ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম বাংলাদেশ ২য় ওয়ানডেঃ বাংলাদেশের ৩ রানের পরাজয়

ম্যাচ প্রতিবেদন, বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ওয়ানডেঃ

আরো একবার বাংলাদেশ তাদের সহজ জেতা ম্যাচ কঠিনভাবে হেরে গেল । এ যেন তীরে এসে তরী ডুবানোর মত। এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম না।

Source: DNA India

গেল বেশ ক’বছর ধরেই ক্রিকেট সমর্থকেরা এই একই ঘটনার পুনরাবৃতি দেখছে। গত কয়েক বছরে এই নিয়ে ৫ বারের মত আমরা বাংলাদেশের অপরিপক্কতার সাক্ষী হলাম। সমর্থকেরা সম্ভবত নিদাহাস ট্রফির কথা এখনো ভুলেন নি?

বাংলাদেশ দলের কান্ডারী মাশরাফি নিজেও ছেলেদের এমন পারফরম্যান্সে হতাশ। তিনি উল্লেখ করেন, “এটা আসলেই হতাশাজনক। আমাদের ১২ বলে কেবল ১৪ রন দরকার ছিল যখন আমাদের হাতে আরো ৬ উইকেট ছিল। এইবারই প্রথম নয় যে আমরা এত কাছে এসে ম্যাচ হেরেছি।”

ম্যাশ আরো বলেন, ” ব্যাটসম্যানেরা শেষের দিকে এসে আর সিঙ্গেল নিতে পারে নি। এছাড়াও আমরা অনেক বাজে ফিল্ডিং করেছি। আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২২ টি ডাবল নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছি যা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।”

সমর্থকেরাও আসলে জানে না যে বাংলাদেশ কবে এমন ম্যাচ জিততে পারবে। সমর্থকেরা চাইলে মুশফিককেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারেন এই জন্য যে কেন তিনি বড় শট খেলতে গেলেন যখন সিঙ্গেল নিয়েই ম্যাচ বের করা যায়।

টসে জেতার পর বাংলাদেশ বোলিং এর সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল না তা শুরুতেই মাশরাফি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনিং জুটিতে লুইসকে আউট করে জানান দিয়ে দেন।

এরপর মিরাজও গেইলকে আর ভয়ংকরে রূপ ধারণ করার সুযোগ দেয় নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ তখন টপ অর্ডার দুই ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায়।

কিন্তু পাওয়েল ও হেট্মায়ের অনবদ্য জুটি তাদের খেলায় ফিরে আসতে সহয়তা করে। পরবর্তিতে হেট্মায়ের সেঞ্চুরির উপর ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মোট ২৭১ রান করতে সমর্থ হয়।

Source: Hindustan Times

রুবেল সর্বোচ্চ ৩ টি উইকেট নেন। যদিও তিনি এই দিন অনেক খরুচে ছিলেন। তিনি ৯ ওভারে ৬১ রান দেন। এছাড়াও সাকিব ও মুস্তাফিজ উভয়ে ২ টি করে উইকেট লাভ করেন।

জবাবে, বাংলাদেশ দারুণ শুরু করেছিল।

মাত্ত্র ৪.৪ ওভারে তারা তাদের দলীয়ত দ্রুততম ফিফটি তুলে নেয়। এ যেন এক ছোটখাটো এক টর্ণেডো!

৩২ রানে এনামুল হক বিজয়ের বিদায়ের পর সাকিব মাঠে নামে। সাকিব এবং তামিম খুব সুন্দরভাবেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের সামাল দিয়েছিল। ২০ ওভার শেষে তাদের স্কোর তখন ১১৬/১।

কিন্তু এই জুটি আর বেশিক্ষণ টকতে পারল না। এই দুই ব্যাটসম্যানের প্রত্যকে অর্ধশত রান করে মাঠ থেকে বিদায় নেন। এরপর বাংলাদেশের সেই চিরচেনা ব্যাটিং ধ্বস!

এই দিকে যথা সময়ে  মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ রানের চাকা ঠিকই সচল করে রেখেছিলেন। হঠাত করে তাদের দুই জনের ভুল বোঝাবুঝিতে বাংলাদেশকে মাহমুদুল্লাহর উইকেটটি হারাতে হয়।

Source: Willow TV

খেলার এই অংশ থেকেই আসলে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে। যখন বাংলাদেশের ৭ বলে ৮ রানের দরকার ছিল তখন সাব্বির কিছুটা নিচু হয়ে আসা বলে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান।

এরপরে শেষ ওভারের প্রথম বলে মুশফিকও সাব্বিরের দেখানো পথে হাত বাড়ান।

শেষ মুহূর্তে মোসাদ্দেক ও মাশরাফি আর তাদের টার্গেট পূর্ণ করতে পারে নি। আর এভাবেই আরো একবার বাংলাদেশ তীরে এসে তরী ডুবালো।

 

 

 

, , , , , , , , , , , , , , ,