গার্ডিওলা, আধুনিক ফুটবলের এক অনন্য জাদুর কাঠির (পর্ব-২)

এই অংশে, আমরা একজন কোচ হিসাবে গার্দিওলার জাদু প্রদর্শন করবো । চলুন তবে দেখে নেয়া যাক

বার্সেলোনা অধ্যায়

তবুও, আপনি হয়তো গার্দিওলার ক্যারিয়ারের খেলোয়ারি অংশে তেমন কোন ঐন্দ্রজালিক উপাদান খুঁজে পান নি। কিভাবে পাবেন? তাঁর আসল জাদু তো শুরুই হয়েছিল ক্যরিয়ারের পরবর্তীতে অংশে। আসলে বার্সেলোনার কোচ হিসেবে তার প্রথম নিয়োগের পরেই তাঁর জাদুর কাঠি মানুষকে বিস্মিত করা শুরু করে।

pep guardiola
Source: Vitalk

প্রথম দিকে ২০০৭ সালে তিনি ও টিটো ভিলানোভা একসাথে বার্সেলোনা বি দলের কোচ হিসেবে যোগ দেন। এই জুটিট দলকে ২০০৮ সালে সেগুন্ডা ডিভিশন বি প্লেঅফে উত্তীর্ণ করতে সমর্থ হয়েছিল এবং তাঁদের দল জিতেছিলও। আর দলটি পরবর্তী স্তরে উন্নীত হয়। পরবর্তীতে ঐ বছরই বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট হুয়ান লাপোর্তা সিনিয়র দলের কোচ হিসেবে গার্দিওলার নিয়োগের ঘোষনা করেন।

২০০৮-০৯ মৌসুম

তাঁর আসল অভিপ্রায় খুব শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল। তিনি একটি দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য যেতে চেয়েছিলেন। এ কারণে তিনি রোনালদিনহো, ডেকো মতো বড় বড় নাম দলের লাইন আপ থেকে ছটাই করেন। তারপর তিনি দানি আলভেসের মত তরুন উদীয়মানদের দলে টানেন আর বুসকেটস ও পেদ্রোর মত বি দলের খেলোয়ারকে মূল দলে উন্নীত করেন।

pep guardiola
Source: SIGNAL

তার প্রথম এল ক্ল্যাসিকোতে, বার্সা সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদকে ৬-১ গোলে পরাজিত করে। গার্দিওলা কিছু অসাধারণ সাফল্যের সাথে মৌসুম শেষ করেছেন। বার্সেলোনা সে বছর চ্যাম্পিয়নস লীগ, কোপা দেল রে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতে। এছাড়াও এই ত্রয়ী জয়ের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ কোচ হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগ বিজয়ী হন।

২০০৯-১০ মৌসুম

বার্সেলোনা মৌসুম শুরু করে বিলবাওকে পরাজিত করে সুপার কোপা ডি এস্পানা জিতে এবং শখতার দোনেস্ককে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপ জয় করে। আর ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে তাঁরা তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়।

pep guardiola
Source: marca.com

গার্ডিওলা ২০০৯ সালটি রেকর্ড ছয়টি ট্রফি জিতে শেষ করেন। যার মধ্যে ছিল স্প্যানিশ লিগ, কোপা দেল রে, চ্যাম্পিয়নস লিগ, স্প্যানিশ সুপার কাপ, ইউরোপিয় সুপার কাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপ।

২০১০-১১ মৌসুম

বার্সা এই মৌসুমেও তাঁদের আধিপত্য বিস্তারকারী পারফর্মেন্স অব্যাহত রাখে। তারা টানা দ্বিতীয়বার সুপারকোপা ডি এস্পানা জয় করে সিজনের শুরু করে। আর এল ক্লাসিকোতে রিয়ালকে ৫-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম কোচ হিসেবে গার্দিওলা পরপর ৫ বার এল ক্ল্যাসিকো জয়ের রেকর্ড গড়েন। বার্সেলোনা টানা ৩য় বারের মত লিগ শিরোপা ধরে রাখে এবং তিন বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতে।

২০১১-১২ মৌসুম

বার্সেলোনা রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ৫-০ গোলে জয়লাভ করে সুপার কোপা ডি এস্পানা জিতে মৌসুম শুরু করে। তারপর তাঁরা পোর্তোকে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপ জয় করে। এছাড়াও তারা ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ এবং কোপা ডেল রে জয় করে। কিন্তু গার্দিওলার শিষ্যরা লিগ শিরোপা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনাল থেকে বিদায় নেয়। যদিও তিনি ২০১২ সালের জন্য বছরের ফিফা বর্ষসেরা কোচ হিসেবে নির্বাচিত হন।

pep guardiola
Source: Pinterest

অবশেষে ২৭ শে এপ্রিল ২০১২ তারিখে তিনি ২০১১-১২ মৌসুম শেষে বার্সেলোনার কোচের পদ থেকে সরে যাবেন বলে ঘোষনা করেন। আর এর প্রধান কারণ হিসাবে তিনি তাঁর ক্লান্তিভাবকে দায়ী করেন। বার্সার হয়ে রেকর্ড ১৪ টি ট্রফি জয়ী গার্দিওলা বিদায়ের সময় বলেন, “বার্সেলোনার মত একটি ক্লাবে চার বছর সময় একটি অনন্তকালের মত অনুভুতি।“

বিশ্রাম স্তর

বার্সেলোনার অধ্যায় শেষে গার্দিওলা তাঁর ক্লান্তিময় অনুভুতি দূর করতে ছুটি কাটাতে নিউইয়র্কে চলে যান। কিন্তু ২০১৩ সালে তিনি আবারো কোচিং ক্যারিয়ারে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং বায়ার্ন মিউনিখের সাথে যোগ দেন।

বায়ার্ন অধ্যায়

২০১৩-১৪ মৌসুম

বায়ার্নের হয়ে গার্দিওলার প্রথম সাফল্যটি আসে উয়েফা সুপার কাপ। ফাইনালে তাঁর দীর্ষ দিনের প্রতিস্বন্দী হোসে মরিনহোর চেলসিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় তাঁর দল বায়ার্ন। তারপর কোচ হিসেবে তিনি তাঁর ৩য় ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ী হন এবং বায়ার্ন তাঁদের টানা ৩ য় লিগ শিরোপা জয় করে। তবে, চ্যাম্পিয়ন্স লীগে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে হেরে যাওয়ার জন্য তিনি সমালোচনার শিকার হন।

২০১৩-১৪ মৌসুমে

এই মৌসুমে বায়ার্ন তাদের টানা চতুর্থ লিগ শিরোপা ধরে রাখে এবং ডিএফবি-পোকল জয় করে। কিন্তু তাঁর দল জার্মান সুপার কাপ জিততে ব্যর্থ হয় এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে বার্সেলোনার কাছে পরাজিত বাদ হয়ে যায়।

২০১৪-১৫ মৌসুম

pep guardiola
Source: ESPN.com

গার্দিওলার দল বায়ার্ন টানা ৩য় লিগ এবং ডিএফবি-পোকাল জয় করে। কিন্তু বায়ার্নের হয়ে তাঁর চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার শেষ সুযোগটাও শেষ হয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদের কাছে সেমি-ফাইনালে হেরে করে। ডিসেম্বর মাসে, তিনি বায়ার্নের সাথে তার চুক্তি আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং সিজনের শেষে ক্লাব ছেড়ে যান।

ম্যানচেস্টার সিটি অধ্যায়

২০১৬-১৭ মৌসুম

ম্যানচেস্টার সিটির জন্য স্বাক্ষর করায় ফুটবল বিশ্বের অনেকেই তার সিদ্ধান্ত নিয়ে অবাক হয়। প্রথম মৌসুমে তিনি ইংলিশ ফুটবলের কঠোরতা উপলব্ধি করেন। লিগ টেবিলে তৃতীয় হয়ে মৌসুম শেষ করে তাঁর দল এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ১৬ থেকেই বাদ পরে। আর মৌসুম শেষে তিনি বলেন, “আমি বুঝতে পারি এটি কতটা কঠিন। আমরা ততক্ষন নিরাপদ নই, যতক্ষিন না রেফারি বলছেন ‘ঠিক আছে, বাড়ি যাও।’

২০১৪-১৫মৌসুমে

pep guardiola
Source: StatsBomb

এই মৌসুম এখনও শেষ হয় নি, তবে লিগ টেবিলের সবার ধরাছোয়ার বাইরে গিয়ে গার্ডিওলার ক্লাব সিটি লিগ শেষ করে ফেলেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে তার কৌশলগুলো ইংলিশ ফুটবলেও যথেষ্ট কার্যকর। সিটি পুরোটা লীগ দূরদান্ত খেলেই শিরোপা নিশ্চিত করেছে, যদিও লিভারপুলের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছে তাঁর দল। দেখা যাক আগামী মৌসুমে তিনি কি চমক দেখাতে পারেন।

আমার মনে হয় এখন আপনারা এই নিবন্ধটির শিরোনামের সাথে একমত হবেন। যদি তাও আপনি একমত না হন তবে নিচের মন্তব্যের ঘরে এর কারন আমাদের লিখে জানান।

, , , , , , ,