উরুগুয়ের মারাত্মক ভুলের খেসারত ফ্রান্সকে সেমি-ফাইনালে পৌঁছাতে সাহায্য করল

ফ্রান্স আরো একবার ১২ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে পৌঁছল এবং এটি তাদের ফুটবল ইতিহাসে ৬ষ্ঠ সেমি-ফাইনাল। এই জয় ফ্রান্সের সমর্থকের জন্য আনন্দেরই বিষয় যারা নিঃস্বার্থভাবে ফ্রান্সকে সমর্থন করে গেছে যার প্রতিদান স্বরূপ ফ্রান্স দল তাদের একটি খুশির সংবাদ দেয়।

Source: Euro Sport

ম্যাচের আগে বলা হচ্ছিল যে উরুগুয়ের ডিফেন্স হচ্ছে সবথেকে সেরা আর সেই সাথে ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড হচ্ছে অনেক শক্তিশালী। এই ধরণের কোন কথাই তেমন কোন বিষয় না। কারণ খেলায় কে কেমন খেলল সেটাই সব থেকে বড় কথা।

উরুগুয়ে তাদের প্রথম গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল। খেলার ৪র্থ মিনিটে, “লাক্সাল্ট বা প্রান্ত থেকে পেনাল্টি বক্সের দিকে বল ক্রস করে যেখানে ক্রিস্টিয়ান স্টুয়ানি অতি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে।

কিন্তু ঘুরেফিরে বল আবার নাদেজের কাছে যায়। তখন ফ্রান্সের জন্য এক ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। কিন্তু রাফায়েল ভেরেন অতি দ্রুত বলকে ডি-বক্সের বাইরে পাঠিয়ে দেন এবং ফ্রান্সকে বিপদমুক্ত করে।”

এরপর ১৪ তম মিনিটে উরুগুয়ে তাদের প্রথম কর্ণার পায়। ্সেই কর্ণার থেকে বল ফ্রান্সের পেনাল্টি বক্সের ভিতরে চলে আসে এবং হুগ লরিস বলকে বিপদ সীমানার বাইরে পাঠাতে বলে একটি নিচু ডাইভের আঘাত করে।

কর্ণারের ২ মিনিট পরেই ফ্রান্সকে আক্রমণে যায়। সেই আক্রমণে গোলই হয়ে যেত যদি না এম্বাপে হেড-শট না নিত। সে যদি বলের গতিকে নিজের আয়ত্তে এনে তারপর শট নিত তাহলে তা ফ্রান্সের জন্য কার্যকরী হিসেবে প্রমাণিত হতে পারত।

প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় ফ্রান্সকে একটি গোল করার জন্য প্রচুর কষ্ট করতে হয়েছে। প্রতি বারই তাদের উরুগুয়ের পাহাড়সম দৃঢ় রক্ষণভাগের কাছে পরাস্ত হতে হয়েছে।

ম্যাচের ৪০ তম মিনিট এবং সাফল্যের দেখাঃ

ডি-বক্সের খুব কাছে থেকেই ফ্রান্স ফ্রি-কিক পেল। ফ্রি-কিকটির পেছেনে গ্রিজম্যানের অবস্থান। বল হাওয়ায় ভাসল এবং এরপর রাফায়েল ভারানের হেড এর মধ্য দিয়েই ফ্রান্স খেলায় এগিয়ে গেল। ফ্রান্সের জন্য তখন এটিই দরকার ছিল।

Source: Goal

উরুগুয়ের দলে কাভানির অভাবঃ

এর কিছুক্ষণ পরেই খেলায় ফেরার জন্য উরুগুয়ে একটি ভালই সুযোগ পেয়েছিল। উরুগুয়ে খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগেই রেফারির কাছ থেকে একটি কর্ণারের সংকেত পায়।

যথা সময়েই ফ্রি-কিক নেওয়া হল এবং শট নেওয়ার পর বল তখন বাতাসে ভাসছে। মার্টিন তার সেরাটা দিয়ে বলকে গোলপোস্টের ডান কর্ণারের নিচু দিয়ে জালে জড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু লরিসের অসাধারণ চেষ্টা ফ্রান্সকে গোল হওয়া থেকে বাঁচিয়ে দেয়।

এরপর বল আবার স্টুয়ানির কাছেই ফেরত যায় এবং এবারও সে অনেক কাছে থাকা স্বত্তেও বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু লরিসের প্রশংসা করতেই হয়।

যদি না সে খুব বিচক্ষণতার সাথে ঝাপ না দিত তাহলে তা উরুগুয়ের জন্য গোলই হয়ে যেত। অবশ্যই, এ সময় উরুগুয়ে কাভানির অভাব হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছিল।

Source: ESPN

বিরতির পর ফ্রান্স নিজেদের দখলেই বল রেখে খেলছিল। খেলার ৬১ তম মিনিটে গ্রিজম্যানের দূর-পাল্লার শট মুসলেরার জন্য থামানো অতোটা কঠিন ছিল না। কিন্তু বল তার হাত হতে ফসকে গোল লাইনের ভিতরে চলে গেলে তা গোল হয়ে যায়। উরুগুয়ের এই ছোট্ট কিন্তু মারাত্মক ভুল তাদের সেমি-ফাইনালে খেলার স্বপ্নকে ভেঙে চুরমার করে দেয়। উরুগুয়ে শেষ সেমি-ফাইনাল খেলাছিল ২০১০ বিশ্বকাপে।

Source: Technical Friends

সত্যি বলতে ফ্রান্সের এই সেমি-ফাইনালে আসার পথ বিশ্লেষণ করতে গেলে বলতে হয় যে তাদের এই বিশ্বকাপে এত প্রতিভা থাকার পরেও তারা সব থেকে উঁচু মানের খেলা সম্ভবত প্রদর্শন করতে পারে নি। কিন্তু তারা সেমি-ফাইনালে উঠেছে যা সত্যিই মনমুগ্ধকর। ফ্রান্সের পক্ষে আরো গোল করা সম্ভব ছিল। আপনারাও কি একমত যে ফ্রান্সের যেই ধরণের খেলার কথা ছিল তা তারা পারে নি?

এখন দেখার বিষয় তারা ফাইনালে যেতে পারে নাকি পারে না।

, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,