কমনওয়েলথ গেমস ২০১৮ : শ্যুটারদের আশার ভেলায় চড়ে অস্ট্রেলিয়া গেল বাংলাদেশ

কমনওয়েলথ গেমস ২০১৮ এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের নামটা ক্রিকেটের কারনেই বেশি উচ্চারিত হয়েছে। কিন্তু ক্রিকেট সারা বিশ্বে অতটা জনপ্রিয় নয়। আপনি যদি আপনার জাতির নাম উজ্জ্বল করতে চান, তবে আপনাকে বিশ্বজনীন ক্রীড়া আসরে পারফর্ম করতে হবে। এক্ষেত্রে বিবেচনা করলে আমরা অলিম্পিক বা বিশ্ব অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপ জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত নই।

কমনওয়েলথ গেমস হচ্ছে একমাত্র বৃহৎ বহুজাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আসর যেখানে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোন খেলোয়াড়ের পদক তালিকায় তাঁর নাম তোলেন। আর দূর্লভ হলেও এটি একাধিকবার ঘটেছে। বাংলাদেশি শ্যুটাররাই এটি করেছেন গত কয়েক কমনওয়েলথ গেমসের আসরে।

বাংলাদেশ তাদের প্রথম কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নেয় ১৯৭৮ সালে । কিন্তু তাঁরা ১৯৯০ সাল থেকে নিয়মিত অংশগ্রহণ শুরু করে।

সেই বছর অকল্যান্ড কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের আতিকুর রহমান (স্বর্ণ) এবং আব্দুস সাত্তার নিনি (ব্রোঞ্জ) দ্বারা প্রথমবারের মতো এত বৃহৎ বহুজাতিক ক্রীড়া আসরে পদক জয় করেন। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া জগতের এক যুগের হতাশার পরে শ্যুটার আসিফ হোসেন খান তার দেশের জন্য স্বর্ণ জয় করেন ম্যানচেস্টারে ২০০২ সালে । মেলবোর্ন ২০০০ এবং দিল্লি ২০১০ এর কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশ যথাক্রমে রৌপ্য এবং ব্রোঞ্জে পদক পায় শ্যুটিং এর দলগত ইভেন্টে। আর সর্বশেষ পদক (রৌপ্য) আসে শ্যুটার আবদুল্লাহেল বাকীর মাধ্যমে ২০১৪ সালে গ্লাসগোতে।

এই বছর গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসের জন্য বাংলাদেশ মোট ৪২ সদস্যের একটি দল অস্ট্রেলিয়ায় পাঠিয়েছে। এই দলে ২৭জন ক্রীড়াবিদ এবং বাকি ১৫ জন কর্মকর্তা। মাত্র ২৭ জন খেলোয়াড়ের জন্য ১৫ জন কর্মকর্তা! এটা কি অদ্ভুত শোনাচ্ছে? তাহলে তো আপনাকে জানাতেই হয়, এটাই হল বড় ক্রীড়া আসরে বংলাদেশের নিত্য নৈমিত্তিক ব্যপার স্যাপার । স্বজনপ্রীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহার দিয়ে অনেকেই তাঁদের বিদেশ ভ্রমণের সাধ মিটিয়ে থাকেন।

Bangladeshi Shooters with Team Management. Source: Dhaka Tribune

আক্ষরিক অর্থে, কমনওয়েলথ গেমস বাংলাদেশের কাছে একটি শুটিং বিশ্বকাপের মত। এবারো তাঁরা ১৩ জন শ্যুটার ও ৫ জন শ্যুটিং কর্মকর্তা সহ মোট ১৮ জনের শ্যুটিং দল পাঠিয়েছে। এবারের শ্যুটাররা হল- আবদুল্লাহেল বাকী, সোভন চৌধুরী, রিসালাতুল ইসলাম, রব্বি হাসান মুন্না, শাকিল আহমেদ, আনোয়ার হোসেন, আর্মিন আশা, আর্দিনা ফেরদৌস, আমিরা হামিদ, সৈয়দা আতকিয়া হাসান, উম্মে জাকিয়া সুলতানা, সুরাইয়া আক্তার, শারমিন শিলপা, কোচ ক্লাভিস ক্রিস্টানসেন এবং মার্কো শফিক।

দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রতিনিধিরা হলেন ভারোত্তোলন দলের। ভারোত্তোলক শিমুল কান্তি সিংহ, ফুলমতি চাকমা, মাবিয়া আক্তার, জাহুরা খাতুন নিশা, ফাহিমা আক্তারের সাথে আছেন তাঁদের কোচ বিদুৎ কুমার রায়।

অন্য দলের মধ্যে সাঁতারে আছেন সাঁতারু আরিফুল ইসলাম, মাহমুদুন্নবী নাহিদ, নাজমা খাতুন এবং তাদের কোচ রেজাউল হোসেন বাদশা। অ্যাথলেটিকসে মেসবাহ আহমেদ ও শিরিন আক্তার এবং তাদের কোচ খুরশিদা খাতুন। বক্সিং টিমের মধ্যে বক্সার আল আমিন, রবিন মিয়া ও কোচ কাজী আবদুল মান্নান আছেন। কুস্তিতে আছেন কুস্তিগীর আলী আমজাদ, শিরিন সুলতানা ও তবিউর রহমান পালোয়ান।

Swimmer Ariful Islam. Source: Dhaka Tribune

শ্যুটাররা ৮ টি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবে। বাংলাদেশ শ্যুটিং বিভাগের মহাসচিব ইন্তেখাবুল হামিদ আপু, বলেন, “পদক জেতার সম্ভাবনা বৃদ্ধির জন্য আমরা আরও বেশি ইভেন্টে অংশ নেব, আমরা শাকিল আহমেদ, আর্মিন এবং আতকিয়ার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি আশা করছি ।”

আমরাও আশা করিছি। তবে আমাদের আশা এই গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমস ২০১৮ এর অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ক্রীড়া দলের জন্যই। শুভ কামনা বাংলাদেশ।

, , , , , , , ,