ইউএস ওপেন ২০১৮ঃ নিজের আদর্শকে হারিয়ে নাওমি ওসাকা এখন জাপানের গর্ব

নাওমি ওসাকার স্বপ্নের জয়? বিতর্কে ধোঁয়াউড়লেও তা বলাই যায়। ফাইনালে শৈশবের আদর্শ খেলোয়াড়কে হারিয়ে শিরোপা জয়ের এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। নাওমি ওসাকার ক্ষেত্রে কিন্তু তা ঘটেনি। যতই সেরেনার ভক্ত হোন না কেন কোর্টে তার মুখোমুখি হয়ে নাওমি নিজেই নিজেকে বলেছেন আমি সেরেনা ভক্ত নই। আমি একজন সাধারন খেলোয়াড় যে আরেক জন খেলোয়াড়ের মুখোমুখি হয়েছে।

ইউএস ওপেন ২০১৮ঃ নিজের আদর্শকে হারিয়ে নাওমি ওসাকা এখন জাপানের গর্ব
Source: Yahoo Sports

নাওমির সেই আরেকজন খেলোয়াড় ওপেন যুগে সর্বোচ্চ ২৩ গ্র্যান্ডস্লাম জয়ী সেরেনা উইলিয়ামস। সেরেনা তার শৈশবের আদর্শ। ৩৬ বছর বয়সী সেরেনার খেলা দেখেই বড় হয়েছেন নাওমি। স্বপ্ন দেখেছেন একদিন ইউএস ওপেনে আদর্শের মুখোমুখি হবেন। নাওমি সেই স্বপ্ন ছুঁলেন কুড়ি বছর বয়সেই। ফ্লাশিং মিডো এর নীলচে কোর্টে স্বপ্ন জয় করলেন নাওমী। সেই ইউ এস ওপেনে মেয়েদের একক ফাইনালে সেরেনা কে ৬-২,৬-৪ সেটে হারিয়ে টেনিস ইতিহাসে নতুন পাতা খুললেন চেরি ফুলের দেশের কন্যা।

জাপানের নামটি সেই নতুন পাতায় এখন সোনার অক্ষরে লেখা। নাওমির আগে জাপান থেকে কেউ কখনো গ্র্যান্ডস্লামের একক শিরোপা জিততে পারেননি। জাপানে তাই এখন চলছে নাওমিকে অর্ঘ্য দেওয়ার উৎসব। কিছুদিন আগে টাইফুনে বিপর্যস্ত দেশটিতে শোক ভোলার উপলক্ষ এনে দিয়েছেন নাওমি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের টুইটারে জানান জাপানের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে শীরোপা জয় করে জাপানকে লড়ার শক্তি ও প্রেরণা যোগানো জন্য ধন্যবাদ।

জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপে ভূমিকম্পে হতাহত দেখতে যাওয়ার পথে এই টুইট করেন শিনেজা আবে। এই দ্বীপে বসত করেন তেতসুয়ো ওসাকা নাওমির নানা। নিউ ইয়র্কে নাতনির ইতিহাস গড়া দেখে জীবন সঙ্গীকে নিয়ে সম্পুর্ন খেলাটি উপভোগ করেন এবং আনন্দ কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ইউএস ওপেন ২০১৮ঃ নিজের আদর্শকে হারিয়ে নাওমি ওসাকা এখন জাপানের গর্ব
Source: Sporting News

তেতসুর এই নাতনি সে তিন বছর বয়স থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। হাইতিয়ান বাবা ও জাপানিজ মায়ের সঙ্গে থাকেন ফ্লোরিডায়। জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক নাওমি। হ্যারল্ড সালমান ইনস্টিটিউটে টেনিস দীক্ষা এরপর ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা। সেই পথ চলায় এ বছর ইন্ডিয়ান ওয়েলস জয়ের পর বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্লাম এসে নাওমি পেলেন অমরত্বের সাদ। জাপানের হয়ে পরে হয়তো অনেকেই গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতবেন কিন্তু প্রথম জয়ের কৃতিত্বটা অমোচনীয়।

এই অমোচনীয় কৃতিত্য অর্জনের আনন্দে জাপানের খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যম আসাহি শিম্বুন অতিরিক্ত সংস্করণ বের করে তা বিলি করেছে। সে সংস্করণটি শুধুই না নাওমিকে উৎসর্গ করে। জাপানের টেনিস প্রেমীরা উৎসব করেছেন নাওমির জয়ের আনন্দে। এদিকে সংবাদ সম্মেলনে জাপানের সংবাদ মাধ্যমের সামনে তাকে পড়তে হয়েছে বেকায়দায়।

সমস্যাটা তার জন্য নতুন কিছু নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠার কারনেই জাপানিজ ভাষাটা সে ভাবে রপ্ত করতে পারেননি। বলতে গিয়ে কোথাও বেঁধে গেলে সেটুকু ছেড়ে দেন ইংরেজিতে। জাপানিজরা কিন্তু নাওমির এই দুর্বলতাকে দেখছে ইতিবাচক চোখে।

এক নামি ভক্ত টুইটারে বলেছেন “ তার সাক্ষাৎকারি বলছে সে নির্ভেজাল মানুষ। জাপানের কোথায় জন্মেছে, কোথায় বড় হয়েছে, চামড়ার রঙ কি? বা ভাষা কোন সমস্যা নয় তুমি জাপানের গর্ব। ”

ইউএস ওপেন ২০১৮ঃ নিজের আদর্শকে হারিয়ে নাওমি ওসাকা এখন জাপানের গর্ব
Source: WTA

চীনের লি-না’র পর দ্বিতীয় এশিয়ান হিসেবে গ্র্যান্ড স্লাম জিতলেন নাওমি। তাও আবার মাত্র ৫ বছর আগে পেশাদার টেনিসে আসার পর। প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্টের পারেখে ছিলেন ২ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে। ইন্ডিয়ানা ওয়েলসে শারাপোভা, প্লিশকোভা, সালেপদের হারিয়ে শিরোপা জয়ের পরের সপ্তাহে হারিয়েছিলেন সেরেনাকে। তখন কে জানত সেই হার ছিল এই হারের ড্রেস রিহার্সেল।

নাওমি নিজেও জানতেন না। তাই ইউএস ওপেনের শিরোপা হাতে আনন্দে ভেসে না গিয়ে থেকেছেন সংযত। বোঝার চেষ্টা করেছেন সেরেনার কষ্ট। চেয়ার আম্পায়ারের সঙ্গে গোটা ম্যাচে সেরেনার বাকবিতণ্ডায় নষ্ট হয়েছে ম্যাচের সৌন্দর্য।

তবে নাওমিকে ঠিকই অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন কৃষ্ণকলি। তিনি বলেছেন সে ভালো খেলেছে এটিই তার প্রথম গ্র্যান্ডস্ন্যাম চলুন সবাই মিলে মুহূর্তটা তার জন্য স্মরণীয় করে তুলি। আর নাওমির ভেজা চোখে মুখে ফুটলো চিরায়িত জাপানিজ ভদ্রতা। ম্যাচটা এভাবে শেষ হয়াতে খারাপ লাগছে।

ঠিকই তো আদর্শকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের উৎযাপন টা না হয় ঘরে ফিরেই হবে। তার আগে প্রতিপক্ষের ব্যথা বুঝে নিজেকে সংযত রাখতে পাড়াতেই জাত খেলোয়াড়ের পরিচয়।

, , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,