আইরিশদের টেস্ট অভিষেক আর ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের আফসোস

১৪১ বছর ধরে ব্রিটিশদের অংশ হিসেবে  ক্রিকেটের সাথে থাকা আইরিশদের টেস্ট অভিষেক হয়ে গেল গত ১১ই মে। ক্রিকেটের কুলীন পরিবারে অভিষেকটা  কেমন ছিল তাঁদের? এর উত্তর এখন সবারই জানা। এ প্লাস না পেলেও বেশ ভাল ভাবেই টেস্টের টেস্টে উতরে গেছে আইরিশরা। আর যাই হোক আপনার নুন্যতম ক্রিকেট জ্ঞান থাকলে অন্তত এটা বলবেন না যে তাঁরা টেনেটুনে পাশ করেছে।

সেক্ষেত্রে প্রথমে চলুন আইরিশদের এই ম্যাচের ম্যাচ সামারিটা এক নজরে দেখে আশা যাক

আয়ারল্যান্ড বনাম পাকিস্তান, ম্যালাহাইড, ডাবলিন
টস: আয়ারল্যান্ড
পাকিস্তান ১ম ইনিংস        ১০/ ডিক্লি.(৯৬ ওভার)

ফা আশরাফ ৮৩        মুরটাঘ ৪/৪৫

আয়ারল্যান্ড ১ম ইনিংস  ১৩অলআউট(৪৭.২ ওভার)

কে. ও’ব্রায়েন ৪০        আব্বাস ৪/৪৪
আয়ারল্যান্ড ২য় ইনিংস(ফঃঅ) ৩৩৯অলআউট(১২৯.৩ ওভার)
কে. ও’ব্রায়েন ১১৮       আব্বাস ৫/৬৬
পাকিস্তান ২য় ইনিংস         ১৬০/ (৪৫ ওভার)
ইমাম উল হক ৭৪*       মুরটাঘ ২/৫৫

আসলে আইরিশদের অভিষেকটা হওয়ার কথা ১১ তারিখে থাকলেও বৈরী আবহাওয়া করনে তা হয় এক দিন পরে। তার মানে তাঁদের টেস্ট অভিষেক হয় চার দিনের এক টেস্ট ম্যাচ দিয়ে।

সে যাই হোক টসে জিতে তারুণ্য নির্ভর পাকিস্তান ব্যাটিং লাইন আপকেই ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান আইরিশ ক্যাপ্টেন উইলিয়াম পটারফিল্ড। আর সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মানটা ভালই করেছিল তাঁর দলের বোলারেরা। চা বিরতির আগেই  পাকিস্তানের টপ আর মিডিল দুই অডারই শেষ করে দিয়েছিল তাঁরা। কিন্তু ১৫৯ রানে ৬ উইকেট খোয়ানো পাকিস্তানের ত্রাতা হয়ে আসেন আবার ওই আন্তর্জাতিক টেস্টে অনভিজ্ঞ আইরিশ ফিল্ডাররাই। দুইবার সহজ ক্যাচ মিচ হওয়া পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান ফাহিম আশরাফ দলকে ৩০৯ রানের মোটামুটি ভাল সংগ্রহ এনে দেয়।

আর অনভিজ্ঞ আইরিশ ব্যাটিং লাইনআপ বিশ্বের অন্যতম সেরা পেস আক্রমনের সামনে কতক্ষন দাড়াতে পারবে সেটা নিয়েই ভয় ছিল সবার। সেই ভয়কেই সত্যি করে মাত্র ১৩০ রানেই আইরিশদের প্রথম ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।

পাকিস্তানি অধিনায়ক সরফরাজ আবারো ফলোঅন করতে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আইরিশদের। কিন্তু এ যাত্রায় বেশ ভাল শুরুই করে আইরিশরা। বিনা উইকেটে ৬৫ রানে দিন শেষ করা আইরিশদের চতুর্থ দিনের শুরুটা ভাল ছিল না। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা আইরিশদের ত্রাণকর্তা হয়ে আসেন অভিজ্ঞ কেভিন ও’ব্রায়েন, সাথে সঙ্গী হিসেবে ছিলেন থমসন। দুজনের ১১৪ রানের ৭ম উইকেট জুটিতে ইনিংস হার এড়ানোর সাথে সাথে বড় লিডের স্বপ্নও দেখতে থাকে আইরিশরা। কেভিন ও’ব্রায়েন টেস্ট ইতিহাসের মাত্র ৪র্থ খেলোয়াড় হিসেবে নিজের দেশের অভিষেক ম্যাচে করেন মহাকাব্যিক এক সেঞ্চুরি।

কিন্তু পঞ্চম দিনের শুরুতেই শেষ হয়ে যায় আইরিশদের দ্বিতীয় ইনিংস। শেষ ৩ উইকেটে আর মাত্র ২০ রানই সংগ্রহ করতে পারে তাঁরা। মাত্র ১৬০ রানের লক্ষ পায় পাকিস্তান। আর এই পুঁজিতেই এক পর্যায়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে টেস্ট আঙিনার নবজাতক এই আইরিশ দলটি। মাত্র ১৪ রানেই পাকিস্তানের ৩ উইকেট তুলে নেয় তাঁরা। কিন্তু ইনজামামের ভাতিজা ইমাম-উল-হক আরেক ব্যাটসম্যান বাবর আজমকে সঙ্গী করে আইরিশদের স্বপ্ন আর বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্যটা বুঝিয়ে দেন। দলকে ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন এই তরুন ব্যাটসম্যান। আরো একটি আইরিশ রুপকথার রচনা না হলেও ক্রিকেট প্রেমীদের হৃদয়ে ঠিকই  জায়গা করে নিয়েছে টেস্টে খেলুড়ে আইরিশরা।

যদিও ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে এই পাকিস্তানকে বধ করেই ক্রিকেট বিশ্বেকে নিজেদের অস্তিত্বের কথা জানান দিয়েছিল আয়ারল্যান্ড। কিন্তু আর মাত্র ১ বছর পরেই ঘরের আঙিনার ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে পড়েছে আইরিশরা। বিশ্বায়নের এই যুগেও ক্রিকেট বিশ্বকাপকে আরো সংকুচিত করে ১০ দলের টুর্নামেন্ট করে ফেলায় সুযোগ মেলে নি আইরিশদের। টেস্ট ক্রিকেটের শুরুটাও তাদের এই দুঃখ ভুলাতে পারছে কই। এই যেমন পোর্টারফিল্ড মনের আক্ষেপে বলেই ফেলেন, ” (বিশ্বকাপটা) আপনাকে হইচই ফেলার সুযোগ করে দেয়। বিশ্বকাপ ১০ দলের হয়ে যাওয়ায় বাদ পড়াটা খুবই হতাশা জনক। আমার মনে হয় বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ না পেলে আমরা আজ টেস্ট খেলতে পারতাম না।”

শুধু আইরিশদেরই নয় বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ না পেলে হয়তো বাংলাদেশেরও আজ টেস্ট খেলা হত কিনা কে জানে! তবে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে টেস্ট খেলুড়ে ১২ দলের বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ নিশ্চিত করতে না পারাটা আইসিসির জন্যে চড়ম এক ব্যর্থতাই বলতে হবে।

Related Post

, , , , , ,

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।