আইপিএল রেকর্ড: ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৫ টি অক্ষত আইপিএল রেকর্ড

আইপিএলআজ এই ২০১৮ সালে আইপিএল তার ১০ম সংস্করণে পা দিয়েছে। বছরের পর বছর ধরে অনেক কিছুতেই অনেক  পরিবর্তন হয়েছে। প্রতিটি নতুন মৌসুমে  আইপিএল তার আগের মৌসুমকে ছাড়িয়ে গেছে। স্পষ্টতই, আমরা এর বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ সম্পর্কে কথা বলছি, কিন্তু মাঠের পারফর্মেন্সের কথা বিবেচনা করলেও এই পরিবর্তনের হার তেমন একটা পিছিয়ে নেই।

প্রতিবছর আইপিএল এর জন্য আনুমানিক বাজেট বাড়ছে। ফ্রাঞ্চাইজি গুলো প্রত্যেক নিলামে দেদারছে ডলার ওড়াচ্ছে আর খেলোয়াড়েরাও নিজেদের সেই ডলারের যোগ্য প্রমাণ করতে নিজেদের সেরাটাই ঢেলে দিচ্ছেন। আর  আইপিএলের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই তৈরি হচ্ছে কোন না কোন রেকর্ড। প্রকৃতপক্ষে, ক্রিকেট খেলাটিই প্রতিটি বলের জন্য রেকর্ড সংরক্ষণের একটি খেলা আর  আইপিএলও এর ব্যতিক্রম নয়।

তবে ২০০৮ সালের উদ্বোধনী মৌসুমে যে কয়েকটি রেকর্ড তৈরি হয়েছিল তা এখনো পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। বস্তুত, আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ আশ্চর্য হবেন যে, এখন পর্যন্ত এই রেকর্ডটি কীভাবে অক্ষত থাকবে?

চলুন সেই রেকর্ড গুলোই এখন দেখে নি

# একজন ফিল্ডার হিসেবে টেন্ডুলকারের এক ম্যাচে সর্বাধিক ক্যাচের রেকর্ড

শচিন টেন্ডুলকার
Source: aajtak.intoday.in

আইপিএলের প্রথম সংস্করণে শচিন টেন্ডুলকার অনন্য এই রেকর্ডটি গড়েন। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স বনাম কলকাতা নাইট রাইডার্সের ম্যাচে এই ঘটনাটি ঘটেছিল। তিনি ৪ টি ক্যাচ লুফে নেন আর তাতে আউট হন সালমান বাট, হৃদ্ধিমান সাহা, অজিত আগারকার ও শোয়েব আখতার। যদিও জ্যাক ক্যালিস এবং ডেভিড ওয়ার্নার এই রেকর্ড ছুঁয়েছিলেন কিন্তু তাঁদের আর সেটা ভাঙা হয় নি, আর তাই এই রেকর্ডটি এখনো অক্ষতই রয়ে গেছে।

# এক ইনিংসে ডেকান চার্জারস এর  সর্বোচ্চ অতিরিক্ত রান দেয়ার রেকর্ড

Deccan Charger
Source: cricketcountry.com

এটি এমন একটি রেকর্ড যেটা নিয়ে এখন অ-বিদ্যমান ফ্রাঞ্চাইজি ডেকান চার্জারস গর্বিত হবে না। ২০০৮ সালের ২০ এপ্রিল প্রথম আইপিএলের চতুর্থ ম্যাচে ডেকান চার্জারস এর বোলাররা মাত্র ১১০ রান পুঁজি করে লড়ছিল, কিন্তু হিসেবের মাথা খেয়ে ২৮ রানই অতিরিক্ত দিয়ে ফেলে তাঁরা। আর সেই অতিরিক্ত রানের মধ্যে ছিল ১৫ টি ওয়াইড বল, ১ টি নো বল, ৮ টি লেগ বাই এবং ৪ টি বাই।

# সর্বনিম্ন ম্যাচ সমষ্টিকেকেআর এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মোট ১৩৫ রান

KKR
Source: DreamyHub

কলকাতা নাইট রাইডার্স সেই ম্যাচে মুম্বাই ইইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৭ রানেই গুটিয়ে যায়। তারপর এই ছোট্ট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে  বিনা বাধাতেই  মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ৬৮ রান  করে ফেলে। আর তাতেই এই ম্যাচের সর্বমোট রানের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩৫ রান। এখনও পর্যন্তও আইপিএল ইতিহাসে কোনও ম্যাচেই এত কম রানের ঘটনা ঘটেনি। মুম্বাই ইন্ডিয়ানস মাত্র ৫.৩ ওভারেই ৮৭ বল বাকি থাকতেই সেই লক্ষ্যে পৌঁছে গিয়েছিল। এটিও একটি অক্ষত রেকর্ড।

# রাজস্থান রয়্যালসের সর্বোচ্চ রান  তাড়া করে জয়ের রেকর্ড

Rajasthan Royals
Source: Sports-nova

আইপিএলে সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া করার রেকর্ডটি রাজস্থান রয়্যালসের এবং এটিও সেই ২০০৮ সালে আইপিএলের উদ্বোধনী মৌসুমে এটি ঘটেছিল। লিগ  পর্যায়ে ম্যাচে হায়দ্রাবাদের বিলুপ্ত ফ্রাঞ্চাইজি ডেকান চার্জার্সের বিরুদ্ধে এই বীরত্বপূর্ণ জয় পেয়েছিল রাজস্থান রয়েলস। এন্ড্রু সাইমন্ডসের ৫৩ বলে অপরাজিত ১১৭ রানে ৫ উইকেটে ২১৪ রানের বিশাল সংগ্রহ দাড় করায় চার্জারসরা।  জবাবে গ্রায়েম স্মিথের ৪৫ বলে ৭১, ইউসুফ পাঠানের ২৮ বলে ৬১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস এবং ক্যাপ্টেন শেন ওয়ার্নের ৯ বলে ২২ রানের অপরাজিত ইনিংসে মোট দলীয় সংগ্রহ ২১৭/৭ করে ৩ উইকেটের অনবধ্য এক জয় তুলে নেয় রাজস্থান রয়েলস। আর আইপিএল ইতিহাসে এটি এখনও সবচেয়ে সফল রান তাড়া করার রেকর্ড।

# ইনিংসে সেরা বোলিংয়ের ফিগার/১৪

sohail tanvir Rajasthan Royals
Source: Sportswallah

এই রেকর্ডটি সোহেল তানভীরের। আইপিএলের প্রথম শিরোপা জয়ী দল রাজস্থান রয়্যালসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালের ৪ মে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে তিনি ৬ টি উইকেট তুলে নেন। রাজস্থান রয়্যালসের সেবারের   লিগ শিরোপা অর্জনের পিছনে তানভীরের দুর্দান্ত বোলিংয়ের অবদান ছিল অপরিসীম। তিনি  ছিলেন সেই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি এবং তাঁর সেই  ৪-০-১৪-৬ বোলিং ফিগারটিই আইপিএল ইতিহাসে এখনো সেরা।

আইপিএলে এখন পর্যন্ত এই রেকর্ডগুলিকে অক্ষত দেখাটা সত্যিই আশ্চর্যজনক। আপনার কাছেও যদি এই রকম অন্য কোন গল্প থেকে থাকে তবে তা  কমেন্ট বক্সে আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। আপনাদের কাছ থেকে সাড়া পেলে আমরা যথেষ্ট আনন্দিত হব।

, , , , , , , , , , , , ,