এবিডি ভিলিয়ার্স: এক মহানায়কের অকাল বিদায়

এমন অনেক খেলোয়াড় রয়েছে যারা দক্ষতা, অধ্যবসায় এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তাদের দলের জন্য অবদান রেখেছে। কিন্তু খুব অল্প সংখ্যকেরই ক্ষমতা রয়েছে বিনোদন দেওয়ার। আব্রাহাম বেঞ্জামিন ডি-ভিলিয়ার্স, যিনি এবিডি ভিলিয়ার্স নামেই সমধিক পরিচিত- তাদের মধ্যে একজন।

এবিডি ভিলিয়ার্স
Source: Cricket – Upcoming Wiki

ক্রিকেট ভদ্রলোকের  খেলা এবং এবিডি ভিলিয়ার্স নিঃসন্দেহে আধুনিক ক্রিকেট যুগের অন্যতম স্মার্ট এবং ভদ্র ক্রিকেটার। যদিও তাঁর ক্রিকেটীয় দক্ষতাই তার গ্রেটনেসকে যথাযথভাবে প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট, কিন্তু সাথে তার চারিত্রিক গুণাবলি তাকে ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে এক প্রকৃত অল-রাউন্ডার হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে। তাই খুব স্বাভাবিক ভাবেই তার হঠাৎ অবসর নেয়ার ঘোষণা প্রতিটি ক্রিকেট ভক্তদের কাছেই অনেকটা বিনা মেঘে বর্জ্রপাতের মত।

২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এবি তার টেস্ট ক্রিকেটের যাত্রা শুরু করেন এবং ২০০৫ সালের প্রথম দিকে একই প্রতিপক্ষের  বিরুদ্ধে তার প্রথম ওডিআই ম্যাচটি খেলেন। এবি’র ক্যারিয়ার উজ্জ্বল করেছে ১১৪ টি টেস্টে ৮,৭৬৫ রান এবং ২২৮ টি ওয়ানডে ম্যাচে ৯,৫৭৭ রান,  উভয় ফর্মেটেই যা এসেছে পঞ্চাশেরও বেশি গড়ে। এর বাইরেও এবি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তার উদ্ভাবনী শটগুলির জন্যেই বেশি পরিচিত। উইকেটরক্ষক এবং স্লিপের পিছন দিয়ে হাঁকানো সেইসব অবিশ্বাস্য শটগুলোর কারণে ক্রিকেটবিশ্ব তাকে মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি নামেও চেনে।

যদিও এবি তার ক্যারিয়ার শুরু করেন একজন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ও উইকেটরক্ষক হিসেবে, কিন্তু তার ৭ টি ওডিআই (যার মধ্যে ২০১৫ বিশ্বকাপেই ৪টি) এবং ২ টি টেস্ট উইকেট শিকার প্রমাণ দেয় তিনি হাতও ঘুরাতে পারেন। এছাড়া উইকেটের পেছনে এক টেস্টে ১১টি ডিসমিসালের বিশ্বরেকর্ড রয়েছে ভিলিয়ার্সের। এসব কারণে তিনি ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত।

এবিডি ভিলিয়ার্স
Source: SVG-TV

তিনবার আইসিসি’র নির্বাচিত সেরা খেলোয়াড় এবিডি ভিলিয়ার্সের রেকর্ড বইয়ে জ্বলজ্বল করছে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুততম ৫০(১৬ বলে), ১০০(৩১ বলে) এবং ১৫০(৬৫ বলে) করার অনন্য বিশ্ব রেকর্ডগুলো। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টের এক ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের মালিকও (অপরাজিত ২৭৮) এবি। টানা ৭৮ টি ম্যাচে তাকে কোন বোলার শূণ্য রানে আউট করতে পারেনি, যা আরেকটি বিশ্ব রেকর্ড। এছাড়া টেস্ট এবং ওডিআই মিলে ৩৯৮ টি ক্যাচ তার ফিল্ডিংয়ের শ্রেষ্ঠত্বও প্রমাণ করে।

আইপিএলে দিল্লি এবং রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালোরের হয়ে খেলতে গিয়ে এবি প্রচুর ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীর মন জয় করেছেন। তিনি আইপিএল ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যানদের মধ্যে একজন। ক্ষুদ্র ভার্সনের এই টুর্নামেন্টে তার তিনটি শতকও রয়েছে।

এবি’র ব্যক্তিগত জীবনও যথেষ্ট বর্ণিল। ২০১২ সালে তিনি তার বান্ধবীকে তাজ মহলের সামনে প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং ২০১৩ সালে তাকেই বিয়ে করেন। এই দম্পতির দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। এবিডি ভিলিয়ার্স একজন ভাল গিটার প্লেয়ার এবং গায়কও। ২০১০ সালে তিনি তার কয়েকজন বন্ধু মিলে একটি পপ অ্যালবাম প্রকাশ করেন।

একটি দল হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা সব সময়ই বড় টুর্নামেন্টে হোঁচট খায়। ক্রিকেটে ট্র্যাজেডির বিপরীত নাম দক্ষিণ আফ্রিকা। বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ট্রফি  ছাড়া তাই এবি’র নামের পাশে আন্তর্জাতিক কোন ট্রফি নেই। কিন্তু এই খেলাটির প্রতি এবি’র ভক্তি ও অবদানের ফলস্বরূপ বর্তমান সময়ের সবচেয়ে প্রিয় ক্রিকেটার হিসেবে সবাই এক নামে এবি-কেই চেনে।

এবিডি ভিলিয়ার্স
Source: Sportskeeda.com

সে কারণে সমর্থকরা তার অবসরের ঘোষণায় স্বাভাবিক ভাবেই হতাশ হয়েছেন, মন খারাপ করছেন। কিন্তু এবি’র এই সিদ্ধান্তের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখিয়ে আমাদের সবার উচিত খেলার বাইরের মাঠে তার সুখী জীবনের জন্য প্রার্থনা করা এবং খেলোয়ার জীবনে দেওয়া অকৃত্রিম সব বিনোদনের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানানো।

, , , , , , , , , , , , , ,