ইন্ডিয়ান ওয়েলস টেনিস ২০১৮; রাজার হার ও নতুন রানীর আগমন

গত দুই দিন আগেই ১২ বছর আগের নিজের টানা জয়ের রেকর্ড ১৬ ম্যাচ ভেঙ্গে ১৭ ম্যাচ করা ফেদেরাকে অবশেষে থামতে হল ফাইনালে। বয়সের অঙ্ককে বুড়ো দেখিয়ে আবারো র‍্যাঙ্কিং এর শীর্ষে ওঠা সুইচ রজার ফেদেরারকে এ দিন বছরের ১ম হার উপহার দিয়ে শিরোপা নিজের করে নেন আর্জেন্টাইন হুয়ান মারটিন দেল পোত্রো । অন্য দিকে নারীদের ফাইনালে রাসিয়ান দারিয়া কাসাতকিনাকে হারিয়ে এই আসরের অন্যতম চমক জাপানিজ নাওমি ওসাকা নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম কোন বড় শিরোপা জিতে নেন আর সেই সাথে ক্যারিয়ারের সেরা র‍্যাঙ্কিং ২২ অবস্থানও।

ক্যালিফরনিয়ার মরুময় অঞ্চলে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের রবিবারের ফাইনালে দেল পোত্রো ৬-৪, ৬-৭, ৭-৬ গেমে ফেদেরারকে নাটকীয় ভাবে হারিয়ে নিজের ১ম এটিপি ওয়ার্ল্ড ট্যুর মাস্টার্স ১০০০ খেতাব জিতে নেন। ১ম সেটে ফেদেরার ৬-৪ গেমে হেরে গেলেও ২য় সেটে খেলা দারুন ভাবে জমে ওঠে। দেল পোত্রো ২য় সেটের টাই ব্রেকারে ৮-৭ এগিয়ে থেকেও ৩ পয়েন্ট হেরে বসায় খেলা গড়ায় ৩য় সেটে। অবশেষে ৩য় সেটের খেলাও গড়ায় টাই ব্রেকারে, আর সেখানে ৬-১ এর লিড এ ৩য় ম্যাচ পয়েন্ট নিয়ে খেলা শেষ করন দেল পোত্রো। আর এতেই থেমে যায় ফেদারারের জয়রথ এবং দেল পোত্রো অর্জন করেন তার ইনজুরি জর্জরিত ক্যারিয়ারের ৩য় বড় কোন খেতাব।

অসীম সম্ভাবনার সাথে ক্যারিয়ার শুরু করা দেল পোত্রোর ২০০৯ সালের ইউএস ওপেন জয়ের পরে ২০১০ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত সময়টা কোর্টের চেয়ে বেশি হাসপাতালেই কাটে । এই সময়ের মধ্যে তাঁকে কব্জির চারটি বড় অস্ত্রপচার ছাড়াও মোট ১৪ বার শল্য চিকিৎসকের ছুরির নিচে যেতে হয়। ইনজুরি আর হতাশায় জর্জরিত হয়ে নিজের ক্যারিয়ারের ইতি টানার চিন্তা ভাবনাও করে ফেলেছিলেন। কিন্তু ২০১৬ তে আর্জেন্টিনার হয়ে ডেভিচ কাপ জিতে আবার লাইম লাইটে ফিরে আসেন। আর অনেকটা নীরবে শুরু করেও ২০১৮ এর ইন্ডিয়ান ওয়েলস ওপেন চ্যাম্পিয়ান হয়ে আবারো নিজের প্রতিভা এবং সম্ভাবনার কথা টেনিস বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিলেন।

ইন্ডিয়ান ওয়েলস রজার ফেদেরার
Source: Inside Tennis

ম্যাচ শেষে নিজের অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, “এটা ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন, এটা একটা স্বপ্নের মতো। আমি এটা অর্জনের জন্যে অনেক খেটেছি, এবং আমি এটা করতে পেরেছি আমার যাবতীয় সমস্যা আর অস্ত্রপচারের পরেও। বিশ্বাসই করতে পারছি না আমি এখানে রজার কে হারিয়ে একটি মাস্টার্স ১০০০ খেতাব জিতেছি। এটা সত্যিই অসাধারণ। ’

Juan Martin del Potro
Source: The Indian Express

অপর দিকে নারীদের এককের ফাইনালে টেনিস বিশ্ব এক নতুন নক্ষত্রের দেখা পেয়েছে। উদীয়মান তারকা হিসেবে বিগত কয়েক টুর্নামেন্টে আলোচনায় থাকা জাপানিজ নাওমি ওসাকা নারীদের র‍্যাংকিং এ ৪৪এ থেকে এই টুর্নামেন্ট শুরু করেন। আর চ্যাম্পিয়ান হওয়া পর্যন্ত তাঁর এই অসাধারণ জয়যাত্রায় তিনি টপ র‍্যাংকার সিমোনা হেলেপ সহ নাম্বার ৫ ক্যারলিনা প্লিস্কোভা, মারিয়া শারাপোভার মত বড় বাঁধা টপকেছেন অনায়াসেই। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি সেট হেরেছেন। আর ফাইনালের কথা কি বলবো? রাসিয়ান দারিয়া কাসাতকিনাকে মাত্র ৭০ মিনিটে ৬-৩, ৬-২ গেমে সরাসরি সেটে এক কথায় উড়িয়েই দিয়েছেন মরুভূমির বালিতে।

নাওমি ওসাকা ইন্ডিয়ান ওয়েলস টেনিস
Source: Women’s Tennis Blog

তিনি যে বিশ্ব টেনিসে এক নতুন সম্ভাবনা আর বিস্ময় নিয়ে হাজির হয়েছেন তা তাঁর ম্যাচ পরবর্তী উদ্বৃতিতেই আন্দাজ করা যায়। জয়ের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, “আমি আসলেই বুঝতে পারছিনা কি হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে আরো একটি ম্যাচ আছে যা কাল আমাকে খেলতে হবে, আমি এটার মধ্যে ডুবতেই পারছি না যে আমি জিতে গেছি।“

ওহ, মজার কথা তো আপনাদের বলাই হয় নি। ওসাকা আসলে জাপানিজ টেনিসের প্রতিনিধিত্ব করেলেও তিনি আংশিক হাইতিয়ান, আংশিক জাপানি ও বাকিটা আমেরিকান । অবাক হচ্ছেন। আসলে নাওমি ওসাকার জন্ম জাপানের ওসাকাতে ১৯৯৭ সালে হাইতিয়ান বাবা ও জাপানিজ মায়ের ঘরে, পরে তিন বছর বয়সে তিনি আমেরিকাতে চলে আসেন ও বর্তমানে ফ্লোরিডাতে বসবাস করছেন।

, , , , ,