উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ: সেমিফাইনালের প্রথমশর্ত পূরন করে রাখলো বার্সা ও লিভারপুল, সাথে রিয়াল আর বায়ার্নও

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের পর চারটি দল স্পষ্টভাবে এক ধাপ এগিয়ে গেল অন্য চারটি দল থেকে। ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়া সবাই তাদের পূর্বনির্ধারিত জয় পেয়েছে। লিভারপুলের কাছে হেরেছে সিটি, বিপরীতে রিয়েল এবং বায়ার্ন প্রতিপক্ষের মাঠে অসাধারণ জয় নিয়ে ঘরে ফিরেছে। বার্সাও তাঁদের ঘরের মাঠে জিতেছে।

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ
Source: UEFA.com

চলুন তাহলে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের প্রতিটি ম্যাচের ৩৬০ডিগ্রি চিত্র দেখে নেয়া যাক।

জুভেন্টাস বনাম রিয়াল মাদ্রিদ:

Source: Radio Nawa

এবছরে প্রথমবারের মত গতবারের দুই ফাইনালিস্টের দেখা হয় এদিন। এতক্ষনে সবাই জেনে গেছেন ইয়্যূভেন্তাস ৩-০ তে ঘরের মাঠে রিয়ালের কাছে পরাজিত হয়েছে। আসলে, এই স্কোর লাইন আপনাকে কখনোই ঐ ম্যাচের উত্তেজনাপূর্ণ গল্প গুলো বলতে পারবেন না। দর্শকদের বিস্মিত করার জন্য কি ছিল না এই ম্যাচে? রোনালদোর অসাধারন ফ্লিকে রিয়াল তাঁদের ১ম গোল পায় খেলার ৩য় মিনিটেই।

এরপর ইয়্যুভেন্তাস ম্যাচে সমতা ফেরাতে আপ্রান চেষ্টা করে, কিন্তু ৬৭ মিনিটে হঠাৎই সিআর৭ ইয়্যুভেন্তাসের পোস্টের সামনে অদৃশ্য ‘উলটো বাইসাইকেলে’ চড়ে তাঁর বিস্ময়কর গোলটি করে বসেন। প্রকৃতপক্ষে, ‘বিস্ময়কর’ শব্দটিও এই বিস্ময়কর গোলটি বর্ণনা করতে যথেষ্ট নয়। আমরা না হয় অন্য কোন লেখাতে এটা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলবো। বাকি ম্যাচটি ছিল ইয়্যুভেন্তাসের ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টার গল্প। তাদের ধারাবাহিক আক্রমণের মধ্যে মার্সেলো রিয়ালের হয়ে ম্যাচের তৃতীয় গোলটি করেন ৭২ মিনিটে এবং বাকি ম্যাচে এই ৩-০ থেকে যায়।

সেভিয়া বনাম বায়ার্ন মিউনিখ:

Source: Channel NewsAsia

আপনাদের এমন একটি ম্যাচের কথা বলবো যার প্রতিটি গোলই একই দেলের খেলোয়াড়েরা করেছে, কিন্তু ম্যাচ শেষে স্কোর ছিল ২-১। আরো অবাক হবেন যে, যারা গোল করেছে তাঁরাই আবার হেরেছে। আচ্ছা আর বিভ্রান্ত না করে এবার খোলাসা করি। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে, সাভিয়াকে ঘরের মাঠে লিড এনে দেন পাবলো সারাবিয়া। পরের গোলটি ফ্রাঙ্ক রিবেরির সমতা আনার সট থেকেই আসে, তবে মাঝ পথে সেভিয়ার মিডফিল্ডার জিজুস নাভাসের পায়ে লেগে সম্পূর্ন গতিপথ পালটে নিজেদের জালে জড়ায়।ম্যাচের স্কোর শীট আপনাকে বলবে যে বায়ার্ন তাঁর দ্বিতীয় এবং ম্যাচজয়ী গোলটি পয়েছে থিয়েগো আলকানতারার কাছ থেকে, কিন্তু সেভিয়া ডিফেন্ডারের মৃদূ স্পর্শ না পেলে তাঁর হেডটি ধরা গোলরক্ষকের জন্যে একটা সহজ কাজই হতো ।

বার্সেলোনা বনাম রোমা:

Source: FC Barcelona

সাম্প্রতিক অতীতে বার্সার সাথে রোমার তেমন খুব ভাল স্মৃতি নেই। গতকাল রাতও বার্সার বিপক্ষেও তাদের অন্য ভুলে যাওয়ার মত একটি রাতই ছিল। বার্সেলোনার সমর্থকদের মেসি সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছিল যে তিনি খেলবেন কি খেলবেন না। যে বিভ্রান্তির অবসান ঘটেছে, তিনি শুরুর একাদশেই মাঠে নেমেছেন। যদিও তিনি ম্যাচের স্কোরশিটে নাম তুলতে পারেন নি।

এই ম্যাচেও পরাজিত দলই সবচেয়ে বেশি গোল করেছে। রোমা ডিফেন্ডার ডি রোসি এবং কোস্টাস মানোলস বার্সার জন্য প্রথম দুটি গোল উপহার দেন। ৫৯ তম মিনিটে তৃতীয় গোল করেন পিকে এবং ৮৭ তম মিনিটে সুয়ারেজের শেষ গোলটি করেছেন। বার্সার এই গোল উৎসবের মধ্যে ৮০ মিনিটের সময় রোমার সান্ত্বনাসুচক এওয়ে গোলটি করেন এডিন জেকো।

লিভারপুল বনাম ম্যান সিটি:

Source: twitter.com

এই অল ইংলিশ কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে ম্যান সিটির লিভারপুলের জাদুকর মোহাম্মদ সালাহের জাদুর কাঠির কাছেই ছিটকে গেছে। আক্ষরিক অর্থে ম্যাচটি ৩১ মিনিটেই শেষ হয়ে যায়, যেখানে লিভারপুল তাঁদের তিনটি গোলই করে ফেলে। প্রথম গোলটি আসে ১২ মিনিটের সময় সালাহর নিখুঁত ফিনিশিং থেকে, পরেরটি আসে ২০ মিনিটের সময় আলেক্স চেম্বারলিনের অসাধারণ সট থেকে। তিনি বাক্সের বাইরে থেকে হাফ ভলিতে লক্ষ ভেদ করেন আর এক্ষেত্রে গোল রক্ষক তার প্রতিক্রিয়া দেখানোর সুযোগই পান নি।

শেষ গোলটি সাদিও মেনের কাছ থেকে আসলেও, এটিও সালাহর ই বানানো। সালাহ বক্সের ভেতর থেকে দ্বিতীয় বারে উপরে একটি অসাধারণ ক্রস করেন, এক্ষেত্রে মেনের কাজ ছিল মাথার সাথে বলের সুন্দর সংযোগ ঘটানো। তিনি ঠিকই তা করেন এবং আনাফিল্ডের দর্শকদের আনন্দের জোয়ারে ভাসান। গার্দিওলার শিষ্যরা, যারা কিনা তাদের সাম্প্রতিক ফর্মের চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল, বাকি ম্যাচ তাঁরা শুধু ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টাই চালিয়ে যায়। যদিও, তারা বলের সর্বোচ্চ দখল নিজেদের কাছেই রাখে, কিন্তু প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে পায় নি। হয়তো, তারা গত রাতে তাদের সেরা মেজাজে ছিল না।

, , , , , , , , , , , , , , , ,