , , , , , ,