চ্যাম্পিয়ন্স লিগঃ রোনালদোর ওল্ড ট্রাফোর্ডে ফেরার দিনে নায়ক দিবালা

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বহু বছর ধরেই চাইছে তাদের ‘ঘরের ছেলে’ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ঘরে ফিরে আসুক।  ইউনাইটেড ভক্তরা প্রতি বছরই আশায় বুক বাঁধে, এবার হয়তো তাদের নায়ক নিজের ঠিকানায় ফিরবে।  কিন্তু বহুবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও রোনালদো ফেরেন না।

আর ২৩ অক্টোবর যখন ফিরলেন, আনন্দের বদলে হতাশাই জুটল ইউনাইটেড শিবিরে।  কারণ? – ‘ঘরের ছেলে’ তো আর ঘরে থাকতে আসেনি – এসেছে ঘরের শত্রু বিভীষণ হয়ে।

 চ্যাম্পিয়ন্স লিগঃ রোনালদোর ওল্ড ট্রাফোর্ডে ফেরার দিনে নায়ক দিবালা
Image Source: SiOL

রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে জুভেন্টাসে পাড়ি জমানো সি আর সেভেন এসেছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ৩য় রাউন্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড নামক ‘ইংলিশ দৈত্য’ বধ করতে।  যদিও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ডধারী রোনালদো এই ম্যাচে কোনও গোল পাননি, কিন্তু গোলে তাঁর অবদান অস্বীকার করা যাবে না। কোনও দলে যখন রোনালদোর মত একজন অসাধারণ খেলোয়াড় থাকেন, তখন অবশ্যই আপনাকে তাঁকে সামলাতে আলাদা করে পরিকল্পনা সাজাতে হবে।

এই ম্যাচেও ইউনাইটেড কোচ মরিনহোকে তাঁর সাবেক শিষ্যর জন্য আলাদা করে পরিকল্পনা সাজাতেই হয়েছিল, দিতে হয়েছিল বাড়তি নজর।  আর সেই সুযোগেই ম্যাচের ১৭ মিনিটে পাউলো দিবালার পা থেকে এসেছিল ইটালিয়ান জায়ান্টদের জয়সূচক গোলটি।

এই জয়ের ফলে জুভেন্টাস পাঁচ পয়েন্টের ব্যবধান রচনা করে উঠে গেল এইচ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে।  প্রথম ম্যাচে ইয়ং বয়েজের বিপক্ষে ঘরের ম্যাচে ৩-০ গোলের জয় তাদের এগিয়ে রেখেছিল অনেকটাই।

ইউনাইটেড গোলরক্ষক ডেভিড ডি গেয়া কয়েকটি অসাধারণ সেভ না করলে হয়তো আরও বড় ব্যবধানে হারের কষ্ট মেনে নিতে হত ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটিকে।  স্যার এ্যালেক্স ফার্গুসন বিদায় নেবার পর থেকেই নিজেদের হারানো গৌরবময় ছন্দে ফেরার চেষ্টা করে যাচ্ছে ওল্ড ট্রাফোর্ডের ক্লাবটি, কিন্তু কোনওভাবেই কাঙ্খিত পারফর্মেন্স করতে পারছে না।

এমনকি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের মাস্টার হোসে মরিনহোও তেমন কিছু করতে পারছেন না।   ইউনাটেড বনাম জুভেন্টাস ম্যাচের আগে স্প্যানিশ ক্লাব ভ্যালেন্সিয়া ইয়ং বয়েজ এর সাথে ১-১ গোলে ড্র করায় ইউনাইটেডের হাতে সুযোগ ছিল ভ্যালেন্সিয়ার সাথে তাদের ব্যবধান ২ পয়েন্ট করার।  কিন্তু এই হারের ফলে সেই আশা আর পূরণ হল না।

এই মৌসুমে আর একটি হার হলে, হোসে মরিনহোর ইউনাইটে থাকা নিয়ে সংশয়ের আগুনে আরও ঘি পড়বে বলেই মনে হচ্ছে।  ইউনাইটেড এর মত সাফল্য পেতে অভ্যস্ত ক্লাব এতটা বাজে অবস্থা মেনে নেবে না – এটাই স্বাভাবিক।

অন্যদিকে মরিনহোর মতামত, ট্রান্সফার ফির ব্যাপারে ইউনাইটেডকে আরও খরুচে হতে হবে।  হাত খুলে খরচ না করলে ভালো খেলোয়াড় আসবে কোত্থেকে?  জুভেন্টাস যেখানে ১১২ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে রোনালদোকে কেনার পরও লিওনার্দো বানুচ্চিকে এসি মিলান থেকে কিনে আনে, সেখানে ইউনাইটেড কতৃপক্ষের যেন পকেটে হাত দিতেই বাধে।

এর আগেও মরিনহো অনেক ক্লাবকে দিয়ে বড় বড় খেলোয়াড় কিনিয়ে দল সাজিয়েছেন।  চেলসির দায়িত্ব নেয়ার পর দিদিয়ের দ্রগবাকে পেতে ৩২ মিলিয়নের রেকর্ড অর্থ খরচ করিয়েছিলেন চেলসি মালিক রাশিয়ান ধনকুবের রোমান আব্রাহামোভিচকে দিয়ে।  কিন্তু দেখা যাচ্ছে ইউনাইটেড রোমান আব্রাহামোভিচের মত হাত খোলা স্বভাবের নয়।

 চ্যাম্পিয়ন্স লিগঃ রোনালদোর ওল্ড ট্রাফোর্ডে ফেরার দিনে নায়ক দিবালা
Image Source: GQBuzz.com

ইউনাইটেডের আক্রমণ ভাগ বেশ শক্তিশালী হলেও, রক্ষণে বেশ দুর্বলতা আছে।  সর্বশেষ ম্যাচ দেখে মনে হয়েছে, গোলরক্ষক ডেভিড ডি গেয়াই দলের রক্ষণের মূল ভরসা।  মরিনহোর ভাষায় “বনুচ্চির মত খেলোয়াড়রা হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে ‘কিভাবে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হতে হয়’ – এই বিষয়ে লেকচার দিতে পারবেন” গত দলবদলের মৌসুমে একজন ভালো সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার নিতে চাইলেও মরিনহোর সেই চেষ্টাকে রীতিমত বাধা দেয় ইউনাইটেড কতৃপক্ষ।

মরিনহো এখানেই চুপ করেননি, ম্যাচের পরে আরও বলেছেন “জুভেন্টাস সাত বছর ধরে ইটালির চ্যাম্পিয়ন।  সেই সাথে গত চার বছরে দু’টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলেছে।  কিন্তু তারপরও তারা তাদের হাতে যে খেলোয়াড় আছে তাতে সন্তুষ্ট নয়।  তারা আরও চায়।  দিবালা, ম্যানজুকিজের মত খেলোয়াড় থাকার পরও তারা রোনালদোকে দলে টেনেছে”

মরিনহোর মত লোকেরা শুধু ফুটবলটাই বোঝেন, টাকা পয়সার এত হিসাব নিকাশ বোঝেন না।  আর এই কারণেই ‘ঘরের ছেলে’ রোনালদো যখন ঘরের শত্রু  হয়ে ফেরে, তখন আক্ষেপ তো হবেই।

, , , , , , , , , , ,