উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ: ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের প্রতিপক্ষ লিভারপুলের অলরেড আর্মি

সারা মৌসুমে অনেক নাটকীয় ইভেন্টের পর, চ্যাম্পিয়নস লিগ তার শিরোপার আসল দুই দাবিদারকে খুঁজে পেয়েছে। কিয়েভে অনুষ্ঠিতব্য ২৭শে মে এর ফাইনাল ম্যাচটি হতে চলেছে  রিয়েল মাদ্রিদ বনাম লিভারপুলের এক মহারণ।

রিয়াল মাদ্রিদ ঠিক আছে, তবে আমার মনে হয় না আপনারা  লিভারপুলকে এবারের ফাইনালে আশা করেছিলেন। আসলে,আপনার আমার অনুমানে মো সালাহ আর তাঁর বাহিনীর কিছুই যায় আসে না।

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ
Source: TN.com

রিয়াল ও লিভারপুল দুই দলের কেউই তাঁদের দ্বিতীয় লেগে জিততে পারি নি। আসলে প্রথম লেগের ফলাফলই তাঁদের উভয়কেই ফাইনালে নিয়ে গেছে। এগ্রিগেটে রেজাল্টে এগিয়ে থেকেই এবার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে দুই দল।

বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদ:  (৪-৩)

বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদ
Source: The Indian Express

শেষ পর্যন্ত, উভয় দলই এই সপ্তাহে  চমৎকার খেলা উপহার দিয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় দুই দলের পারফরম্যান্সই এই সপ্তাহে বেশ ভালই ছিল। বায়ার্ন খেলার শুরুতেই চমৎকার কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিলো। প্রথম লেগের বায়ার্নের একমাত্র গোলদাতা জোশুয়া কিমিচ মাচের প্রথম গোলটি করেন খেলা শুরুর মাত্র ৩ মিনিটের মধ্যেই।

কিন্তু বায়ার্নের তাঁদের সেই আশার আলো বেশিক্ষন ধরে রাখতে পারে নি। ম্যাচের ১১ মিনিটে বেনজেমার হেডে খেলায় ফিরে আসে  রিয়াল। এই ফরাসি স্ট্রাইকার  দ্বিতীয়ার্ধের ১ম মিনিটে আবারও গোল করে বসেন। তবে তাঁর এবারের গোলটি ছিল বায়ার্নের গোল কিপার উলরেইচ এর মারাত্নক এক ভুলের মাশুল। তিনি পিছলে গিয়ে আলবার কাছ থেকে আসা সহজ একটি ব্যাক পাস তালু বন্দি করতে ব্যর্থ হন, যদিও তার প্রচেষ্টাও খুব একটা দর্শনীয় ছিল না। তীব্রগতি সম্পন্ন বেনজেমা বলটি জালে পাঠিয়ে বাকি কাজটি সম্পন্ন করেন।

৬৩  মিনিটে রিয়ালের সাবেক ঘরের খেলোয়াড় জেমস রদ্রিগেজ ম্যাচের সমতা সূচক গোলটি করেন। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার আগে আর কোন গোল না হওয়ায় ২-২ গোলের ড্র তেই ম্যাচ শেষ হয়। আর  এই ড্র বায়ার্নের ফাইনালে যাও্যার জন্যে যথেষ্ট না হলেও রিয়াল ঠিকই টানা ৩য় বারের মত চ্যাম্পিয়ানস লিগের ফাইনালে পৌঁছে যায়।

রোমা বনাম লিভারপুল: ৪-২  (৬-৭)

রোমা বনাম লিভারপুল
Source: informador.mx

রোমা একটি বিরাট সমীকরণ সামনে রেখে ঘরের মাঠে খেলতে  নেমেছিল। ৩২ বছরের মধ্যে তাদের দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন লীগ  ফাইনাল নিশ্চিত করতে হলে তাঁদের  লিভারপুলের বিপক্ষে আরেকটি মহাকাব্য রচনা করতে হত। কিন্তু এবার রোমা সেটা করতে ব্যর্থ হয়।

লিভারপুল মাত্র ৯ মিনিটে সাদিও মেনের গোলে দিয়ে ম্যাচ শুরু করে। আর ১৫ মিনিটে মিলনারের একটি হাস্যকর আত্নঘাতী গোলের কারনে ম্যাচে ফিরে আসে রোমা, কিন্তু ২৫ মিনিটে জর্জিনো উইজানালদামের গোলে আবার ম্যাচের লিড ফিরে পায় লিভারপুল। এডিন জেকো ৫২ মিনিটে রোমার দ্বিতীয় গোলটি করে ম্যাচে ফেরার আশা বাচিয়ে তোলেন। রোমা ম্যাচের বাকি সময়টা গোল করার কঠোর প্রচেষ্টা চালায়।

শেষ পর্যন্ত, রদজা নেইনগোলানের জোড়া গোলে ৪-২ গোলে ম্যাচ জিততে সক্ষম হয় রোমা। ম্যাচের বিজয়ী হিসেবে রোমা যথেষ্ট ভালো খেললেও ফাইনালে যাওয়াটা তাঁদের আর এই যাত্রায় হল না। প্রথম লেগের ৫-২ ফলাফলে এগ্রিগেটে ৭-৬ গোলের ব্যবধানে জিতে ১১ বছর পর চ্যাম্পিয়ানস লিগের ফাইনালে জায়গা করে নেয় ইয়র্গেন ক্লোপের  অলরেড আর্মি।

লিভারপুল কি ফাইলালে রিয়ালকে টানা ৩ বারের  চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ের রেকর্ড করা থেকে আটকাতে পারবে? এই উত্তরের জন্যে আমাদেরকে চলতি মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

, , , , , , , , , , , ,