এশিয়া কাপ ২০১৮ঃ অভাবনীয় এক জয়ে বেঁচে থাকল বাংলাদেশের ফাইনালের স্বপ্ন

অবশেষে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ জয়ের অভিজ্ঞতা হল বাংলাদেশের। আর আফগানিস্তানের সাথে অসাধারণ এই জয়ে এশিয়া কাপ এর ফাইনাল খেলার সম্ভাবনাও জেগে উঠলো বাংলাদেশের সামনে। শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাতে পারলেই ফাইনালে বাংলাদেশ।

এশিয়া কাপ ২০১৮ঃ অভাবনীয় এক জয়ে বেঁচে থাকল বাংলাদেশের ফাইনালের স্বপ্ন
Image Source: The Week

যদিও আফগানিস্তানের বিপক্ষে অসাধারণ এই জয়ের ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের জন্যে ছিল খুবই সাধারণ। তামিমহীন বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি যেন বালির বাঁধ। কখন সেটা ভেঙবে তাই দেখার অপেক্ষায় থাকতে হয় বাংলাদেশী দর্শকদের। অন্ততঃ শেষ দুই ম্যাচের অভিজ্ঞতা এমনটাই বলে।

এই ম্যাচেও এর খুব একটা ব্যাতিক্রম হয় নি। টসে জিতে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি ভাঙে মাত্র ৬ষ্ঠ ওভারের মাথায় দলীয় ১৭ রানে। আফগান পেসার আফতাব আলমকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হন নবাগত শান্ত। এরপরেই আফগান স্পিনার মুজিবের ঘূর্ণির শিকার হন তিন এ নামা মিঠুন।

এই বিপর্যয় সামলে নিয়ে বেশ ভালভাবেই আগাচ্ছিলেন লিটন দাশ আর মুশফিক। কিন্তু রশিদ খানকে স্লোগ সুইপ করতে গিয়ে দলীয় ৮১ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন দারুন খেলতে থাকা লিটন। লিটন ফিরে যাওয়ার পরেই পরপর দুই ওভারে অদ্ভুত ভাবে রান আউট হন সাকিব ও মুশফিক। আর দলের স্কোর তখন ৫ উইকেটে ৮৭ রান।

এমন অবস্থায় এই এশিয়া কাপে আরো একটি ব্যাটিং ব্যর্থতার মিছিল উপহার দেওয়ার জন্যে প্রস্তুত হচ্ছিলো বাংলাদেশ দল। কিন্তু এর পরেই নাটকীয় ভাবে পাল্টে যেতে শুরু করে খেলার দৃশ্যপট। ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে অসাধারণ খেলতে শুরু করেন হঠাৎই দেশ থেকে আবুধাবি উড়ে যাওয়া ইমরুল কায়েস আর মাহমুদুল্লাহ। উইকেট এবং খেলার পরিস্থিতি বুঝে সিঙ্গেল, ডাবল আর মাঝেমধ্যে দুইএকটা বাউন্ডারি মেরে আগাতে থাকেন এই দুজন।

এশিয়া কাপ ২০১৮ঃ অভাবনীয় এক জয়ে বেঁচে থাকল বাংলাদেশের ফাইনালের স্বপ্ন
Image Source: United News Bangladesh

খেলা যত আগাচ্ছিল এই জুটির ব্যাটিংও তত দর্শনীয় হচ্ছিল। কায়েস-মাহমুদুল্লাহ জুটি ভাঙার সব রকম চেষ্টাই চালিয়ে যান আফগান অধিনায়ক আর বোলারেরা। আর এদিন উইকেট না পেয়ে মাঠেই হতাশা আর রাগ প্রকাশ করে রশিদ খানও যেন বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি মাত্রই টিন এজ পার করা এক খেলোয়াড়।

যাই হোক, অবশেষে ৪৭ তম ওভারে ব্যক্তিগত ৭৪ রানে মাহমুদুল্লাহর আউটের মাধ্যমে ভাঙে কায়েস-মাহমুদুল্লার ১২৮ রানের ৬ষ্ঠ উইকেট জুটি। এটিই ৬ষ্ঠ উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটি। এরপরে মাশরাফি আর মেহদীকে নিয়ে দলের স্কোরটা ৫০ ওভারে ২৪৯ রানে নিয়ে যান ইমরুল। ৭২ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন তিনি। আর শেষ দশ ওভারে বাংলাদেশ করে ৭৮ রান।

আবুধাবিতে ২৫০ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড বিবেচনা করলে মানসিক ভাবে কিছুটা এগিয়ে থেকেই বোলিং শুরু করে বাংলাদেশ। মাত্র ২৬ রানের মধ্যেই তুলে নেয় আফগানিস্তানের ২ উইকেট। আর মিঠুন মোহাম্মদ শেহজাদের সহজ ক্যাচটি না ছাড়লে আরো বিপদে পড়তে হত আফগানদের। এরপরেই দাড়িয়ে যায় শেহজাদ-শাহিদী জুটি।

ম্যাচের ২৭তম ওভারে আবারো মাহমুদুল্লাহ চমক। ক্রমেই ভয়ঙ্কর হতে থাকা শেহজাদকে ক্লিন বোল্ড করে ম্যাচে ফেরান দলকে। কিন্তু আফগান অধিনায়ক আসগর আফগানকে সাথে নিয়ে দলকে আবারো লড়াইয়ে ফেরান হাসমতুল্লাহ শাহিদী। অধিনায়ক আসগর বিদায় নিলেও অন্য প্রান্তে রানের চাকা সচল রেখে খেলতে থাকেন দূর্দান্ত ফর্মে থাকা শাহিদী।

শেষ ১০ ওভারে আফগানদের জয়ের জন্যে প্রয়োজন ছিল ৮১ রান, হাতে ৬ উইকেট। বর্তমান টি২০ এর যুগে এটি কোন ব্যাপারই না। তার উপর তখন ক্রিজে আছেন টি২০ স্পেশালিষ্ট মোহাম্মদ নবী। শেষ ৫ ওভারে ৫১ রান প্রয়োজন ছিল আফগানিস্তানের। আর শেষ ওভারে তা গিয়ে ঠেকে ৮ রানে।

এশিয়া কাপ ২০১৮ঃ অভাবনীয় এক জয়ে বেঁচে থাকল বাংলাদেশের ফাইনালের স্বপ্ন
Image Source: Lastnewsbd.com

এমতবস্থায় আফগানদের জয়টাই অবশ্যম্ভাবী ছিল। কিন্তু বোলারের নাম যেহেতু মোস্তাফিজুর রহমান তাই চমকপ্রদ কিছুর আশা ছিল বাংলাদেশের। আর সেই চমকপ্রদ কিছুর উপহারই দিলেন ‘দ্যা ফিজ’। শেষ ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে ৩ রানের অসাধারণ এক জয় উপহার দেন দলকে। সারা ইনিংসে অসাধারণ খেলা আফগানরা হেরে যায় ম্যাচের শেষ বলে।

বাংলাদেশের এই জয়ে এশিয়া কাপ থেকে আফগানিস্তানের বিদায় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেল। তবে এমন ম্যাচে জয় পরাজয় যাই হোক, প্রকৃত বিজয়টা হয় ক্রিকেটেরই।

, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,