এশিয়া কাপ ২০১৮ঃ বাংলাদেশের বিপর্যয় ও ভবিষ্যতের সতর্কবার্তা

এশিয়া কাপ ২০১৮ এর শুরুটা বাংলাদেশের জন্যে বেশ ইতিবাচকই ছিল। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কানদের বিপক্ষে অসাধারণ জয় দিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ।

সেই ম্যাচে এক হাতে ব্যাটিং করতে নামা তামিম আর এক প্রান্তে অদম্য মুশফিকের সেঞ্চুরি সবই এখন ইতিহাস। এখন বাস্তবতা হল শেষ দুই ম্যাচে বাংলাদেশের অসহায় আত্নসমর্পন।

বিষয়টা এমন নয় যে, দুই ম্যাচ খারাপ করেছে বলেই আমরা বাংলাদেশের সমালোচনার মহাকাব্য লিখতে বসেছি। একটা দল দুই এক ম্যাচ খারাপ করতেই পারে। এটা খেলারই একটা অংশ। কিন্তু যখন খারাপ করার ধরনটা ধারাবাহিক ভাবে একই রকম হয় তখনই কিছু বিষয় চিন্তার কারন হয়ে দাঁড়ায়।

এশিয়া কাপ ২০১৮ঃ বাংলাদেশের বিপর্যয় ও ভবিষ্যতের সতর্কবার্তা
Image Source: Sport360

সিনিয়রদের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল এটি এখন এই মুহূর্তে বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় সমস্যা।

বাংলাদেশ দল এখন অনেকটাই দলের পাঁচ সিনিয়র খেলোয়াড় মাশরাফি, তামিম,মুশফিক, সাকিব ও মাহমুদুল্লাহ এর উপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল একটি দল। অবস্থাটা এমন যে, তাঁরা ব্যর্থ হলেই হেরে যায় বাংলাদেশ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এই পাঁচ জনকে একসাথে পঞ্চ পান্ডব নামে আখ্যায়িত করছেন। আর এই নামকরণ যে বাস্তবিক অর্থেই স্বার্থক তা দলের বর্তমান পারফর্মেন্স থেকেই বোঝা যায়।

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের নব যুগের শুরু হয় মূলত ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পরে। আর এই জাগরণের মূল কারিগর ছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তাঁর নেতৃত্বের সাথে ছিল তামিম,সাকিব,মুশফিক আর মাহমুদুল্লাহর ধারাবাহিক পারফরমেন্স।

সাধারণত এই পঞ্চ পান্ডবের পর্যায়ক্রমিক জ্বলে ওঠার কারনেই প্রতিপক্ষকে মাঝেমধ্যেই নাকানিচুবানি খাইয়ে ছেড়েছে টাইগার বাহিনী। তবে, পরে এই তালিকায় কিছুদিনের জন্যে যোগ হয়েছিলেন সৌম্য সরকারের মত তরুণ তুর্কি আর মোস্তাফিজুর রহমান এর মত রহস্যে ঘেরা পেস বোলিং প্রতিভা। কিন্তু অপার সম্ভাবনা জাগিয়ে শুরু করা সৌম্য সরকার এখন নিজেকে হারিয়ে খুজছেন। অন্যদিকে ‘ দ্যা ফিজ ‘ খ্যাত মোস্তাফিজুর রহমানও প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের কাছে এখন আর সেই অর্থে ‘ আনপ্লেএবল ‘ নেই।

আর বর্তমান দলে যে কয়জন সম্ভাবনাময় তরুণ রয়েছেন তার মধ্যে লিটন দাস, আর সাব্বিরকে নিয়ে অনেক আশা ছিল বোর্ড আর নির্বাচকদের। কিন্তু লিটন মাঝেমধ্যে কিছু ভাল ইনিংস উপহার দিলেও যথাযথ ধারাবাহিকতা না তা দলের জন্যে খুব একটা উপকারে আসছে না। আর সাব্বির তো মাঠে আর মাঠের বাইরে বিতর্কের ফুলঝুরি ছোটাতেই ব্যাস্ত, খেলায় মনোযোগ দেওয়ার সময় কই তার!

এশিয়া কাপ ২০১৮ঃ বাংলাদেশের বিপর্যয় ও ভবিষ্যতের সতর্কবার্তা
Image Source: Circle of Cricket

যাই হোক, বর্তমান আধুনিক ক্রিকেটে অন্য যে কোন দলের বিপক্ষে ধারাবাহিক ভাবে ভাল করতে হলে দলে এক বা একাধিক ‘ এক্সট্রা অর্ডিনারি ‘ টাইপের খেলোয়াড় দরকার। তা হোক ব্যাটিং, বোলিং এমনকি ফিল্ডিং এর ক্ষেত্রেও। অথচ, বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশ দল সিনিয়র পাঁচ খেলোয়াড় বাদে তরুনদের কাছ থেকে তেমন কোন সার্ভিসই পায় নি।

আর সেই ‘ এক্সট্রা অর্ডিনারি ‘ তো দূরে থাক, বাংলাদেশ ক্রিকেট কর্তারা এত বছরেও একজন অর্ডিনারি টাইপের লেগ স্পিনারই তৈরী করতে পারলেন না। অথচ তাঁরা প্রায়ই সারা দেশ ব্যাপি ‘স্পিনার হান্ট’ ও ‘ পেসার হান্ট ‘ এর মত কার্যক্রমে অঢেল অর্থ খরচ করছেন!

এমতবস্থায় অধিনায়ক মাশরাফির অবসর আলোচনা প্রায়ই মাথাচাড়া দিচ্ছে। আর অন্য চার সিনিয়র ক্রিকেটারের সবার বয়সই এখন ত্রিশের কোটায়। যদিও এখনই তাঁরা ফুরিয়ে গেছেন, বিষয়টা এমন নয়। কিন্তু এই সিনিয়রদের উপস্থিতিতেই তাঁদের উত্তম বিকল্প তৈরী করা না গেলে পরবর্তীতে দলকে এক বিশাল ধাক্কায় পড়তে হবে। ঠিক যেমনটা এখন শ্রীলঙ্কা দলের সাথে ঘটছে।

তাই এশিয়া কাপ বাংলাদেশ দলের ব্যর্থতাকে তিরস্কার না করে দেশের ক্রিকেট কর্তাদের এর সমাধানের দিকে নজর দেয়া উচিৎ। আর সেই সমাধানের সবচেয়ে কার্যকর উপায়টা শুরু করতে হবে একেবারে গোড়া থেকে। যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেরা খেলোয়াড় বাছাই করে তাঁদের সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্যে প্রস্তুত করতে হবে। তা না হলে হয়তো ভবিষ্যতে এমন ভরাডুবির আবর্তেই ঘুরতে থাকবে দেশের ক্রিকেট।

, , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,